default-image

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শেষ ছয় ইনিংসে ১১২*, ১৩২*, ৭৭, ২৪, ২৮ ও ৬৩ রান। এরপর জাতীয় ক্রিকেট লিগে টানা তিন ইনিংসে ২২৭, ১৬৩ ও ২০১। ৫ সেঞ্চুরিতে সর্বশেষ ৯ ইনিংসে ১০২৭ রান। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট মাস দুয়েক ধরেই যেন রনি তালুকদারের খাসতালুক।
এবারের জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ডে মিরপুরে বরিশালের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি পর দ্বিতীয় রাউন্ডে ফতুল্লায় ঢাকা মহানগরের বিপক্ষে ১৬৩। এরপর কাল বিকেএসপিতে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ২০১। টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরি করে ২৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান ছুঁয়ে ফেললেন তামিম ইকবালের কীর্তি। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরি আছে শুধু এ দুজনেরই। তামিম ২০১২-১৩ মৌসুমের জাতীয় লিগে পেয়েছিলেন টানা তিন সেঞ্চুরি।
শুধু রনিই নন, রান পাচ্ছেন উদ্বোধনী জুটিতে তাঁর সঙ্গী আবদুল মজিদও। দ্বিতীয় রাউন্ডে অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি করা মজিদ কাল করেছেন ১১৩ রান। দুজনের জুটিতে এসেছে ৩০৪। দুজনের ঠিক আগের জুটিটিতেই রান এসেছিল ৩১৪। জাতীয় লিগের ১৫ বছরের ইতিহাসে আর কোনো উদ্বোধনী জুটিতে ২৭০ রানের বেশি হয়নি।
২৪০ বলে ২২ চার ও ৭ ছয়ে ২০১ রান রনির, মজিদ ১১৩ রান করেছেন ২৪৮ বলে ১৭ চারে। দলীয় ৩০৪ রানে মজিদের বিদায়ের পর ৩৪২ রানে আউট রনি। মাঝে ফিরে গেছেন নাসিরউদ্দিন ফারুক। প্রথম দুই ম্যাচই ইনিংস ব্যবধানে জেতা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ইনিংসে বাজে সময় বলতে এই। এরপর পঞ্চম উইকেটে ১৬৩ রান যোগ করেন রকিবুল হাসান ও শুভাগত হোম। রকিবুল ৮৯ করে আউট হয়ে গেলেও শুভাগত হোম দিন শেষে অপরাজিত ৮৭ রানে। ৪ উইকেটে ৫১৮ রান তুলে চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৩৬৩ রানে এগিয়ে ঢাকা বিভাগ।

default-image

কাল মাত্র ৬ রানের জন্য টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরি পাওয়া তৃতীয় ব্যাটসম্যানকে পায়নি জাতীয় লিগ। মিরপুরে রংপুরের বিপক্ষে ৯৪ রানে আউট হয়ে সুযোগটি হারিয়েছেন খুলনার ইমরুল কায়েস। জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় রাউন্ডে পেয়েছিলেন জোড়া সেঞ্চুরি।
বিকেএসপির অন্য মাঠে এনামুল হকের মাইলফলক ছোঁয়ার দিনটা ভালো যায়নি তাঁর দল সিলেটের। ৪ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে দিন শেষ করা সিলেট রাজশাহীর প্রথম ইনিংসের চেয়ে পিছিয়ে আছে ৩৮৬ রানে। এর আগে ফরহাদ রেজাকে অলক কাপালির ক্যাচ বানিয়ে শততম ম্যাচে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন এনামুল। এই বাঁহাতি স্পিনারের প্রথম শিকার খুলনার আসাদুল্লাহ খান, ২০০২ সালের জাতীয় লিগে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা-রংপুর, মিরপুর
রংপুর ১ম ইনিংস: ১০৬.২ ওভারে ৩১০ (আরিফুল ৬৮, তারিক ৬৩, মাহমুদুল ৪৬, নাঈম ৪৪, ধীমান ৩১; জিয়া ২/১৭, রবি ২/২৪, মোস্তাফিজুর ১/৪২, মুরাদ ১/৫৬, ডলার ১/৭০, রাজ্জাক ১/৯৪)। খুলনা ১ম ইনিংস: ৬৬ ওভারে ২১৩ (ইমরুল ৯৪, অমিত ৪৭; মাহমুদুল ৫/৭৬, সঞ্জীব ৪/৩৫, শুভাশিস ১/৩৯)।
ঢাকা মহানগর-বরিশাল, ফতুল্লা
ঢাকা মহানগর ১ম ইনিংস: ১৪১.৩ ওভারে ৪০০ (সাদমান ১৪০, আসিফ ৮৬, মার্শাল ৫৬, শামসুর ৪৭, জাবিদ ২৪, শরীফউল্লাহ ২০; আল আমিন ৫/৪৯, কামরুল ২/৮৪, নাসুম ২/১১১, সোহাগ ১/৯১)। বরিশাল ১ম ইনিংস: ৩৯ ওভারে ১৪১/০ (শাহরিয়ার ৭৯*, সাঈফ ৫৫*)।
রাজশাহী-সিলেট, বিকেএসপি-২
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ১৪৯.৩ ওভারে ৪৮২ (মাইশুকুর ১৫৮, জুনায়েদ ১১২, ফরহাদ হোসেন ৮৭, তারেক ৪৯, হাবিবুর ৩২; এনামুল জু. ৪/১৩৭, রাহাতুল ২/৪৭, অলক ২/৮৭, সাদিকুর ২/১২৯)। সিলেট ১ম ইনিংস: ৩২ ওভারে ৯৬/৪ (অলক ২৮*, রাহাতুল ২৮; সাকলাইন ২/৪৯, সানজামুল ১/২২, মুক্তার ১/২৩)।
ঢাকা বিভাগ-চট্টগ্রাম,
বিকেএসপি-৩
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ১৫৫। ঢাকা বিভাগ ১ম ইনিংস: ১২২ ওভারে ৫১৮/৪ (রনি ২০১, মজিদ ১১৩, রকিবুল ৮৯, শুভাগত ৮৭*; নাঈম জু. ২/৬৮, মেহেদী ১/১০১, ইউনুস ১/১২৪)।

default-image

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা পাঁচ বোলার
ম্যাচ ওভার রান উইকেট সেরা গড় ৫/১০
এনামুল হক জু. ১০০* ৪০৩৪.০ ১১৮৩৭ ৪০০ ৭/৪৭ ২৯.৫৯ ৩০/৫
আবদুর রাজ্জাক ৭৫* ৩১২০.৫ ৮৭৮২ ৩২৪ ৯/৮৪ ২৭.১০ ১৭/৬
মোহাম্মদ শরীফ ১০০ ২৬০৮.০ ৮৬১৮ ৩২২ ৬/২৪ ২৬.৭৬ ১৫/৩
ইলিয়াস সানি ৮৩* ২৭৩১.০ ৭৯১১ ২৮৪ ৭/৭৯ ২৭.৮৫ ১২/১
মোশাররফ হোসেন ৬৭* ২৬৩৬.৩ ৬৬৩৮ ২৭২ ৯/১০৫ ২৪.৪০ ১৩/৩
নাবিল সামাদ ৮০ ২৯৯৯.৪ ৭৪৪৫ ২৭২ ৮/৬১ ২৭.৩৭ ১৪/২
*ম্যাচ চলছে

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন