default-image

রোলার কোস্টার রাইড ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে গোটা ব্যাপারটাকে? যত নাটকের পর কাল লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে নেমে ঝড় তুললেন শহীদ আফ্রিদি, রোলারকোস্টারের মতোই উত্থান-পতন আর রোমাঞ্চের চেয়ে সেটি কোনো অংশে কম! বহুদিন পর ভয়ংকর আফ্রিদির দেখা মিলল। যদিও সেটা দলকে জেতাতে যথেষ্ট ছিল না।

বিশ দিন আগে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগের গল গ্ল্যাডিয়েটরস ফ্র্যাঞ্চাইজি ঠিকঠাক জানতও না, কে করবেন তাঁদের অধিনায়কত্ব। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে আনা হলো অধিনায়ক হিসেবে। জানা গেল, একই সময়ে জাতীয় দলের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী সরফরাজ শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে যাবেন না। সরফরাজ বাদ, এলেন লঙ্কার ঘরের ছেলে লাসিথ মালিঙ্গা। টুর্নামেন্ট শুরু এক সপ্তাহ আগে শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই বোলার জানিয়ে দিলেন, করোনা-কোয়ারেন্টিনের কারণে বহুদিন খেলাটেলা হয় না, এই ফিটনেস নিয়ে খেললে সেটা গল গ্ল্যাডিয়েটরসের জন্যই মন্দ হবে। ব্যস, মালিঙ্গাও বাদ। এখন?

বিজ্ঞাপন

ত্রাতা হয়ে এলেন শহীদ আফ্রিদি। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলা এই ধুমধাড়াক্কা অলরাউন্ডার, পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ককে নিজেদের বিকল্প অধিনায়ক বানাল গল। কিন্তু সমস্যা ছিল সেখানেও। কিছুদিন আগেই যে করোনায় আক্রান্ত ছিলেন আফ্রিদি! খেলতে পারবেন তো আদৌ?

সে চিন্তাও পরে, আগে আফ্রিদির পা লঙ্কায় তো পড়ুক, সেটাই যে পড়ছিল না! পাকিস্তান থেকে শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার ফ্লাইট মিস করে বসেন এই তারকা। কোয়ারেন্টিন কাটিয়ে আদৌ গলের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামতে পারবেন কি না, ছিল সংশয়। এদিকে-ওদিকে শোনা যাচ্ছিল, প্রথম দুই ম্যাচেই হয়তো আফ্রিদিকে ছাড়া নামতে হতে পারে গলকে।

এখানেই হুট করে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হলো, আর কেউ নয়, করোনাভাইরাস! ওই যে, আফ্রিদির একবার করোনা হয়েছিল? শ্রীলঙ্কায় নেমেই নিয়মিত করোনা পরীক্ষা না করিয়ে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করালেন আফ্রিদি। আশা একটাই, আফ্রিদি যেহেতু করোনাজয়ী, তাঁর শরীরে করোনারোধী অ্যান্টিবডি থাকবেই। সেটা শুধু লঙ্কান কর্মকর্তাদের সামনে প্রমাণ করে ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষা। ম্যাচের দিনেই জানা গেল, আফ্রিদির শরীরে আসলেই প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডির উপস্থিতি আছে। করোনা নেই আফ্রিদির।

default-image

ব্যস, ব্যাট হাতে নেমে পড়লেন দলকে উদ্ধার করতে। ২৩ বলে ৫৮ রানের ধুন্ধুমার এক ইনিংস খেললেন, মারলেন ৩টি চার, ৬টা ছক্কা। লাভ হয়নি যদিও, জফনা স্ট্যালিয়নসের আভিষ্কা ফার্নান্দোর ঝড়ে উড়ে গেছে গল। বল হাতে উইকেট না পেলেও বেশ আঁটসাঁট বোলিং করেছেন আফ্রিদি—৪ ওভারে দিয়েছেন ২০ রান। যোগ্য অধিনায়কের মতোই নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। কিন্তু সতীর্থরাই যদি সাহায্য না করেন, অধিনায়ক একা আর কত করবেন?

এত কিছু করেও তাই পরাজয়ের তেতো স্বাদই জুটেছে আফ্রিদির কপালে। স্ট্যালিয়নস ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দো ৬৩ বলে ৫ চার ও ৭ ছক্কায় করেছেন ৯২ রান, তাতে আফ্রিদির গলের ১৭৬ রানের লক্ষ্য ৮ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়ে যায় স্ট্যালিয়নস।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন