বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওয়ার্ন জানিয়েছেন, সেলিম মালিকের কথায় রীতিমতো হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি, ‘ম্যাচের চতুর্থ দিন সন্ধ্যায় হঠাৎ আমার হোটেল কক্ষে একটা ফোন আসে। অন্য প্রান্ত থেকে ফোনে ছিল সেলিম মালিক। সে একটু কথা বলতে চায়। আমি তাঁকে কক্ষে আসতে বলি। এসেই এ কথা, সে কথায় মালিক বলেন, “ওয়ার্ন, তোমাদের এই টেস্টটা হেরে যেতে হবে।” আমি বলি, “কেন! এই টেস্ট আমরাই জিতব।” মালিক তখন বলেন, “তুমি তো পাকিস্তানের মানুষকে চেনোই। তারা কী পরিমাণ ক্রিকেট–পাগল। আমরা যদি হেরে যাই, তাহলে তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাবে। আমাদের বাড়িঘরে তারা আগুন জ্বালিয়ে দেবে।”’

ওয়ার্ন জানিয়েছেন, তিনি সঙ্গে সঙ্গেই মালিককে ‘না’ করে দেন। পাকিস্তান অধিনায়ক যখন ওয়ার্নকে এ প্রস্তাব দেন, তখনো ম্যাচে দুই দলের জেতার সম্ভাবনাই ছিল। শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট আর পাকিস্তানের ১৬০ রান। ম্যাচ হারতে বাজে বোলিং করতে ওয়ার্ন ও টিম মেকে ২ লাখ মার্কিন ডলার দিতে চেয়েছিলেন সেলিম মালিক।

default-image

সেই ঘটনার পর মালিকের কুকীর্তি ফাঁস হতে আরও ৬ বছর লেগে যায়। এই সময় তিনি বহাল তবিয়তে পাকিস্তান দলের হয়ে খেলে গেছেন। দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও ছিলেন। নব্বই দশকে সেলিম মালিকবিহীন পাকিস্তান দল কল্পনাও করা যেত না। এরপর তিনি ১৯৯৬ ও ১৯৯৯ সালে দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপও খেলেছেন। ২০০০ সালের দিকে ম্যাচ পাতানো নিয়ে হ্যানসি ক্রোনিয়ে নিজের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করার পরপরই ক্রিকেটের অন্ধকার দুনিয়ায় চোখ পড়ে সবার। বেরিয়ে আসতে থাকে বিভিন্ন নাম, যারা ম্যাচ পাতানোর বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন ও সেলিম মালিক আজীবনের জন্য ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার হন। বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয় দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার নিকি বোয়ে ও ভারতীয় তারকা মনোজ প্রভাকর, অজয় শর্মা ও অজয় জাদেজাকে।

পরে আজহারউদ্দিন আদালতের শরণাপন্ন হয়ে শাস্তি থেকে মুক্তি পান। মালিক অবশ্য এখনো পাকিস্তান ক্রিকেটের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ। সম্প্রতি তিনি নিজের নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়ার আবেদনও করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে।

তথ্যচিত্রটি কিছুদিন পরই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আমাজন প্রাইমে দেখানো হবে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন