বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালেও পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। প্রতিপক্ষ হিসেবে এবার ইংল্যান্ডকে পায় কিউইরা। সবাই ভেবেছিল, এবার বোধ হয় বিশ্বকাপটা নিউজিল্যান্ডের হাতে উঠবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হয়ে আবারও রানার্সআপের মেডেল গলায় ঝুলিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় নিউজিল্যান্ডকে। সে ম্যাচে নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা টাই হলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। কিন্তু সুপার ওভারের খেলাও টাই হলে মূল ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোয় ম্যাচটি জিতে যায় ইংল্যান্ড। বুক ভাঙে বিশ্বের হাজারো নিউজিল্যান্ড–সমর্থকের।

সেই ম্যাচ প্রভাব ফেলেছিল নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যেও। ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেন নিশাম। ম্যাচটি হেরে তিনি এতই কষ্ট পেয়েছিলেন যে টুইট করে তরুণদের রীতিমতো নিষেধই করেছিলেন ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নিতে। তিনি লিখেছিলেন, ‘বাচ্চারা, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ো না। কেক-বিস্কুট বানাও বা অন্য কোনো ধরনের কাজ করো এবং ৬০ বছর বয়সে মোটাসোটা হয়ে আনন্দের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করো।’

default-image

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ফাইনাল শুরুর আগেই শিরোনাম হয়ে যান নিশাম। প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড। সেই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১১ বলে ২৭ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই অলরাউন্ডার।

শেষের দিকে যখন ড্যারিল মিচেলের একের পর এক বাউন্ডারি নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালের দিকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, উল্লাসে ফেটে পড়ছিল পুরো নিউজিল্যান্ড শিবির। কিন্তু সবার মধ্যে থেকেও যেন ছিলেন না নিশাম। আনন্দে আত্মহারা নিউজিল্যান্ডের বাকি সবার থেকে আলাদা হয়ে এক পাশে গোমড়ামুখো হয়ে বসে ছিলেন তিনি, যেন জেতার বদলে হেরে যাচ্ছে তাঁর দল।

default-image

ম্যাচ শেষে সবার মুখে ছিল একটাই প্রশ্ন, কী হয়েছে জিমি নিশামের? সবার এত কৌতূহল দেখে মুখ না খুলে পারেননি নিশাম, এক টুইটে জানিয়েছেন যে ফাইনাল জেতার আগপর্যন্ত আনন্দ করার কোনো মানে হয় না। ইএসপিএন ক্রিকইনোফো তাঁর গোমড়া মুখের একটা ছবি টুইট করে। সেই ছবিই রিটুইট করে নিশাম লেখেন, ‘কাজ কি শেষ হয়ে গেছে? আমার তো সেটা মনে হয় না।’

ফাইনাল জেতার পরই উদ্‌যাপনটা করতে চেয়েছিলেন নিশাম। কিন্তু ফাইনালটা যে তাঁর জেতা হচ্ছেই না। কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর যেমন হতোদ্যম হয়ে গিয়েছিলেন, এবার সে রকমটা হচ্ছেন না। এবার বেশ আশাবাদীই আছেন। অন্তত তাঁর টুইট দেখে এমনটাই মনে হয়। ম্যাচ শেষ হোটেলে গিয়ে তিনি টুইট করেছেন, ‘৩৩৫ দিন।’

default-image

৩৩৫–এর অর্থটা আসলে কী?

আগামী বছরের ১৬ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২। সাধারণত দুই বছর পরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড-১৯–এর কারণে ২০২০ সালের বিশ্বকাপটি আয়োজন করা হয় ২০২১ সালে। ফলে এক বছরের কম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি বিশ্বকাপ। টুইট করে নিশাম সেই বিশ্বকাপকেই বুঝিয়েছেন। তিনি একদম নির্দিষ্ট করে বলে দিয়েছেন, আগামী বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর ৩৩৫ দিন। সেই বিশ্বকাপের আশাতেই বসে আছেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে নিশাম থাকবেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু তিনি যে সেই বিশ্বকাপের শিরোপা জেতার জন্য উন্মুখ হয়ে বসে আছেন, সেটা বোঝার জন্য পিএইচডির দরকার হয় না।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন