সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফি। মানের দিক দিয়ে আইপিএলের পরেই ভারতের দ্বিতীয় সেরা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। সেই টুর্নামেন্টে কাল ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে কী হইচই-ই না ফেললেন মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন! ভুল লেখা হয়নি, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনই।

না, ২০০০ সালে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানা মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন ফিরে আসেননি। ভারতের সাবেক অধিনায়ককে ফিরিয়ে এনেছেন কেরালার ২৬ বছর বয়সী এক ব্যাটসম্যান। যার নাম রাখা হয়েছে কিনা ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ও অধিনায়কের নামেই।

এই মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের জন্ম ১৯৯৪ সালের ২২ মার্চ কেরালার তালাঙ্গারায়। মা–বাবা ঠিক করে রেখেছিলেন অন্য একটি নাম। কিন্তু ক্রিকেটভক্ত বড় ছেলে কমরউদ্দিনের পীড়াপীড়িতে হার মেনে নিয়েছিলেন তাঁরা। আজহারভক্ত কমরউদ্দিন প্রিয় তারকার নামেই রাখেন ছোট ভাইয়ের নাম। সেই আজহারউদ্দিন ও এই আজহারউদ্দিনের নামের ইংরেজি বানানে সামান্য একটু পার্থক্য আছে। ভারতের সাবেক অধিনায়কের ইংরেজি বানান Azharuddin, তবে এই আজহারের ইংরেজি বানান Azharuddeen।

বিজ্ঞাপন

নামের সম্মান রাখতেই যে এই আজহারও একদিন ক্রিকেটার হবেন, তা নাকি বোঝা গিয়েছিল শৈশবেই, ‘আরেক আজহার তৈরি হচ্ছে’—ক্রিকেট মাঠে এই আজহারকে দেখে খেলার সাথিরা বলতেন এমনটাই। সেই আজহার কাল কেরালার হয়ে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ইনিংস ওপেন করতে নেমে ৫৪ বলে খেলেছেন ১৩৭ রানের দারুণ এক ইনিংস। তাঁর ৩৭ বলের সেঞ্চুরিতে ভর করেই স্বাগতিক মুম্বাইয়ের ১৯৬ রান ২৫ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়ে যায় কেরালা। ৯টি চার ও ১১টি ছক্কা মেরেছেন আজহার।

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিকে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এর চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি আছে শুধু দুজনের। ২০১৮ সালে মুশতাক আলী ট্রফিতেই হিমাচল প্রদেশের বিপক্ষে ৩২ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন দিল্লির হয়ে খেলা ঋষভ পন্ত। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রোহিত শর্মার ৩৫ বলের সেঞ্চুরিটি আছে দুইয়ে। এ ছাড়া আজহারের মতো ৩৭ বলে সেঞ্চুরি আছে ইউসুফ পাঠানেরও। ২০১০ সালে আইপিএল রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন পাঠান ভাইয়েদের বড়জন।

কেরালার আজহারের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ২০১৫ সালে। গোয়ার বিপক্ষে রঞ্জি ট্রফির সেই ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে জেতে কেরালা। দলের একমাত্র ইনিংসে ৩১ রান করেছিলেন আজহার। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারটা অবশ্য মোটেও ঝলমলে নয় তাঁর। ২২ ম্যাচে ৯৫৯ রান করেছেন মাত্র ২৫.৯১ গড়ে। সেঞ্চুরি মোটে একটি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ব্যাটিং গড় ২২.২৫। তুলনায় টি-টোয়েন্টির পরিসংখ্যান বেশ ভালো। গড় ২৩.৭৬, স্ট্রাইকরেট ১৪৪.৮০।

এই আজহারউদ্দিনের ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ হয়েছেন হর্শা ভোগলের মতো ক্রিকেট পণ্ডিতও। ধারাভাষ্যকার ভোগলে মনে করেছেন সেই আজহারের নামও, ‘অনেক অনেক বছর আগে মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন নামের অসাধারণ প্রতিভাধর এক খেলোয়াড়কে দেখেছি। এখন আমি একই নামের আরেকজনকে দেখছি। ওয়াও, সেও দারুণ সব শট খেলতে পারে!’

ভারতের সাবেক ওপেনার বীরেন্দর শেবাগও টুইট করেছেন, ‘ওয়াহ আজহারউদ্দিন, অসাধারণ! মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ৫৪ বলে ১৩৭ করতে পারাটা বিশেষ কিছু, সে একাই ম্যাচ শেষ করে দিল। ইনিংসটা উপভোগ করেছি।’

টি-টোয়েন্টিতে কেরালার কোনো ব্যাটসম্যান কালই প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন