বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আফগানিস্তানের খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষার ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কুংফু ও কুস্তিতে চ্যাম্পিয়ন রুস্তমজি। আফগানিস্তানে প্রথম মেয়াদে তালেবান বাহিনী ক্ষমতায় থাকতে কুস্তি ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

পরে দেশটির পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ট শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করেছেন। যদিও ‘ব্যাপক দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলে পরে তাদের ছায়াতল থেকে সরেও আসেন রুস্তমজি।
নারীদের খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন বারবার এড়িয়ে যান তিনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে প্রথম মেয়াদে তালেবান বাহিনী ক্ষমতায় থাকতে নারীদের খেলাধুলায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ ছিল।

ছেলেদের খেলাধুলা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। খেলাধুলার স্টেডিয়ামগুলো মানুষ হত্যার কাজে ব্যবহার করা হতো। তালেবান বাহিনী এবার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর রুস্তমজি বলেন, ‘আমরা কোনো খেলাই নিষিদ্ধ করব না, যতক্ষণ না পর্যন্ত তা শরিয়াহ আইনের পরিপন্থী হয়। ৪০০ রকম খেলাধুলার অনুমোদন রয়েছে।’

আফগানিস্তানে নারীদের খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গে তালেবানদের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে নির্দেশ আসার অপেক্ষায় রয়েছেন রুস্তমজি। তাঁর এক উপদেষ্টা জানালেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেভাবে চলছে, আমরা সেভাবে ভাবতে পারি; নারীরা হয়তো খেলায় অংশ নেবে, কিন্তু তারা পুরুষদের থেকে আলাদাভাবে।’

তবে বিষয়টি রুস্তমজি নিশ্চিত করতে পারেননি। তালেবান বাহিনী ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় নারীরা লেখাপড়া করতে পারছেন ঠিকই, তবে ছেলেদের সঙ্গে লেখাপড়ার সুযোগ নেই। পোশাকেও আনা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ।

গত সপ্তাহে তালেবান সংস্কৃতি কমিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আহমদউল্লাহ ওয়াসিক বলেন, নারীদের খেলাধুলার প্রয়োজন নেই। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম এসবিএসকে ওয়াসিক বলেছিলেন, ‘ক্রিকেটে তারা (নারী) হয়তো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে, মুখ ও শরীর ঢেকে রাখতে পারছে না। ইসলাম নারীদের এভাবে দেখার অনুমতি দেয় না।’

তবে ক্রিকেট নিয়ে তালেবান শাসকগোষ্ঠী এর মধ্যেই চাপে পড়েছে। ক্রিকেটে টেস্ট ম্যাচে অংশ নিতে অবশ্যই নারী জাতীয় দল থাকতে হবে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বেশ আগেই টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে।

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) চেয়ারম্যান আজিজুল্লাহ ফজলি এসবিএস রেডিও পশতুকে জানিয়েছেন, নারীদের খেলায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী, ‘খুব শিগগির আমরা আপনাদের সুখবর দিতে পারব।’ কিন্তু রুস্তমজির কথায় তেমন আশার খবর মেলেনি, ‘সিনিয়র নেতাদের মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তারা নারীদের (খেলায় অংশগ্রহণ) অনুমোদন দিতে বললে, আমরা দেব। তা ছাড়া দেব না। আমরা তাদের নির্দেশের অপেক্ষা করছি।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন