চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।
চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।ছবি: টুইটার

মহেন্দ্র সিং ধোনি আগের মতো নেই, কথাটা প্রায়ই বলা হয়। একসময় ভারতের অধিনায়ক ছিলেন, এখন অধিনায়কও নন। অবসর নিয়ে ফেলায় ভারতীয় দলেরও কেউ নন।

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই তারকার বদলে যাওয়া কেবল এটুকুই নয়। ব্যাট হাতে তিনি ‘ধার’ হারিয়েছেন, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তিনি যে ‘আগের মতো’ নেই, সেটির সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলেছিল গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত আইপিএলের সবশেষ আসরে।

গত রাতে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে জিতেছে ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস। কিন্তু ধোনির ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। ১৭ বলে ১৮ রান করে ফিরেছেন তিনি। ইনিংসটা ঠিক ‘ধোনিসুলভ’ নয়। অবশ্য ধোনিসুলভ ইনিংস তিনি বহুদিনই খেলছেন না। ম্যাচ শেষে তাঁর দিকে ছুটে যাওয়া প্রশ্নের জবাবটা দিয়েছেন ভারতের সাবেক দলপতি নিজেই, ‘৪০ বছর বয়সে ছন্দ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় মোটেও।’

বিজ্ঞাপন

ইনিংসটা ছিল সংগ্রামের। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ছয় বলে কোনো রান করতে পারেননি তিনি। রাজস্থানের বোলাররা যে খুব ভালো বোলিং করছিলেন, তা নয়। ধোনির মধ্যে আত্মবিশ্বাসের যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। শেষ অবধি ১৭ বলে ১৮ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি।

তবে এমন একটা ইনিংসের পরও তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন উঠুক, সেটা চান না ধোনি, ‘আমরা আরও রান করতে পারতাম। অন্য কোনো ম্যাচে যদি আমি ছয় বলে কোনো রান করতে না পারতাম, তাহলে হইচই পড়ে যেত। বড় ঘটনা হয়ে যেত। খেলতে থাকার পরও কোনো খেলোয়াড়কে আনফিট বলা ঠিক নয়। সেটা সেই খেলোয়াড় কিছুতেই মেনে নিতে পারবেন না। পারফরম্যান্স কেমন হবে, সেটা ২৪ বছর বয়সেও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ৪০ বছরে তো নয়ই।’

এ বছরই বয়স চল্লিশ হয়ে যাবে ধোনির। একজন খেলোয়াড়ের জন্য বয়সটা যথেষ্ট। দুনিয়ার অনেক বড় বড় ক্রিকেট তারকাই এই বয়সের আগে খেলাকে বিদায় বলেছেন। ধোনিরও ক্যারিয়ারের বড় অধ্যায় পেরিয়ে গেছে। আর হয়তো দুই–একটা মৌসুম তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সঙ্গে থাকবেন।

তবে ধোনি খুশি, এই বয়সেও তাঁকে কেউ আনফিট খেলোয়াড় বলছেন না দেখে, ‘এটা একটা ভালো দিক যে আমার দিকে কেউ আঙুল তুলে বলছে না যে তুমি পুরোপুরি ফিট নও। এটা আমার জন্য খুবই উৎসাহব্যঞ্জক, খুবই ইতিবাচক একটা দিক। আমি তরুণ ছেলেদের সঙ্গে দৌড়াচ্ছি। ওদের সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে আমাকে। ওরা স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর দৌড়ায়।’

২০১৯ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচটিই হয়ে আছে ভারতের জার্সিতে ধোনির শেষ ম্যাচ। সেই ম্যাচে চরম বিপর্যয়ের মুখে ভারতকে বৈতরণী পার করানোর দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। তিনি সে দায়িত্ব প্রায় পালন করে ফেলেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে সেটা আর করতে পারেননি।

এরপর তিনি আবার ভারতীয় দলে খেলবেন কি না, তা নিয়ে বহু জল্পনাকল্পনা ছিল। গত বছর আগস্টে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে খুব সংক্ষেপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিজের বিদায়ের বার্তা জানিয়ে দেন ভারতের সফলতম অধিনায়ক।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন