বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

‘ব্যাপারটা হাস্যকর। আমরা ১০ দিনে ২টি ম্যাচ খেলেছি, বিরতিটা বেশিই হয়ে গেল’-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গতকাল টসের সময় সূচির সমালোচনা করে বলছিলেন কোহলি। ভারত অধিনায়কের অভিযোগ একেবারে মিথ্যাও নয়। ২৪ অক্টোবর পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছে ভারত, এরপর ঠিক সাত দিন মাঠে নামা হয়নি কোহলিদের। তুলনার স্বার্থে বলা যায়, ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশও সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছে, কিন্তু গত পরশুই বাংলাদেশ সুপার টুয়েলভে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচ খেলে ফেলেছে।

২৪ অক্টোবরের (রোববারের) ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের হিসাবও দেওয়া যায়। রোববার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর পাকিস্তান এরই মধ্যে নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষেও খেলেছে। কিন্তু অন্য সবাই যখন টুর্নামেন্টের উত্তাপ গায়ে মাখতে ব্যস্ত ছিলেন, কোহলিরা মাঠের বাইরে অনুশীলনের নেটেই ব্যাট-বলের ঠোকাঠুকি করে গেছেন এত দিন।

default-image

অবশ্য বিশ্বকাপের সূচিতে এভাবে এক দলের বেশি বিরতি পড়া শুধু ভারতের ক্ষেত্রেই হয়নি। গতকাল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলা ভারত যেমন, আগামী আট দিনে খেলবে নিজেদের পরের তিন ম্যাচ। গত পরশু নিজেদের তৃতীয় ম্যাচ খেলা পাকিস্তান আবার নিজেদের পরের দুই ম্যাচের আগে বিরতি পাচ্ছে যথাক্রমে চার ও পাঁচ দিন করে।

তবে কোহলি এখন সূচি নিয়ে সমালোচনা করলেও এ নিয়ে হয়তো এত আলোচনা হতো না, যদি সেটি তাঁর আগের উক্তির ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে না হতো! পাকিস্তানের কাছে ২৪ অক্টোবর ১০ উইকেটে হারের পর ৬ দিনের বিরতি নিয়ে ভারত অধিনায়ক বলেছিলেন, স্নায়ুর জন্য চরম উত্তেজনাপূর্ণ আইপিএলের পর এমন একটা টুর্নামেন্টের শুরুতে এত লম্বা বিরতি ভারতের খেলোয়াড়দের জন্য ভালোই হবে।

‘আমার মনে হয় আমাদের দিক থেকে বিরতিটা খুব ভালোই হলো। আমরা মাত্রই একটা লম্বা মৌসুম শেষ করে এসেছি। আইপিএলে খেলেছি, যেটা কিনা এমনিতেই অনেক উত্তেজনাপূর্ণ, তার ওপর সেটা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিবেশে। এরপর আমরা এখন বিশ্বকাপ খেলতে এলাম। তাই আমাদের দিক থেকে ভাবলে এই বড় বিরতিগুলো দল হিসেবে আমাদের শারীরিকভাবে আরও ভালো অবস্থানে যেতে সাহায্য করবে। টুর্নামেন্ট সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পর্যায়ে গেলে শারীরিক দিক থেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় থাকা আমাদের জন্য দরকার হবে’—পাকিস্তানের কাছে হারের পর এ-ই ছিল কোহলির বিরতি নিয়ে প্রশংসা!

default-image

কিন্তু টুর্নামেন্টের আঁচের মধ্যেই লম্বা এ বিরতি মানসিকভাবে কিছুটা থিতিয়েও তো দেয়! এ ছয় দিনে অন্য দলগুলো যখন লড়েছে, ক্রিকেট রোমাঞ্চে মেতেছে, কোহলিরা শুধু ব্যাটে-বলে ঠোকাঠুকি করেই সারা! সে কারণেই কি না, গতকাল টসের সময়ে কোহলির এমন উল্টা পুরান!

তবে সূচির সমালোচনা করেও এই বিরতি যে খেলোয়াড়দের হালকা চোট কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে, সেটি ঠিকই মেনে নিয়েছেন কোহলি, ‘খেলোয়াড়েরা ধকল কাটিয়ে উঠছে ভালোভাবে। অনুশীলন ভালো হয়েছে। সবাই মাঠে নামতে মুখিয়ে আছে, এটা ভালো দিক। যখন আপনি এত দিন বিরতিতে থাকবেন, মাঠে নামতে, টুর্নামেন্টের উত্তেজনা গায়ে মাখতে আপনার আর তর সইবে না, এটাই স্বাভাবিক।’

তবে এত দিন বিরতি কোহলিদের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাবই ফেলেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গতকাল আগে ব্যাট করে মাত্র ১১০ রান করেছে ভারত, লক্ষ্যটা ৮ উইকেট ও ৩৩ বল হাতে রেখে হেসেখেলেই পেরিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন