বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত এপ্রিলে প্রথম রাজ্য দলে ডাক পেয়েছেন সিমোর। যে বয়সে ডাক পেয়েছেন, অনেক ক্রিকেটারই সে বয়সে অবসর–পরবর্তী পরিকল্পনা সাজাতে বসেন। ২৯ বছর হয়ে গেছে, তবু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা হয়নি। এমনকি স্বীকৃত ৫০ ওভারের ক্রিকেটেও নাম লেখানো হয়নি। এমন অবস্থায় ক্রিকেট নিয়ে আর এগোনোর চিন্তা করেন না কেউ। কিন্তু সিমোর হাল ছাড়েননি, আর এরই পুরস্কার মিলেছে গত এপ্রিলে। যখন ক্লাব ক্রিকেটের সিমোরের রানবন্যা আর উপেক্ষা করতে পারেনি ভিক্টোরিয়া। বয়সের কারণে আগে বারবার উপেক্ষিত সিমোরকে ডেকে পাঠিয়েছিল তারা।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ডাক পাওয়ার পর এই বাঁহাতি ওপেনার বলেছিলেন, ‘আমি কিছুটা আবেগী হয়ে পড়েছিলাম। বহুদিন ধরে এর অপেক্ষায় ছিলাম। সব সময় এর আশায় ছিলাম এবং এটা চেয়েছি, কিন্তু আপনি কখনোই বলতে পারবেন না, আপনি সফল হবেন কি না বা নির্বাচিত হবেন কি না। সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, একবার ডাক পেয়েছিলাম, এতেই তৃপ্ত থাকব না। এখানে আসতে আমার ১০ বছর লেগেছে কিন্তু শুধু অভিষেক ম্যাচ খেলেই তৃপ্ত থাকতে চাই না।’

default-image

অভিষেকে ৬০ রানের এক ইনিংস খেলে সেটা নিশ্চিত করেছিলেন। তবে সিমোরের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এ সপ্তাহে। নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম দিনে পেয়েছেন স্বীকৃত ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা। সে ইনিংস খেলার পথে মাথায় দুবার বল লেগেছে। কিন্তু ঠিকই লায়নসমৃদ্ধ এক বোলিং আক্রমণের সামনে ১৯টি চারে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন।

নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়তে যা যা করেছেন, তার তুলনায় অবশ্য মাথায় দুবার বল লাগা পাত্তাই পাচ্ছে না। ক্লাব ক্রিকেটে ভালো করলেও রাজ্য দলে জায়গা পাচ্ছিলেন না। তাই পুরো অস্ট্রেলিয়া ঘুরে ঘুরে খেলা চালিয়ে গেছেন। ৬ মাস পরপর ঘর বদলেছেন। ওয়াটার পার্কে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন ক্যাসিনোতে। উবারের খাবার ডেলিভারি দিয়েছেন। আর সবই করেছেন সে কাজের পাশে ক্রিকেট খেলে।

default-image

মেলবোর্নে বেড়ে ওঠা সিমোর নিজ রাজ্যে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। তাই যত সম্ভব বেশি ক্রিকেট খেলতে ভিক্টোরিয়া, তাসমানিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্লাব ক্রিকেটে খেলেছে। আবার গ্রীষ্ম মৌসুমে শেষ হলেই উত্তরাঞ্চলে চলে গেছেন। সেখানে ছয় মাস ক্রিকেট খেলে কাটিয়েছেন।

এসেনডোরের হয়ে গত মৌসুমে এতটাই দুর্দান্ত ছিলেন যে তাঁকে না ডেকে আর উপায় ছিল না ভিক্টোরিয়ার। মেলবোর্নে সেবার এসেনডোরের হয়ে ১৩ ম্যাচে ৮২২ রান করেছেন। গড়টা অনেকটাই ব্র্যাডম্যানীয়, ৯১. ৩৩!

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডাক পেতেই তাঁকে কত পরিশ্রম করতে হয়েছে সেটা জানিয়েছেন সিমোর, ‘আমি সব সময় আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে প্রাধান্য দিয়েছি। বলতে পারেন, তার একটু ফল পেলাম, কিন্তু এক ম্যাচেই শেষ হোক তা চাই না। এ যাত্রায় অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। যার বাইরে থাকে (রাজ্য দলগুলোর বয়সভিত্তিক দলের বাইরের ক্রিকেটার), তাদের সবার জন্যই এমন। যাদের বয়স একটু বেশি, তারা ভালো মৌসুম খেললে বলা হয়, “তোমাকে আবার প্রমাণ করতে হবে।” আপনার বয়স বেশি হলে কাজটা কঠিন হয়ে যায়। আপনাকে প্রমাণ করতে হয়, আপনি শুধু এক মৌসুমের খেলোয়াড় না। আমাকে তাই টানা কয়েক মৌসুম ভালো খেলেই আসতে হয়েছে।’

ভিক্টোরিয়া দলের কোচ ক্রিস রজার্স ব্যাপারটা ভালো করেই জানেন। সিমোরকে যে কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটার ভিন্ন রূপ দেখেছেন তিনি নিজেও। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত খেলেও অস্ট্রেলিয়া দলে ডাক পেতে পেতে ৩০ বছর হয়ে গিয়েছিল তাঁর। একটি ম্যাচ খেলেই আবার ছিটকে পড়েছেন। আবার ফিরতে ফিরতে বয়স হয়ে গিয়েছিল ৩৫। ২০১৫ অ্যাশেজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে যতি টানা রজার্স তাই সিমোরে আস্থা রেখেছেন, ‘সে হয়তো ভেবেছিল, সুযোগটা চলে গেছে তার। কিন্তু ক্লাব ক্রিকেটে দারুণ খেলে ঠিকই তাকে নির্বাচন করতে বাধ্য করেছে সে।’

সিমোরও এবার নিজের কষ্টের ফল তুলে নিতে চান, ‘এখানে আসতে অনেক সময় লেগেছে এবং খুব কম লোকই ২৯ বছর বয়সে এসে প্রথম চুক্তি পায়। আশা করি, যদি পারি, পাঁচ বা ছয় বছর ক্যারিয়ারটা লম্বা করতে চাই।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন