বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ছিল মোটামুটি ভালো। লিটন দাস আর মোহাম্মদ নাঈম ধীরে শুরু করেছিলেন, কিন্তু রানের চাকাটা সচল রেখেছিলেন। ৩.৫ ওভারে স্কোরবোর্ড ২২ রান ওঠাটা ছিল আশা জাগানিয়াই। কিন্তু চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে কাগিসো রাবাদার বলে নাঈম মিড উইকেটে হেন্ডরিকসকে ক্যাচ দেওয়ার পর থেকেই বিপর্যয়ের শুরু। তিনে নেমে সৌম্য সরকার টিকলেন মাত্র এক বল। রাবাদার ইয়র্কারটা বুঝতেই পারলেন না। এমনিতেই গতিময় ডেলিভারি; ব্যাট নামানোরই সুযোগ পেলেন না সৌম্য। যদিও আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ভেবেছিলেন বলটা সৌম্যর ব্যাটে লেগেছে। কিন্তু রিভিউ নিয়ে সফল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২২ রানে কোনো উইকেট নেই, হঠাৎই দুই বলের ব্যবধানে আউট দুই ব্যাটসম্যান।

default-image

কেবল দুটি ডেলিভারিই নয়। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ৩.২ ওভারের একটা ঝড় বইয়ে দিলেন রাবাদা আর নর্কিয়ে। এই সময় স্কোরবোর্ডে ১২ রান যোগ করতেই নেই ৩ উইকেট। এক ঝড়েই এলোমেলো বাংলাদেশের ঘর। বলতে গেলে সব শেষ। মুশফিকুর রহিম পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে রাবাদার বলেই হেন্ডরিকসকে স্লিপে ক্যাচ দেন। অষ্টম ওভারের শেষ বলে মাহমুদউল্লাহর সংগ্রামের সমাপ্তি ঘটালেন নর্কিয়ে। তাঁর লাফিয়ে ওঠা বলের কোনো জবাবই ছিল না বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে। তাঁর বুড়ো আঙুলে লেগে পয়েন্টে ক্যাচ যায় এডেন মার্করামের হাতে। ৮ ওভারে ৩৪, নেই ৪ উইকেট। লিটন তখনো অপর প্রান্তে। আফিফ হোসেন উইকেটে হেঁটে আসার সময়টুকুই কেবল নিলেন। গার্ড নিয়ে দাঁড়িয়েই ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের বলে বোল্ড তিনি।

default-image

এরপর তো লড়াইয়ের আর কিছুই থাকে না। ছিলও না। দক্ষিণ আফ্রিকান বোলাররা যত সময় গেছে আরও যেন চেপে বসেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ওপর। লিটন একপ্রান্ত ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু কতক্ষণ আর একা লড়বেন। তিনিও আগ্রহ হারালেন। এমনিতেই তো লোয়ার অর্ডার ব্যাটিং আগলে রেখে একপ্রান্তে ঠান্ডা মাথায় ব্যাটিং করে যাওয়া ব্যাটসম্যানের অভাব বাংলাদেশ দলে। লিটনও তেমন কিছুর চেষ্টাই করলেন না। ৩৬ বলে ২৪ রান করে আউট হলেন তিনি।

৪৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর শামীম হোসেন আর মেহেদী হাসানই যা একটু ঠেকিয়ে রাখলেন। ১৯ রানের একটা ‘জুটি’ গড়লেন তাঁরা। দক্ষিণ আফ্রিকান বোলাররা বাংলাদেশ আজ কতটা অসহায় ছিল সেটি ছোট্ট একটা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। ২.৫ ওভারে একটি বাউন্ডারি মারার পর পরেরটা মারতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৬০ বল।

শামীম আর মেহেদীর ১৯ রানের জুটিটি আসলে মান রক্ষা করেছে। নয়তো ৮৪ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল বাংলাদেশের। শামীম ২০ বলে ধুঁকে ধুঁকে ১১ রান করেছেন। মেহেদী অবশ্য ছিলেন কিছুটা ইতিবাচক—২৫ বলে ২৭ রান তাঁর। তাঁর ইনিংসটি হয়তো বাংলাদেশের ব্যাটিং-তারকাদের লজ্জা দিতে পারে।

রাবাদা ছিলেন দুর্দান্ত। তিনি ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। তবে নর্কিয়ে ছিলেন ভয়ংকর। ৩.২ ওভার বোলিং করেছেন মাত্র ৮ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। প্রিটোরিয়াসও কম যান না। ৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে নিয়েছেন এক উইকেট। তাবরেজ শামসি ২ উইকেট নিয়েছেন ২১ রান দিয়ে।

বাংলাদেশের ইনিংসের ‘সমাপ্তি’ ঘটে নাসুম আহমেদের আউট দিয়ে। নর্কিয়ের বলে এগিয়ে–পিছিয়ে ব্যাট দিয়ে সোজা স্টাম্পে আঘাত করেন তিনি। বড় মঞ্চে এমন হাস্যকর আউট! তাঁর আউটের ধরন যেন আবুধাবিতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েরই প্রতীক হয়ে থাকছে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন