default-image

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়, সেটাও আবার শ্রীলঙ্কার মাটিতে, শততম টেস্টে! মুশফিকুর রহিমের বাঁধভাঙা আনন্দের জন্য এটাই ছিল যথেষ্ট। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক অবশ্য জানালেন, প্রথম ম্যাচে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ জয় থেকে তিনি খুঁজে নিচ্ছেন ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা—
* জয়ের পর কেমন লাগছে?
সত্যিই খুব ভালো লাগছে। প্রথম টেস্টে হারের পর মনে হয়েছিল, যদি আমাদের ক্ষমতা অনুযায়ী খেলতে পারি তাহলে এই দলকে হারানো কঠিন কাজ নয়। যদিও প্রথম টেস্টটা ওরা খুব সহজে জিতেছে। আমরা জানতাম, যদি মাঠে ঠিকভাবে পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারি, আমরাই জিতব। সব মিলিয়ে এই জয়ে খুবই খুশি। অনেক কষ্টে জয়টা অর্জন করেছি। ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়ি, তখন আরও ভালোভাবে খেলব।
* শ্রীলঙ্কার এই দলটাকে কেমন দেখলেন?
শ্রীলঙ্কা এখনো নিজেদের মাটিতে দুর্দান্ত দল। অস্ট্রেলিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। ওদের তাই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। গত পাঁচ দিনে শ্রীলঙ্কার চেয়ে ভালো খেলেছি। বিশেষ করে টস হারার পরও প্রথম ইনিংসে বোলাররা তাদের কাজটা যথাযথভাবে করেছে। গতকাল (পরশু) সাকিব-মোস্তাফিজও ফ্ল্যাট উইকেটে দারুণ করেছে। ওদের স্পেলেই শ্রীলঙ্কা ব্যাকফুটে চলে যায়। এরপর আমাদের দরকার ছিল ছন্দটা ধরে রাখা। মনে হয়েছিল লক্ষ্য যা-ই হোক, তাড়া করতে পারব। ৫ উইকেট পড়ার আগে মনে হয়েছে ২০০ বা ২৫০ রান এই উইকেটে তাড়া করা সম্ভব। ওদের অলআউট করে আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। বিশেষ করে তামিম ও সাব্বির যেভাবে ব্যাটিং করেছে, সেটা দারুণ। শততম টেস্ট জয় বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন।
* জেতার মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কী ছিল?
টেস্টে এ রকম পরিস্থিতিতে আমি কখনো পড়িনি। পঞ্চম দিনে এভাবে তাড়া করা আমাদের জন্য একদম নতুন অভিজ্ঞতা। লক্ষ্য ছিল শুরুর দিকে ৫০ রানের বেশি জুটি করা। তামিমের দারুণ ব্যাটিং, সাব্বিরের সঙ্গে এক শর বেশি রানের জুটিতে তো মনে হয়েছিল সহজেই জিতে যাব। কিন্তু কোনো দলই ম্যাচ ছেড়ে দেয় না। শেষ দিকে বিশ্বাস ছিল, দুঃখজনকভাবে সাকিব আউট হয়ে যাওয়ার পরও; কারণ মোসাদ্দেক ও মিরাজ ছিল। তাই মনে হয়েছিল এক এক করে রান নিলেও ম্যাচটা আমরা জিততে পারব।
* এ ম্যাচের আগে অনেক বিতর্ক হয়েছে। তামিম বলেছেন, এ টেস্টের আগে দলের সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এখন থেকে ম্যাচের আগে শুধু খেলোয়াড়েরাই একসঙ্গে বসবেন, আলোচনা করবেন। এটাই নাকি ‘গেম চেঞ্জার’ ছিল। একটু বলবেন, কোন আলোচনা এভাবে বদলে দিল সবকিছু?
প্রথম টেস্টে হারার পর মনে হয়েছে, আমরা এত বাজেভাবে হারার দল নয়। গল টেস্টটা আমাদের জন্য ছিল জেগে ওঠার আহ্বান। আমাদের যে সামর্থ্য আছে, প্রথম টেস্টে আমরা তার অর্ধেকও দিতে পারিনি। আমরা ওদের চেয়ে ভালো দল। এই জন্য আমরা একসঙ্গে, মৌলিক ব্যাপারগুলো একজন আরেকজনকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম। যাতে পরিকল্পনাগুলো মাঠে কাজে লাগাতে পারি, এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা ছিল। ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে, বোলাররা দায়িত্ব নিয়ে বোলিং করেছে। এটা সব মিলিয়ে আনন্দের মুহূর্ত।
* এ ম্যাচ দেশে খেলতে পারেননি। এতে খারাপ লাগছে কি?
দেশে হলে অন্য রকম একটা অনুভূতি তো থাকেই। তবু বিদেশে প্রথম ম্যাচ হারের পর এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো; আমাদের মতো দলের জন্য এর চেয়ে বড় কিছু আর হয় না। এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা আমাদের খুব কম আছে। শ্রীলঙ্কা অস্ট্রেলিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। এটা অনেক বড় একটা পদক্ষেপ। এখানে অনেক তরুণ খেলোয়াড় ছিল যারা খুব ভালো করেছে এই টেস্টে। সবার কাছে এই জন্য কৃতজ্ঞ।
* পেরেরার বলে যখন আপনাকে আউট দেওয়া হলো, তখন মানসিক অবস্থা কেমন ছিল?
মনে হচ্ছিল আমি আউট। প্রথমে মনে হয়েছিল, স্টাম্প মিস করবে, তাই প্যাড আপ করেছিলাম। কিন্তু আউট দেওয়ার পর ডিআরএস নিতে ভয় পাচ্ছিলাম। কারণ, মাঠের সিদ্ধান্তের পক্ষেই যায় বেশির ভাগ রিভিউ। আর পরেও মিরাজ, মোসাদ্দেকের ডিআরএস লাগতে পারে। এ জন্য আমি নিতে চাচ্ছিলাম না। মোসাদ্দেক বলল, ‘ভাই রিভিউ নেন।’ শেষ মুহূর্তে ভাবলাম, আচ্ছা নিই। হয়তো বেঁচে যেতে পারি, অনেক শার্প টার্ন আর বাউন্সও ছিল। খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবু বিশ্বাস ছিল, আমি আউট হলেও জিততে পারব। কিন্তু ইচ্ছে ছিল নিজে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে আনব।
* শততম টেস্টে জয় কাউকে উৎসর্গ করতে চান?
অবশ্যই এটা অনেক বড় একটা অর্জন। যদি ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করেন, এই জয় আমি বাংলাদেশের ক্রিকেট-ভক্তদের উৎসর্গ করতে চাই। এটা খুব সহজ ছিল না। খেলা ভালো না হলে অনেক সময় তাঁরাও সমালোচনা করেন। তবে এখানেও তাঁদের সমর্থন ছিল। আমার মনে হয়, কিছুটা হলেও প্রতিদান দিতে পেরেছি। এই জন্য ভালো লাগছে।

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন