'ইশ্ আর একটা জয়ে'র আক্ষেপ নিয়ে বিদায় মাশরাফিদের

.
.

শহীদ আফ্রিদি তাঁর আদর্শ। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে রশিদ খান জানিয়েছিলেন, আফ্রিদিকে দেখেই তাঁর লেগ স্পিনার হওয়া। সেই আফ্রিদিকেই আজ দুর্দান্ত এক গুগলিতে বোকা বানিয়ে স্টাম্পড করলেন আফগান লেগ স্পিনার। পাকিস্তান অলরাউন্ডার ফিরে যেতেই যেন ম্যাচের গতিপথও স্পষ্ট হয়ে গেল। রংপুর রাইডার্সকে ৮ রানে হারিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস বিপিএল শেষ করল জয় দিয়েই। 

কাল রংপুরের কাছে বরিশাল বুলস হেরে যাওয়ায় শেষ চারে ওঠার মৃদু আশাটা মিলিয়ে গেছে কুমিল্লার। তবে আজ সৌম্য-আফ্রিদিদের হারিয়ে রংপুরের হিসাবটাও কঠিন করে তুলল কুমিল্লা। এখনো পর্যন্ত প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছে শুধু ঢাকা-চট্টগ্রামের। ১২ পয়েন্ট নিয়ে অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে রাজশাহী কিংস, খুলনা টাইটানস ও রংপুর। রাজশাহী-রংপুর এখন তাকিয়ে সন্ধ্যায় ঢাকা ডায়নামাইটস-খুলনার ম্যাচটার দিকে।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ শেহজাদ-সৌম্য সরকারের ওপেনিং জুটি তুলে ফেলে ৩৪ বলে ৪৮ রান। অবশ্য এর মধ্যে সৌম্যর অবদান মাত্র ৫। আরও একটি টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হলেন বাঁহাতি ওপেনার। তবে শেহজাদ যতক্ষণ ছিলেন আশাটা ছিল রংপুরের। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে ৪৮ রানে আফগান ওপেনার বোল্ড হওয়ার রংপুরকে স্বপ্ন দেখান আফ্রিদি।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক বিপিএলে নিজের সেরা ইনিংসটা খেললেন আজই। আফ্রিদি যখন ভয়ংকর হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তখনই রশিদের গুগলি। ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে পাকিস্তান অলরাউন্ডার স্টাম্পড হলেন ৩৮ রানে। দুর্দান্ত বোলিং করেছেন রশিদ, ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ম্যাচের পার্থক্য আসলে গড়ে দিয়েছেন আফগান লেগ স্পিনারই। মোহাম্মদ শরিফের করা ১৮তম ওভারে ১৯ ও নাবিল সামাদের করা শেষ ওভারে ১৫ রান করেও তাই জিততে পারেনি রংপুর।
ইমরুল কায়েস অবশেষে ফিফটি পেয়েছেন। গত বিপিএল রাঙিয়ে দেওয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ওপেনার এবার টুর্নামেন্টে প্রথম ফিফটির দেখা পেলেন নিজেদের শেষ ম্যাচে। ইমরুলের এই জ্বলে ওঠার সঙ্গে মিল থাকল কুমিল্লার পারফরম্যান্সেও। টানা হারের বৃত্তে ঘুরতে থাকা দলটি জয়ের ধারায় ফিরল নিজেদের শেষ চারটি ম্যাচে।
ইমরুল-খালিদ লতিফের ওপেনিং জুটি ৬২ বলে ৮৮ রান বড় স্কোরের ভিত্তি দেয় কুমিল্লাকে। আরাফাত সানির বলে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে বাউন্ডারির কাছে লিয়াম ডসনের অসাধারণ ক্যাচ হওয়ার আগে ইমরুল করেছেন ৩৫ বলে ৫২ রান। কুমিল্লা ওপেনার চার মেরেছেন ৭টি চার ও ছক্কা দুটি—প্রায় ৭৭ শতাংশ রান এসেছে বাউন্ডারি থেকে। সানির বলেই লতিফ ফিরেছেন ৪৩ রানে।
শেষ চার খেলা হচ্ছে না ঠিকই, তবে টুর্নামেন্টে কুমিল্লার প্রাপ্তি একটাই—বাজে সময় কাটিয়ে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, সেটি দেখিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। টানা চার জয় নিয়ে মাথা উঁচু করে টুর্নামেন্ট শেষ করল মাশরাফির দল। সব মিলিয়ে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট। আর একটা জয় পেলে হয়তো পরের রাউন্ডে যেতে পারত তারা। মাত্র একটা জয়...।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস : ২০ ওভারে ১৭০/৬ (ইমরুল ৫২, লতিফ ৪৩, স্যামুয়েলস ৩০, মাশরাফি ৭, জায়েদি ১৭, লিটন ৬, রশিদ ১১*; আনোয়ার ০/৩২, গাজী ০/১৭, সানি ২/২৯, রুবেল ২/৩০, ডসন ০/১৯, আফ্রিদি ১/৩০, সৌম্য ০/১১) ।
রংপুর রাইডার্স : ২০ ওভারে ১৬২/৮ (শেহজাদ ৪৫, সৌম্য ৫, মিঠুন ২, ডসন ৩, আফ্রিদি ৩৮, নাঈম ১৪, জিয়া ৩৮*, আনোয়ার ১, গাজী ৭, ; শরিফ ০/৫১, সাইফউদ্দিন ১/৩৪, মাশরাফি ২/২৭, নাবিল ২/৩৫, রশিদ ৩/১৩)।
ফল : কুমিল্লা ভিক্টোয়ানস ৮ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রশিদ খান