'নিউজিল্যান্ড সফর আমাদের জন্য সতর্কবার্তা'

বিজ্ঞাপন
default-image
>আইপিএল খেলতে তিনি এখন কলকাতায়। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আজই হয়তো খেলতে নামবেন ইডেন গার্ডেনসে। জন্মদিনের ঠিক আগের দিন কলকাতা থেকে মুঠোফোনে তারেক মাহমুদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান কথা বলেছেন আঙুলের চোট, নিউজিল্যান্ড সফরের হতাশা এবং ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ নিয়ে।

প্রশ্ন: আঙুলের অবস্থা কেমন? এখন খেলতে সমস্যা হবে না নিশ্চয়ই...
সাকিব আল হাসান: অবস্থা ভালো। ব্যথা নেই। পুরোপুরি ফিট বলতে পারেন।


প্রশ্ন: কাল (আজ) তো আইপিএলে আপনাদের ম্যাচ। বিপিএলের ফাইনালের পর দেড় মাসেরও বেশি সময় খেলার বাইরে ছিলেন। এটা সমস্যা করবে না তো?
সাকিব: খেলার পর বুঝতে পারব। মাঠে কী পরিস্থিতি দাঁড়ায়, এটা আসলে আগে বোঝা কঠিন। তবে ঢাকায় যে কদিন অনুশীলন করেছি, তেমন সমস্যা বোধ করিনি। কাল (আজ) যদি খেলি, তাহলে বাকিটা বুঝতে পারব।

প্রশ্ন: আইপিএলে বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলবেন। কিন্তু ফরম্যাট টি-টোয়েন্টি। আপনার কি মনে হয়, বিশ্বকাপের জন্য আদর্শ প্রস্তুতি হবে এই টুর্নামেন্ট?
সাকিব: আন্তর্জাতিক সিরিজ যখন হয় ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি, টেস্ট সবই তো হয়। আর আমরাও তিনটি ফরম্যাটই খেলি। এখানে আমি যাদের সঙ্গে খেলব, বিশ্বকাপেও তাদের সবার দলের সঙ্গেই খেলা থাকবে আমাদের। এটা একটা বড় সুবিধা। কারণ, দেশে থাকলে হয়তো বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য প্রিমিয়ার লিগই খেলতাম। এ ছাড়া তো আর কোনো খেলা ছিল না। আইপিএলে যে রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট হয়, এর চেয়ে ভালো প্রস্তুতি আর কী হতে পারে!

প্রশ্ন: কিন্তু দল যখন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করবে, আপনার পক্ষে তো দলের সঙ্গে থাকা সম্ভব হবে না...
সাকিব: আসলে ওই ধরনের কন্ডিশনে যতক্ষণ না খেলাটা শুরু হয়, মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়া আর কোনো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়। মে মাসটা যে আমরা আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে থাকব, ওই সময়টাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি আমি। ওই এক মাসই হবে আসল প্রস্তুতির সময়।

প্রশ্ন: দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আপনার পরিকল্পনা কী? আইপিএল শেষ করেই আসবেন?
সাকিব: না, আইপিএল শেষ করে কেন আসব! জাতীয় দলের যখন খেলা থাকবে, তখন তো আর আইপিএল শেষ করে আসার সুযোগ নেই। মৌখিকভাবে যতটুকু কথা হয়েছে, মে মাসের ৩-৪ তারিখের মধ্যে আমি আয়ারল্যান্ডে দলের সঙ্গে যোগ দেব। আরও আগেও হতে পারে। এটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করছে। এমনও হতে পারে, আইপিএল থেকে আগে আগে বের হয়ে এক সপ্তাহ বাংলাদেশে থেকে আয়ারল্যান্ডে গেলাম। এ ব্যাপারে এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন: এবারের নিউজিল্যান্ড সফর বিশ্বকাপের জন্য ভালো একটা প্রস্তুতি হবে, এমন আশা ছিল। কিন্তু বরাবরের মতো এবারও হতাশাজনক ফলাফলই হয়েছে। আপনি এই ফলাফলকে কীভাবে দেখেন?
সাকিব: আমার মনে হয়, নিউজিল্যান্ড সফর আমাদের জন্য একটা সতর্কবার্তা। ইংল্যান্ডেও এ রকমই উইকেট থাকবে, কন্ডিশনও অনেকটা এ রকমই ওখানে। যেহেতু নিউজিল্যান্ডে আমরা ভালো করিনি, কী কী কারণে খারাপ করেছি, সেটা খুঁজে বের করাটা খুব জরুরি। বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আগে থেকেই ভালো কিছু পরিকল্পনা করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপের ফরম্যাট এবার ভিন্ন। সবার সঙ্গে সবার খেলা, মানে ৯টি ম্যাচ খেলতে হবে আপনাদের। এটাকে কীভাবে দেখছেন?
সাকিব: ফরম্যাটের কারণেই এই টুর্নামেন্ট অনেক কঠিন হবে। অন্যান্য টুর্নামেন্টে একটি বা দুটি ম্যাচ জিতে গেলেই অনেক দূরে চলে যাওয়া যায়। এবারের বিশ্বকাপে এক-দুই ম্যাচ জিতে অনেক দূরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমার তো মনে হয় পরের ধাপে যেতে কমপক্ষে পাঁচটি ম্যাচ জিততেই হবে, আরও বেশিও লাগতে পারে। ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট না খেললে পাঁচ ম্যাচ জেতা সহজ হবে না। সে জন্যই বলেছি, প্রয়োজন ভালো কিছু সিদ্ধান্ত। সঠিক পরিকল্পনা নিয়েই আমাদের এগোনো উচিত। নয়তো বিশ্বকাপে ভুগতে হবে।

প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডে না গেলেও বাংলাদেশ দলের খেলায় দৃষ্টি নিশ্চয়ই ছিল। বিশ্বকাপ সামনে রেখে কোন জায়গাগুলোতে কাজ করা জরুরি মনে করেন?
সাকিব: বাইরে থেকে দেখে অনেক কিছুই বলা যেতে পারে। আমার মনে হয় না তার সবই ঠিক বা সেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, টিম ম্যানেজমেন্ট বা দলের সঙ্গে যারা ছিল, যারা খেলেছে...তাদের কাছ থেকে ধারণা নিয়ে কীভাবে এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব, সেটা খুঁজে বের করা।

প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ড সফরের পারফরম্যান্স এবং বিশ্বকাপের ফরম্যাট বিবেচনা করলে বিশ্বকাপে আমাদের বাস্তব লক্ষ্য কী হতে পারে?
সাকিব: স্বপ্ন সবাই বড়ই দেখবে। কিন্তু বসে বসে শুধু স্বপ্ন দেখে তো লাভ নেই। স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন কীভাবে করতে হবে, সে কাজগুলোও করতে হবে।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তিন জাতি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। প্রস্তুতির জন্য এই সিরিজকে কীভাবে দেখেন?
সাকিব: আমার ধারণা, ওখানে ওই সময় বৃষ্টি হবে। খেলা ঠিকভাবে না হওয়ারও আশঙ্কা আছে। তবে যদি ম্যাচগুলো পুরো হয়, তাহলে তো খুবই ভালো। তখন এই সিরিজ আমাদের প্রস্তুতির জন্য ভালো হবে।

প্রশ্ন: কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিকল্পনাও কি রাখা যায় এই সিরিজের জন্য?
সাকিব: আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মতো অবস্থা নেই। এমন না যে ভারতের মতো আমাদের খেলোয়াড়দের নিয়ে দুটি দল করা যায়, যাদের নিয়ে পরীক্ষা করব। আমাদের হাতে গোনা খেলোয়াড়। যেকেউ বলে দিতে পারবে দলের ১২-১৩ জনের নাম। এক-দুজনই এদিক-সেদিক হয়। যারা খেলবে, তারা সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলেই যথেষ্ট।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পাশাপাশি ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপা জয়ও কি লক্ষ্য হবে? আইপিএলের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা খেলোয়াড়দের অনেকেই নাকি থাকবেন না সিরিজের শুরুতে...
সাকিব: দুটোই লক্ষ্য হওয়া উচিত। যেকোনো জায়গায় টুর্নামেন্ট জিতলে সেটা একটা বড় সুবিধা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের জন্য আমাদের যে অনুশীলনগুলো করা দরকার, সেগুলোও যেন আমরা এর মধ্যে করে নিতে পারি। দুটোরই দরকার আছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন