default-image

ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির মূল্য কি একই? বিশ্বকাপ ফাইনালে সেঞ্চুরির সমান্তরালে থাকতে পারে গ্রুপ ম্যাচের সেঞ্চুরি!
সরল হিসাবে এমন তুলনায় বিস্ময় জাগতে পারে। কিন্তু ক্রিকেটের সরল অঙ্ক যে প্রায়ই জটিল হয়ে দাঁড়ায়! সহযোগী দেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, যদি সেটি দলকে জেতায়। গ্রুপ ম্যাচের সেঞ্চুরিও বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো স্মরণীয় হতে পারে, যদি সেই ইনিংস বিব্রতকর হারের কিনারা থেকে দলকে দেয় জয়ের স্বস্তি। তার পরও কোনো সংশয় থাকলে স্বয়ং মাহেলা জয়াবর্ধনের কণ্ঠেই শুনুন!
বিশ্বকাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি যেকোনো ক্রিকেটারেরই পরম আরাধ্য। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে সেই স্বপ্ন ছুঁয়েছিলেন জয়াবর্ধনে। মুম্বাইয়ে খেলেছিলেন ৮৮ বলে ১০৩ রানের অসাধারণ ইনিংস। কিন্তু ওয়াংখেড়ের ওই রাতে জয়াবর্ধনের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছিলেন গম্ভীর-ধোনিরা। কাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে সহাস্যে বললেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালের সেঞ্চুরির মতোই উপভোগ করেছি আজকের সেঞ্চুরি। খুব কঠিন পরিস্থিতি ছিল...।’
তা পরিস্থিতি কঠিন তো ছিলই। ছবির মতো সুন্দর ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালে কাল যখন উইকেটে গেলেন জয়াবর্ধনে, ‘পুঁচকে’ আফগানিস্তান আঁকছে জয়ের ছবি! ২৩৩ রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কা তখন ৩ উইকেটে ১৮! খানিক পর নেই আরেকটি উইকেট। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে নিয়ে সেই খাদ থেকে দলকে টেনে তুলেছেন সাবেক অধিনায়ক।
সেঞ্চুরি আর হারে শেষ করেছিলেন গত বিশ্বকাপ। এবার নিজের শেষ বিশ্বকাপ শুরু করেছেন শূন্য আর হারে! প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন বাজে শট খেলে। কালও তেমন কিছু হলে আরও তিমিরে নামত দল। এসব মুহূর্তেই অভিজ্ঞতা মহামূল্য হয়ে ওঠে! জয়াবর্ধনেও কঠিন পরিস্থিতি জয় করেছেন অভিজ্ঞতার ধারেই, ‘উইকেটে গিয়ে নিজেকে বলেছি প্রতিটি বল বুঝে খেলতে হবে। শট খেলি বা ছেড়ে দিই, প্রতিটি বলে দেখাতে হবে নিবেদন। উইকেট ধরে রাখতে হতো, স্কোরবোর্ডও সচল রাখার প্রয়োজন ছিল। চেয়েছি সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে খেলতে। চেষ্টা করেছি চাপে ভেঙে না পড়তে, শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকতে।’
শেষ পর্যন্ত অবশ্য উইকেটে থাকতে পারেননি। সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পরই ফিরেছেন থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে। পথের বাকিটুকু পার করিয়েছেন থিসারা পেরেরা। জয়াবর্ধনের কণ্ঠে সেই তৃপ্তি, ‘মানসিক শক্তির বড় একটা পরীক্ষা ছিল আজ। নিজের ইনিংসে তাই খুবই তৃপ্ত। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়েই এত কঠিন ম্যাচ হওয়ায় আমাদের জন্য এক দিক থেকে ভালোই হয়েছে। আমরা বুঝতে পেরেছি কোথায় কোথায় উন্নতি করতে হবে।’
কতটা উন্নতি করলেন জয়াবর্ধনেরা, বোঝা যাবে মেলবোর্নে, ২৬ ফেব্রুয়ারি। যেখানে শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। এএফপি, রয়টার্স, ক্রিকইনফো।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন