default-image

এখন কি তাহলে উদ্যাপনের সময়? হয়তো একটু তাড়াতাড়িই হয়ে যায়, তবে ভারতের গর্বিত হওয়ার অনেক কারণ আছে। এই জয়টা উপভোগ করার মতোই, ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট এখন নিজেদের পিঠ চাপড়াতেই পারে। কে ভেবেছিল, শিরোপাপ্রত্যাশী দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ভারত এমন দাপটে জিতবে? দক্ষিণ আফ্রিকারও এখন অনেক কিছু খতিয়ে দেখার আছে।
ম্যাচের আগে দলীয় ভারসাম্যে দক্ষিণ আফ্রিকাই এগিয়ে ছিল। পাকিস্তানের সঙ্গে জয়ে ভারত এককাট্টা হয়েছিল, কিন্তু এটা তো রীতিমতো চমক! তারা বলতে গেলে সবকিছুই ঠিকঠাক করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যর্থ হয়েছে প্রতিটি বিভাগেই।
মহেন্দ্র সিং ধোনির অধিনায়কত্বে বাড়তি একটা আগ্রাসন দেখা গেছে। সে এই ম্যাচের গুরুত্ব কতটুকু জানত, জানত জয়টা শিরোপা-যাত্রার পালে জোর একটা হাওয়া দেবে। বিশ্বের সেরা ক্রিকেট ভেন্যুগুলোর একটিতে ভারত নিজেদের শক্তিটা দেখাল।
ব্যাট করতে নামার পরই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ভারত। পরে ধোনি প্রয়োজনমতো আক্রমণ করেছে, স্লিপে ফিল্ডার রেখেছে, রবীন্দ্র জাদেজাকে দ্রুত আক্রমণে এনেছে, উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এক মুহূর্তের জন্য লাগাম ছুটে যেতে দেয়নি সে।
রোহিত শর্মা নিজেকে দুর্ভাগা মনে করতেই পারে। তবে শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি যেভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে সেটা দলের জন্য ভালো লক্ষণ। ওদের ব্যাটে দুর্দান্ত কিছু শট দেখেছি আমরা।
শিখরের ফেরাটা দুর্দান্ত। বিশ্বকাপের আগে নিজের সেরা ফর্মে না থাকার হতাশাটা সে ঝেড়ে ফেলেছে। পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে তার খেলায় আমি খুবই খুশি, তবে আমার মনে হয় আজ অজিঙ্কা রাহানের ভূমিকাও ছিল দারুণ গুরুত্বপূর্ণ।
অজিঙ্কা বুঝিয়ে দিয়েছে সে কেন আলাদা। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে শট খেলার ক্ষমতা আছে তার। পাকিস্তানের সঙ্গে সুরেশ রায়না কোহলিকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছিল। আজ অজিঙ্কার ইনিংস ভারতের চাপটা কমিয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে দেখে মনে হয়নি এই ম্যাচের জন্য ওদের কোনো পরিকল্পনা আছে। ইমরান তাহির একদিক থেকে নিখুঁত বোলিং করে গেলেও বাকিদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারার মতো বোলিং কেউই করতে পারেনি। ডেল স্টেইন ছিল তুরুপের তাস, কিন্তু সেও পারেনি প্রত্যাশা পূরণ করতে।
স্টেইন প্রথম স্পেলে এক-দুটি উইকেট নিয়ে নিলে দক্ষিণ আফ্রিকা সব সময়ই ভালো করে। কিন্তু সে রকম কিছু করতে পারেনি আজ (কাল)। শিখর, বিরাট ও অজিঙ্কা ওকে ভালোভাবেই সামলেছে। আমি তো অজিঙ্কার কাছ থেকে আরও কিছু দারুণ ইনিংস চাই। ওর কিছু শট ছিল অসাধারণ।
ব্যাটিংই ভারতের মূল শক্তি, তবে আমি খুশি যে বোলাররাও দুর্দান্ত করেছে। মোহিত শর্মা খুব দ্রুত খাপ খাইয়ে নিয়েছে। তার ওপর অবশ্যই চাপ ছিল, কিন্তু সেটির কোনো চিহ্ন তার মধ্যে দেখা যায়নি। বল তো ভালো করেছেই, অসাধারণ এক থ্রোতে রানআউট করেছে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। আমার মনে হয়, ওটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে, কারণ ডি ভিলিয়ার্স একাই ম্যাচ বের করে নিতে পারে।
স্পিনাররাও খুব ভালো করেছে। জাদেজা ছিল বেশ আঁটসাঁট, তবে অশ্বিনের আত্মবিশ্বাস দেখে ভালো লেগেছে। গত ম্যাচের চেয়ে তার বোলিং অনেক ভালো হয়েছে। গত কিছুদিনে তাকে ঠিক স্বচ্ছন্দ মনে হচ্ছিল না, কিন্তু এই ম্যাচে সে ছিল অন্য রকম। ও উইকেট নেওয়ার মতোই বল করেছে, দল ওর কাছ থেকে এটাই চায়।
‘মওকা, মওকা’ বিজ্ঞাপনটা আমরা সবাই বেশ উপভোগ করেছি। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সেটা হয়ে যাওয়ায় আমরা উচ্ছ্বসিত। ভারত এখন মুহূর্তটা উদ্যাপন করতে পারে! (পিচ সলিউশন)।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন