default-image

আজ স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের জন্মদিন। ১৯০৮ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসে জন্ম নেন এই ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। তর্কাতীত ভাবেই ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। টেস্টে ৯৯.৯৪ গড় নিয়ে নিজেকে অনন্য চূড়ায় নিয়ে গিয়েছেন। ব্র্যাডম্যানের ব্যাটিং নিয়ে কথা বলা রীতিমতো চর্বিত-চর্বনই। বিশেষ করে ৮০ ইনিংসে ৬৯৯৬ রান, ২৯ শতক এসব তো সবারই জানা। প্রিয় পাঠক, আসুন তাঁর ১০৭ তম জন্মদিনে জেনে নেওয়া যাক তাঁর জীবনের বিচিত্র সব ঘটনা।
৩ ওভারেই শতক
ঠিকই পড়ছেন, ১৯৩১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় এক খেলায় মাত্র তিন ওভারে ১০০ রান তুলেছিলেন। তখন এক ওভারে ৮ বল করা হতো। ব্র্যাডম্যান মাত্র ২২ বলেই ১০০ তোলেন সেদিন। ২২ বলের এই ঝড়ে ১০টি ছক্কা ও ৯টি চার হাঁকিয়েছিলেন তিনি। অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যান বাকি দুই বলে দুই রান তুলেছিলেন।
‘নো নার্ভাসনেস’
নার্ভাস নাইন্টিজে কাটা পড়ে অসংখ্য ব্যাটসম্যান শতক হাতছাড়া করেছেন বহুবার। কিন্তু স্যার ডন টেস্টে কখনো নব্বইয়ের ঘরে আউট হননি। মুড়িমুড়কির মতো শতক হাঁকাতেন যিনি, তাঁর অবশ্য নার্ভাস না হওয়ারই কথা।
একমাত্র অস্ট্রেলীয় হিসেবে ‘নাইট’
ক্রিকেট গ্রেটদের নাইটহুড দেওয়ার রেওয়াজ অনেক দিনের। ইংল্যান্ডের দেওয়া এই নাইটহুডে অলংকৃত হয়েছেন অনেক ইংলিশ ক্রিকেটার। বেশ কিছু ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানও পেয়েছেন স্যার উপাধি। কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বলেই হয়তো অস্ট্রেলিয়ান কোনো ক্রিকেটারকে এই সম্মান দিতে নারাজ ইংলিশ রাজপরিবার। কিন্তু ডন ব্র্যাডম্যানকে স্যার উপাধি দিতে বাধ্য হয়েছিল নাক উঁচু ইংরেজরাও।
ভয়ংকর এগারো
টেস্টে ৮০ বার ব্যাট করতে নেমে ২৯টি শতক। অর্থাৎ প্রতি তিন ইনিংসে কমপক্ষে একটি শতরানের ইনিংস। সেই ব্র্যাডম্যান কিনা টানা এগারো ইনিংসে কোনো শতক পাননি! এই সময়ে অর্ধশতও মাত্র তিনটি। ১৯৩৩ সালের প্রথম থেকে পরের দেড় বছর প্রবল রান খরায় পড়েছিলেন তিনি। রান খরা পর্ব শেষ করেছেন নিজের মতো করেই—পরপর দুই ইনিংসে ৩০৪ ও ২৪৪ রানের ইনিংস খেলে!
প্রথম গোল্ডেন ডাক
বডিলাইন সিরিজকে মনে করার অনেকগুলো কারণই আছে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে ব্র্যাডম্যানের গোল্ডেন ডাক। সিরিজের আগেই ২৯৯ রানে অপরাজিত থাকার এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। ফর্মের চূড়ান্ত পর্যায়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে বিল বোয়েস নামের এক চশমাধরীর বলে প্রথম বলেই বোল্ড হন স্যার ডন। আউটটিও ছিল বেশ অদ্ভুত। বোয়েসের একটি বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে প্লেইড অন হন তিনি।
ভক্ত ম্যান্ডেলা
কারাভোগের ২২ তম বছর তখন নেলসন ম্যান্ডেলার। তাঁকে দেখতে এসেছিলেন এক অস্ট্রেলিয়ান—ম্যালকম ফ্রেসার। ফ্রেসার অস্ট্রেলীয় জেনেই ম্যান্ডেলা তাঁর সঙ্গে প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন সেটা হচ্ছে, ‘ব্র্যাডম্যান বেঁচে আছে তো?’
‘যদি পারতাম!’
জীবনের শেষ ইনিংসে মাত্র চার রানের দরকার ছিল ক্যারিয়ার গড়কে ১০০-তে নেওয়ার জন্য। কিন্তু দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে আউট হয়ে যান তিনি। আউট হওয়ার পর অবিশ্বাস্য সেই রেকর্ডের কথা ভেবে প্রথম কথাই ছিল, ‘যদি পারতাম!’
৩৩৪ ‘অপরাজিত’
ডন ব্র্যাডম্যান নিজে ৩৩৪ রান করে আউট হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর এক উত্তরসূরি মার্ক টেইলর নিজে কিন্তু ৩৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯৯৮ সালে পেশোয়ার টেস্টে ৩৩৪ রান করার পর ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক টেইলর। কারণ? ব্র্যাডম্যানের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে নিজে নামটি লেখা থাকবে ইতিহাসে, এত বড় সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি টেইলর।
ডনের সম্মানে খেলাই পণ্ড!
১৯৪৮ সালে ভারতে মহারাষ্ট্র এবং কাঠিয়াওয়ারের মাঝে খেলা চলছিল। মহারাষ্ট্রের ব্যাটসম্যান নিম্বলকর ৪৪৩ করার পর ম্যাচ বাতিল করে দেন দুই আম্পায়ার ও দুই দলের খেলোয়াড়রা! কারণ প্রথম শ্রেণিতে তখনকার রেকর্ড ছিল ব্র্যাডম্যানের ৪৫২। ক্রিকেটের ‘মহান’ এই রেকর্ড ভাঙা ঠিক হবে না ভেবেই আম্পায়াররা খেলাটা বাতিল করেছিলেন।
নব্বইয়ের ঘরেই আউট
লেখার শুরুতেই বলা হয়েছে ক্রিকেটে কখনো নার্ভাস নাইন্টিজের শিকার হননি তিনি। কিন্তু জীবনের ইনিংসে সেই নব্বইয়ের ঘরেই ফিরতে হয়েছে তাঁর। ২০০১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি যখন মারা যান, এই কিংবদন্তির বয়স হয়েছিল ৯২। জীবনের শতক থেকে মাত্র ৮ বছর দুরে ছিলেন ক্রিকেটের সেরা এই ব্যাটসম্যান।
শুভ জন্মদিন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0