default-image

বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সবার শেষে খেলবে বাংলাদেশ। ২০১৯ বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে অবশ্য এ দুই দলকেই পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মাঝে পাকিস্তান ম্যাচটি অবশ্য প্রস্তুতিতে কোনো অবদান রাখতে পারেনি। বৃষ্টির কারণে যে টসই হয়নি আজ কার্ডিফে।

আজকের ম্যাচে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে চেয়েছিল দল। মূল পরীক্ষাটা ছিল একাদশে অনিশ্চিত খেলোয়াড়দের। বিশ্বকাপের আগে দলে নিজেদের জানান দেওয়ার সুযোগ এসব প্রস্তুতি ম্যাচ। সাব্বির রহমান তাঁদেরই একজন। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে মূল ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একমাত্রই সাব্বিরেরই মনের মতো ব্যাটিং অনুশীলন করা হয়নি।

ব্যাটিং অনুশীলন করতে পারেননি বলে কিছুটা হতাশ সাব্বির। সেটা লুকানোর চেষ্টাও করেননি এই ব্যাটসম্যান। দলে জায়গা নিশ্চিত করার জন্য যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন, তাতে প্রতিটি ম্যাচই যে তাঁর জন্য অগ্নিপরীক্ষা, ‘ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাটিং করতে পারিনি। টপ অর্ডার ভালো খেলেছে। একটা সুযোগ পেয়েছি, সেটা কাজে লাগাতে পারিনি। এই প্রস্তুতি ম্যাচটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরের ম্যাচটাও গুরুত্বপূর্ণ। খেলতে পারিনি, তাই একটু হতাশ। দল খুব ভালো অবস্থায় আছে, আমিও আশা করি ভালো অবস্থায় আছি। অনুশীলন করছি, আবহাওয়া ভালো আছে। যে উইকেটে খেলা হবে, তেমন উইকেটে অনুশীলন করেছি। দেখি দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে কেমন হয়।’

সাব্বির একা নন, দলেরও অনুশীলনে বাদ সেধেছে বৃষ্টি। আয়ারল্যান্ডে কাটানো দুর্দান্ত সময়টা এ সময় টনিক হিসেবে কাজ করছে দলের জন্য। আপাতত সে স্মৃতি আর ভারতের বিপক্ষে মঙ্গলবারের প্রস্তুতি ম্যাচকে বিশ্বকাপের জন্য ভরসা মানছেন সাব্বির, ‘একটু হতাশ, কারণ আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ম্যাচ খেলার জন্য। বৃষ্টির ওপর তো কারও হাত নেই, খেলাটা হয়নি। হলে ভালো হতো। তবু আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো। এবং ইদানীং বেশ ভালো খেলছি। তবে ম্যাচ হয়নি বলে অত ভাবার কিছু নেই, ভারতের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। ওই ম্যাচেই আমরা বিশ্বকাপের পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে পারব।’

আয়ারল্যান্ডে ব্যাটিং করতে না পারলেও সাব্বিরের আত্মবিশ্বাস আছে ভালো করার, ‘আমি সব সময় অনুশীলনে বিশ্বাস করি। অনুশীলনে যদি ভালো করি ম্যাচের জন্য বিশ্বাস বাড়ে। ম্যাচ যেহেতু খেলতে পারিনি, আমাকে অনুশীলনেই সেটা খুঁজে নিতে হবে। সব সময় চ্যালেঞ্জ নিয়েই খেলেছি। এবারও আমার জন্য সহজ হবে না। শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব, সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

সেরাটা না দিয়ে উপায় নেই। দলে সাত নম্বর পজিশনের জন্য অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। পেসবান্ধব কন্ডিশনে বেশি পেসার নিয়ে দল খেলতে চাইলে ওই পজিশনের জন্য লড়াই করবেন তিনজন। এদের মধ্যে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ২৩ বলে ফিফটি করা মোসাদ্দেক আছেন। সাব্বির অবশ্য চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। সেভাবেই তো খেলছেন গত কয়েকটি বছর, ‘সব সময় মনে করি, এটা আমার শেষ ম্যাচ। এখান থেকে কিছু অর্জন করেই পরের ম্যাচে আমাকে জায়গা করে নিতে হবে। এরপর পরের ম্যাচ। মনে করি এটা শেষ ম্যাচ, এখান থেকেই ভালো করতে হবে। এখানেই চ্যালেঞ্জ জয় করতে হবে।’

চ্যালেঞ্জ জয় করার জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা অবশ্য খুঁজতে হয় না তাঁকে, ‘নিউজিল্যান্ডের সেঞ্চুরি অবশ্যই আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়। দেশের বাইরের সব ভালো ইনিংসের ভিডিও দেখি। নিউজিল্যান্ডের ওই ইনিংস অনেক অনুপ্রেরণা দেয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। চেষ্টা করব ওটা ধরে রাখার।’ দলের প্রয়োজনে প্রায় হারিয়ে যেতে বসা অলরাউন্ডার সত্তাকেও জাগিয়ে তুলতে চাইছেন সাব্বির, ‘এ কন্ডিশনে স্পিন বোলিং কঠিন, কারণ খুব বেশি টার্ন নেই। শুধু আমাদের নয়, সব দলের স্পিনারের জন্যই কঠিন কন্ডিশন। ব্যাটসম্যানকে আটকে রাখার জন্য যা করা দরকার, আমি সেটাই করার চেষ্টা করব। যত কম রান দেওয়া যায়।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন