বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ক্লাবের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়কে ফর্মের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ছেড়ে দেওয়ার পর গুছিয়ে উঠতে সময় লাগে। বার্সেলোনারও সময় লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ক্লাবটির সমর্থকদের বেশি পোড়াচ্ছে দলটির খেলার ধরন। পাসিং আর বলের দখল রাখার আদর্শ ভুলে এখন চোখে জ্বলুনি ধরা ফুটবল খেলাচ্ছেন কোচ রোনাল্ড কোমান। এ নিয়ে সমর্থকদের সমালোচনাকে পাত্তাই দিচ্ছেন না কোমান। কদিন আগেই বলেছিলেন, ‘তাঁর কারণেই এখনো ভবিষ্যৎ আছে বার্সেলোনার।’

ভবিষ্যতের নিদর্শন এখনো দেখা যাচ্ছে না। তবে কোমান অতীতের স্মৃতিচারণা করেছেন তৃপ্তি নিয়ে। মেসির সময়টায় বার্সেলোনা কেমন ছিল, এ নিয়ে কথা বলেছেন ডাচ ম্যাগাজিন ভোয়েতবল ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে, ‘মেসি সবকিছু আড়াল করে দিত। সে এত ভালো ছিল এবং সে জিতত। ওর আশপাশে ভালো খেলোয়াড় ছিল, সন্দেহ নেই। কিন্তু পার্থক্য গড়ে দিত সে। ওর কারণেই বাকি সবাইকে আরও ভালো মনে হতো। এটা সমালোচনা নয়, শুধু আমার পর্যবেক্ষণ।’

default-image

কোমান কী তাহলে বলতে চাইছেন, বার্সেলোনায় এখন যাঁরা আছেন, মেসির কারণে আগে তাঁদের অনেক ভালো মনে হলেও আসলে তাঁরা অতটা ভালো নন? এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু না বলে মেসি কীভাবে পার্থক্য গড়তেন, সেদিকেই নজর দিয়েছেন কোমান, ‘আমি জানতাম সে কত ভালো। কিন্তু প্রতিদিন সেটা কাছ থেকে দেখতে পারাটা দারুণ। একজন ফুটবল খেলোয়াড়কে যা শেখাতে চান, পরিস্থিতি বুঝতে পারা, চাপের মধ্যে বল নেওয়া, বলের গতিনিয়ন্ত্রণ, গোল করা, মেসির ক্ষেত্রে সবকিছুই দশে দশ, এটা স্বাভাবিক না, মোটেও স্বাভাবিক না!’

মেসি অনুশীলনকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখতেন, সেটাও জানিয়েছেন কোমান, ‘আমরা যখন ফিনিশিং নিয়ে কাজ করতাম। কয়েকজন সহজভাবে শুরু করত, একটু মজা করত। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে সব সময়ই ছিল: বুম, বুম, বুম, বুম। কোনো দেখনদারি কিছু নেই, যা করছে সবই কাজের এবং সবকিছুতেই জেতার চেষ্টা করত।’

default-image

অনুশীলনে মেসি যে শুধু নিজেই সর্বোচ্চ দিতেন, তাই নয়। অন্যদের কাছেও সর্বোচ্চটাই চাইতেন। কোমানের ভাষায়, ‘আমরা অনুশীলনের আগে সব সময় রোন্ডো (গোল হয়ে দাঁড়িয়ে একজনকে মাঝে রেখে পাস দেওয়ার খেলা) খেলতাম। যদি ২০ বারের বেশি বল পাস দেওয়া হতো, যারা মাঝে থাকত তাদের একবার বেশি দৌড়াতে হতো। টানা তিনবার এ ঘটনা ঘটলে সবাই দুই লাইনে দাঁড়াত। আর যে দুজন ব্যর্থ হয়েছে বল ধরতে, তাদের এই লাইনের মাঝ দিয়ে যেতে তো। সবাই তখন তাদের মাথায় চাটি মারত। আমি মেসিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তার সঙ্গে কখনো এমন কিছু হয়েছিল কি না। সে বলেছিল, “হ্যাঁ, একবার।” এতগুলো বছরে! ও দলে থাকা অবস্থায় অভিজ্ঞরা কখনো তরুণদের কাছে হারেনি। এ ঘটনা মাত্র একবার ঘটেছিল আর মেসি এ নিয়ে সাত দিন রেগে ছিল। সত্যিকার অর্থেই স্বৈরাচার!’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন