বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এর আগে পাঁচ ম্যাচে ৩২১ মিনিট খেলে গোল করা তো পরের কথা, গোল করাতেও পারেননি। অবশেষে খরা ঘুচল কাল নঁতের বিপক্ষে, ঘুচল চেনা ঢঙেই।

৮৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে কিলিয়ান এমবাপ্পের কাছ থেকে পাস পেলেন মেসি। তাঁর সামনে নঁতের এক ডিফেন্ডার ছিল, পায়ের নাচনে তাঁকে পাশ কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে মেসির বাঁকানো শট জড়িয়ে যায় জালে। উদ্‌যাপনে মেসির উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, গোলটা কতটা স্বস্তি দিয়েছে তাঁকে। পার্ক দে প্রিন্সেসের গ্যালারিতে পিএসজির সমর্থকদের বাঁধভাঙা উদ্‌যাপন আর ‘মেসি’, ‘মেসি’ রব বলছিল, তাঁরাও লিগে মেসির একটা গোলের অপেক্ষায় ছিলেন।

মেসি নিজেও কি ছিলেন না? ম্যাচ শেষে তাঁর উচ্ছ্বাস তা-ই বলে গেল। আমাজন প্রাইমে ম্যাচ শেষের সাক্ষাৎকারে মেসির কথা, ‘আমি খুশি। আমরা গোলের অনেক সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু ওদের গোলকিপার দারুণ দক্ষতায় কয়েকটি গোল বাঁচিয়েছে। কিন্তু আমরা জয় না পাওয়ার ভয় করিনি, শেষ পর্যন্ত জিতেছি।’

default-image

পিএসজি যে জিতেছে, জয় না পাওয়ার ভয় যে শেষ পর্যন্ত জেঁকে বসেনি, তার পেছনে মেসির অবদান অনেক। ২ মিনিটে এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যাওয়া পিএসজি প্রথমার্ধে দারুণ খেলেছে, অনেক সুযোগও পেয়েছে, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। নঁতের গোলকিপারও দারুণ কিছু সেভ করেছেন।

এরপর দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে, ৬৫ মিনিটে নাভাসের লাল কার্ড। বদলি গোলকিপার সের্হিও রিকোকে নামানোর জন্য তখন নেইমারকে তুলে নেন পিএসজি কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। ব্রাজিলের হয়ে খেলতে গিয়ে চোট পাওয়া নেইমারকে নিয়ে হয়তো ঝুঁকি নিতে চাননি পচেত্তিনো।

কিন্তু ১০ জনের হয়ে পড়া পিএসজি নেইমারও উঠে যাওয়ার পর আরও বড় ধাক্কা খায় ৭৬ মিনিটে। রান্দাল কোলো মুয়ানির গোলে সমতা ফেরায় নঁতে। ম্যাচের বাকি ১৫ মিনিটে গোল পাবে কি না পিএসজি, এই শঙ্কা যখন পার্ক দে প্রিন্সেসে, তখন প্রথমে ভাগ্য আর পরে মেসির ছোঁয়ায় জয় আসে।

৮১ মিনিটে মেসির পাস আটকাতে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন নঁতে ডিফেন্ডার দেনিস আপিয়াহ, কিন্তু লেফট উইংয়ের উদ্দেশে বাড়ানো সেই পাস আপিয়ার পায়ে লেগে অবিশ্বাস্যভাবে ঢুকে গেল জালে। নঁতে গোলকিপারের কিছু করারই ছিল না। এরপর ৮৭ মিনিটে মেসির ঝলকে হাঁপ ছাড়ে পার্ক দে প্রিন্সেস।

হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন মেসিও। লিগে আগের ৫ ম্যাচে খেললেও চোটের কারণে পুরো ম্যাচ খেলতে পারেননি এর তিনটিতেই। একটিতে বদলি হিসেবে নামেন, দুটিতে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন আগেভাগে। নতুন ক্লাবে, নতুন কোচের কৌশলে, নতুন সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ও ছিল। কিন্তু সব ছাপিয়ে দিন শেষে লিগে মেসির গোলখরাই ছিল শিরোনামে।

সেটি অবশেষে ঘোচাতে পারার আনন্দ মেসির, ‘প্রথম গোলটা করতে পেরে ভালো লাগছে। তা-ও পার্ক দে প্রিন্সেসে, আমাদের সমর্থকদের সামনে। অবশ্য চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল পেয়েছি আমি, তবে লিগে গোল করতে উন্মুখ ছিলাম।’

পিএসজি কোচ পচেত্তিনোও খুশি দলের মহাতারকার গোলখরা কেটে যাওয়ায়, ‘হ্যাঁ, এটা (মেসির গোল পাওয়া) গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে ম্যাচে আমাদের আরও গোল পাওয়া উচিত ছিল। (নাভাসের লাল কার্ডের পর) খেলোয়াড়েরা নিজেদের দৃঢ়তা দেখিয়েছে।’ পিএসজির খেলায় উন্নতির বিষয়ে আর্জেন্টাইন কোচের কথা, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে, মাঠে একে অন্যের পাশে খেলার ক্ষেত্রে আরও সহজ বোধ করার জন্য সময় দিতে হয়।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন