লিভারপুল তারকা মোহামেদ সালাহ
লিভারপুল তারকা মোহামেদ সালাহছবি: টুইটার

মোহামেদ সালাহর সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তাঁকে থাকতে হচ্ছে মাঠের বাইরে। দেশ ও ক্লাবের হয়ে খেলতে পারছেন না।

নিজেকে রাখতে হচ্ছে গৃহবন্দী। আর এই করোনায় আক্রান্ত হয়েই সমালোচনা সইতে হচ্ছে লিভারপুলের মিসরীয় ফরোয়ার্ডকে।

গুঞ্জন আছে, ভাইয়ের বিয়েতে মাস্ক ছাড়া গিয়ে করোনা বাধিয়েছেন সালাহ। এ জন্য তাঁর সমালোচনা করেছেন মিসরেরই সাবেক স্ট্রাইকার মিডো।

বিজ্ঞাপন
default-image

আহমেদ হোসামকে মিডো নামেই চেনে ফুটবল বিশ্ব। আয়াক্সের হয়ে ডাচ লিগ জেতা মিডো মিসরের জার্সিতে ৫১ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন। আল-নাহার টিভির সঙ্গে আলাপচারিতায় সালাহর সমালোচনা করেন তিনি।

সালাহর ভাই নাসর সালাহর বিয়ে হয়েছে কয়েক দিন আগে মিসরের রাজধানী কায়রোতে। ভাইয়ের বিয়ে উদ্‌যাপন করে সালাহ মিসরের ক্যাম্পে যোগ দেবেন, টোগোর সঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলবেন, এমনটাই কথা ছিল। কিন্তু ওই উদ্‌যাপন করতে গিয়েই ঝামেলা বাধিয়েছেন সালাহ।

সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে কোভিড প্রটোকল তেমন মেনে চলেননি লিভারপুলের মিসরীয় ফরোয়ার্ড। মাস্ক পরেননি, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেননি। উল্টো মাস্ক ছাড়াই আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নেচে-গেয়ে সময় কাটিয়েছেন।

নাচের সেই ভিডিওগুলো আবার ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই অনুষ্ঠান থেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সালাহ, সেটি নিশ্চিত করে তো আর বলার উপায় নেই, তবে অনুমান তেমনই।

বিজ্ঞাপন
default-image

সালাহর এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাণ্ডের মাশুল দিতে হচ্ছে লিভারপুল ও মিসরকে। ইংলিশ ক্লাবটির স্কোয়াড এ মুহূর্তে চোটে জর্জরিত। এর মধ্যে সালাহর মতো তারকাকে না পাওয়াটা তাদের জন্য বড় ক্ষতি।

মিসরের জন্যও ঠিক তাই, জাতীয় দলের ক্যাম্প তাঁকে পাচ্ছে না। আফ্রিকান নেশনস কাপের বাছাইপর্বে খেলছে মিসর। এমন পরিস্থিতিতে মিডো সালাহর সমালোচনার পাশাপাশি তাঁর ক্যারিয়ার যাঁরা সামলাচ্ছেন, তাঁদেরও ধুয়ে দিয়েছেন।

মিডো বলেন, ‘জানি, নিজের কথার জন্য সমালোচনার শিকার হতে পারি। কিন্তু কথাটা বলতেই হবে। মিসর জাতীয় দলের ম্যাচের কয়েক দিন আগে ভাইয়ের বিয়েতে গিয়ে বড় ভুল করেছে মোহামেদ সালাহ। করোনায় আক্রান্ত হলে তার ফল কী হতে পারে, সেটা পাত্তা না দিয়ে অবিবেচকের মতো কাজ করেছে সালাহ। মিসর যেমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাকে পাচ্ছে না, তেমনি তার সতীর্থদের জন্য বিষয়টি ঝুঁকির। ভাইয়ের বিয়েতে তার যাওয়া উচিত হয়নি, বিশেষ করে এমন সময়ে। বিয়েতে প্রায় ৮০০ লোক ছিলেন, প্রায় অর্ধেকের বেশি লোক সালাহকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছেন।’

default-image

আরও একটি বিষয় ধরিয়ে দিয়েছেন মিডো, ‘সালাহর এই অবহেলার পেছনে যারা দায়ী, তাদের চুপ করে থাকাটাও আরেকটি বিষয়। এতে বোঝা যায়, জাতীয় দলের চেয়ে এখনো খেলোয়াড় বড় এবং এতে ব্যর্থতাই বয়ে আনবে।’

এত মানুষের ভিড়ে মাস্ক ছাড়া কেন গিয়েছিলেন সালাহ, সেই প্রশ্নও উঠছে। যদিও কায়রোর মেয়র মাহের শেতায়েহ এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

গোল ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেতায়েহ বরং সালাহর পাশেই দাঁড়িয়েছেন, ‘যা যা বলা হচ্ছে সব মিথ্যা। এক বিয়েতে কেউ একজনকে পাঁচবার জড়িয়ে ধরে না। এক ঘণ্টার বিয়ের অনুষ্ঠানে সালাহ অনেক সতর্ক ছিল। ও কখনোই মাস্ক খোলেনি মুখ থেকে, ছবি তোলার সময়টুকু ছাড়া।’

যদিও ভিডিওতে দেখা গেছে, নাচের একটা পর্যায়ে সালাহর মুখে মাস্ক ছিল না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0