প্রথমার্ধে পেনাল্টি না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এমবাপ্পে।
প্রথমার্ধে পেনাল্টি না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এমবাপ্পে। ছবি: রয়টার্স

রেফারিং নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই আলোচনা ওঠে। ম্যাচ অফিশিয়ালদের সূক্ষ্ম ভুলত্রুটি এড়ানোর জন্যই ফিফা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পদ্ধতি চালু করেছে। কিন্তু সে পদ্ধতির সুফল খুব কম দলই পাচ্ছে। উল্টো প্রায় প্রতিদিনই নতুন করে বিতর্ক জন্ম দিচ্ছেন মাঠের রেফারি ও ভিডিও রেফারিদের সমন্বিত প্রয়াস। প্রায় প্রতিদিনই এমন ভুলে কপাল পুড়ছে কোনো না কোনো দলের। কিলিয়ান এমবাপ্পের ধারণা, তাঁর দল পিএসজিই রেফারিদের সিদ্ধান্তের বলির পাঁঠা হচ্ছে বারবার।

গত শনিবার নঁতের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল পিএসজি। চোটাঘাতে ক্রমশ ছোট হয়ে ওঠা এক দল নিয়ে খেলতে নেমেছিল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। দলের মূল তারকা নেইমার আগের ম্যাচেই চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন তিন সপ্তাহের জন্য। এমন ম্যাচে দলকে জয় এনে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ করেও লাভ হচ্ছিল না এমবাপ্পের। প্রথমার্ধে গোলের দেখা পাচ্ছিল না পিএসজি। এর দায় রেফারির কাঁধেই ফেলেছিলেন ফরাসি তারকা। আর সে অভিযোগ শুনে এমবাপ্পেকে অফিসে ডেকে পাঠিয়েছিলেন রেফারি।

বিজ্ঞাপন

নঁতের মাঠে সেদিন নেইমার, আনহেল দি মারিয়া, মাউরো ইকার্দি ও মার্কো ভেরাত্তিকে ছাড়া নেমেছিল পিএসজি। মইজে কিন ও পাবলো সারাবিয়াকে আক্রমণের সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু প্রথমার্ধে কোনোভাবেই নঁতের রক্ষণ ভেদ করতে পারছিলেন না তাঁরা। বিরতির সময় হতাশা লুকাতে পারেননি পিএসজির খেলোয়াড়েরা। প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টির জোরালো আবেদন করেছিলেন এমবাপ্পেরা। কিন্তু সে আবেদন ধোপে টেকেনি। রেফারি কিংবা ভিএআরের কাছে সেটা পেনাল্টি দেওয়ার মতো অপরাধ বলে মনে হয়নি।

বিরতির সময় এ সময় তাই গজগজ করে মাঠ ছাড়ছিলেন এমবাপ্পে। বেশ জোরে জোরেই বলছিলেন, ‘প্রতিবছরই একই ঘটনা। তাঁরা আসে এবং সব সময় আমাদের কাছে মিথ্যা বলে। প্রতিবার তাঁরা তিন ঘণ্টার এক মিটিং সেরে নেয়। এভাবে আমাদের কাছে মিথ্যা বলাটা ঠিক নয়, রেফারি।’ ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি টেলিভিশন চ্যানেল স্পোর্টস কানাল প্লুসের সুবাদে জানিয়েছে, পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া রেফারি হাকিম বেন এল-হাজ সেটা শুনতে পেয়েছিলেন। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে রেফারিরা এসব কথা পাত্তা দেন না। শুনেও না শোনার ভান করেন, এড়িয়ে যান।

default-image

এল-হাজ নিজেকে একটু ব্যতিক্রম বলেই চেনালেন। এমবাপ্পের অভিযোগ শুনে তাঁকে ডেকে নিয়ে গেছেন। রেফারিদের নির্ধারিত কক্ষে নিয়ে এমবাপ্পের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছেন। কথোপকথনে কী হয়েছে সেটার বিস্তারিত আর জানাতে পারেনি আরএমসি স্পোর্টস বা কানাল প্লুস। তবে এ দুজনের সঙ্গে সে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন পিএসজি অধিনায়ক মারকিনিওস।

এমন আলোচনার পরই মাঠে জ্বলে উঠেছেন এমবাপ্পেরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করেছেন আন্দের এরেরা। মজার ব্যাপার, যেই পেনাল্টি পাওয়া না পাওয়া নিয়ে এত কথা, সেই পেনাল্টিও পেয়েছে পিএসজি। ৬৫ মিনিটে নিজের আদায় করা পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন এমবাপ্পে। সে পেনাল্টি পেয়ে রেফারির প্রতি ক্ষোভ কমেছিল কি না, সেটাও অবশ্য জানা যায়নি!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0