পাঁচ দিন হলো ৪ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আর্সেনালে তাঁর দলবদল চূড়ান্ত হয়েছে। গত কদিনের অনুশীলনের পর গতকাল আর্সেনালের জার্সিতে প্রথম মাঠে নামা। নেমে যা করেছেন জেসুস, তাতে আর্সেনাল তো বটেই, আশায় বুক বাঁধবেন ব্রাজিলের সমর্থকেরাও।

বিরতির পরই তাঁকে মাঠে নামান আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা, ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল। তা-ও পড়ে পাওয়া গোল নয়, গোলের পথে আক্রমণের শুরু ও শেষ—দুটিই জেসুসের পায়ে। নুরেমবার্গ বক্সের ডান দিকে বল পেয়ে দারুণ ডজে এক খেলোয়াড়কে কাটালেন, এরপর বক্সের দিকে ছুট! বক্সের মাথায় এক সতীর্থের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর দুরূহ কোণ থেকে দারুণ শটে গোল! আর্সেনাল সমর্থকদের রোমাঞ্চিত করার সেটি মাত্র শুরু জেসুসের।

মাঠে যতক্ষণ ছিলেন, পুরোটা সময় ব্রাজিলিয়ান ছন্দে প্রতিপক্ষকে ভুগিয়েছেন। কখনো পায়ের ফাঁক গলে বল বের করে নিয়েছেন, কখনো শরীরের দুলুনিতে ঘোল খাইয়েছেন, তো কখনো আলতো স্পর্শে প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে সতীর্থের পথে বল এগিয়ে দিয়েছেন জেসুস।

ব্রাজিলেরই তরুণ উইঙ্গার গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়াও বেশ নজর কেড়েছে। ৫৮ মিনিটে মার্তিনেল্লির ক্রসেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন জেসুস। বাঁ দিক থেকে মার্তিনেল্লির ক্রসে জেসুস মাথা ছোঁয়ানোর অবস্থানে চলেই গিয়েছিলেন, মাথায় লাগলেই গোলের দারুণ সম্ভাবনা। কিন্তু এমন অবস্থায় নুরেমবার্গের এক ডিফেন্ডার এসে পা বাড়িয়ে বলটার দিক বদলানোর চেষ্টা করলেন।

তাতে নুরেমবার্গের লাভ বিশেষ একটা হলো না, ক্ষতি যা একটু জেসুসেরই হলো। বল জেসুসের মাথায় লাগেনি, কিন্তু নুরেমবার্গ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগেই জালে। আত্মঘাতী গোল!

default-image

তবে দ্বিতীয় গোলটা ৭৫ মিনিটে ঠিকই পেয়েছেন জেসুস। সেটিও কম মুগ্ধতাজাগানিয়া নয়। এবারও উৎস বাঁ দিক থেকে মার্তিনেল্লির ক্রস, তবে এবার সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকারের দক্ষতায় প্রতিপক্ষকে এড়িয়ে বলে ফ্লিক জেসুসের। গোল!

একটামাত্র ম্যাচের ৪৫ মিনিট, তা-ও জার্মান দ্বিতীয় বিভাগের একটা দলের বিপক্ষে—জেসুসের দুই গোল নিয়ে মাতামাতি হয়তো বেশি হওয়া উচিত নয়। তবে ইংল্যান্ডে নিজেদের ফিরে পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর আর্সেনাল আর নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্ন সাজিয়ে কাতার বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হতে থাকা ব্রাজিলের জন্য জেসুসের নতুন শুরুটা আশা না জাগিয়েও পারে না।

ম্যানচেস্টার সিটিতে পাঁচ বছরে কখনো সের্হিও আগুয়েরোর মতো একজনের উপস্থিতির কারণে, তো কখনো কোচ পেপ গার্দিওলার কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় ক্লাবের প্রথম পছন্দের স্ট্রাইকার হয়ে ওঠা হয়নি জেসুসের। ব্রাজিল দলেও একাদশে এখন আর তাঁর জায়গা নিশ্চিত নয়। বিশ্বকাপের বছর বলেই এবার নিয়মিত খেলার দরকার ছিল জেসুসের, ম্যান সিটি আর্লিং হরলান্ড আর হুলিয়ান আলভারেজকে দলে নেওয়ায় সেখানে সুযোগ আরও কমে যেত। সে কারণেই জেসুসের দল বদল।

নতুন নাম্বার নাইনের এমন শুরু আর্সেনালের জন্য দারুণ কিছুরই ইঙ্গিত। গত মৌসুমে অনেকটা সময় পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিতে পারেনি আর্তেতার দল, তার একটা বড় কারণ প্রতিপক্ষ গোলপোস্টের সামনে গোলশিকারির অভাব।

ব্রাজিল দলেও তো এমন একজনের বেশ দরকার। নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, আন্তনি, পাকেতাদের নিয়ে এখন ব্রাজিলের আক্রমণে প্রতিভাবান ফুটবলারের অভাব নেই, কিন্তু এঁদের কেউই তো জাত স্ট্রাইকার নয়। কেউ উইঙ্গার, কেউ প্লেমেকার। স্ট্রাইকার হিসেবে এক রিচার্লিসনই আছেন, কিন্তু তিনিও ধারাবাহিক নন। এতে যা হয়, ব্রাজিলের আক্রমণে গতি থাকে, কারিকুরি থাকে, কিন্তু তৈরি করা সুযোগের অনুপাতে গোল আসে না।

ব্রাজিল কোচ তিতের একসময়ের প্রিয়পাত্র জেসুসের ছন্দ খুঁজে পাওয়া কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে বাড়তি অস্ত্রই জোগাবে। বড় ম্যাচগুলোতে বক্সে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার মতো, সুযোগ পেলে সেগুলোকে কাজে লাগানোয় ধারাবাহিকতা দেখানোর মতো একজন স্ট্রাইকারের অভাবই যে এই ব্রাজিলের আক্রমণে একমাত্র দুর্বলতা।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন