বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ইএসপিএনক্রিকইনফোতে নিজের কলামে অধিনায়কত্বের দুই দিক নিয়ে কথা বলেছেন চ্যাপেল ভাইদের বড়জন। সেখানে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে নিয়ে উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছেন। করোনাবিধির কারণে অ্যাডিলেড টেস্ট খেলতে পারছেন না কামিন্স। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই কামিন্সের অধিনায়কত্ব যতটুকু দেখেছেন, তাতে সন্তুষ্ট চ্যাপেল। তাঁর ধারণা, যত দিন যাবে, আরও ভালো অধিনায়ক হবেন কামিন্স। কারণ, চ্যাপেলের চোখে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারা ও সতীর্থদের উদ্বুদ্ধ করার ক্ষমতা ভালোই আছে কামিন্সের।

এর উল্টো দিকেই নাকি আছেন রুট। ইংলিশ অধিনায়কের মধ্যে কোনো ধরনের নেতৃত্বগুণই খুঁজে পাচ্ছেন না চ্যাপেল। কলামে লিখেছেন, ‘অসাধারণ অধিনায়কত্বের বিপরীত জিনিসটার সংজ্ঞা কী? কারণ, জো রুটের অধিনায়কত্ব নিয়ে কথা বলতে গেলে হয়তো ওই শব্দেরই দরকার পড়বে। রুট অসাধারণ ব্যাটসম্যান, কিন্তু বাজে অধিনায়ক। তাকে সাধারণ ও দুর্ভাগা অধিনায়ক বলে পরিচয় করিয়ে দিলে একদম অন্যায় হবে না। কল্পনাশক্তি নেই, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অধিনায়কত্ব করছেন—এমন কারও ভাগ্যও ভালো হতে কমই দেখা যায়। কপাল ভালো হয় ভাগ্যবান অধিনায়কদের। কারণ, তার খেলোয়াড়েরা বিশ্বাস করে, এই অধিনায়ক অলৌকিক কিছু ঘটাতে জানেন। আর এই বিশ্বাসই ফল নিয়ে আসে।’

default-image

ইয়ান চ্যাপেলের ধারণা, এই ইংল্যান্ড দল দুর্ভাগা। এর পেছনে রুটের বাজে অধিনায়কত্বের প্রভাবই দেখছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক, ‘অ্যাডিলেডে আবার দেখা গেল দুর্ভাগ্য রুটের দলকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ইংল্যান্ডের বোলাররা বারবার ব্যাটসম্যানদের পরাস্ত করছে, কিন্তু এত কষ্টের ফল দেখাতে পারছে না। ওদিকে ইংলিশ নির্বাচকেরা যে গড়পড়তাতেই সন্তুষ্ট, সেটা জস বাটলারের ক্ষেত্রেই টের পাওয়া যায়। সে ওদের সেরা উইকেটকিপার নয়, তবু ওকে আবার দলে নেওয়া হয়েছে এবং সে ব্যাখ্যাতীত সব ভুল করেছে।’

অ্যাশেজে রুটের নেতিবাচক অধিনায়কত্ব প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে একপর্যায়ে আট ও নয়ে নামা ব্যাটসম্যান ব্যাট করছিলেন। এ পর্যায়েও সীমানায় আট ফিল্ডার রেখেছেন রুট! মজার ব্যাপার, এমন নেতিবাচক ফিল্ডিং সাজিয়েও এক ওভারে তিনটি চার খাওয়া আটকাতে পারেননি। চ্যাপেলের দাবি, ইংল্যান্ড দলের বাকিরাও রুটের অক্ষমতা টের পেয়ে গেছেন, ‘রুটের দল তাকে অপছন্দ করে এমন নয়, বরং উল্টো। কিন্তু সে এত এত ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা এখন নির্ঘাত ভাবে, “ওহ, না, আবারও!”’

default-image

রুটের একের পর এক ভুলের বিশদ ব্যাখ্যাও দিয়েছেন চ্যাপেল, ‘সে অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক নয় এবং এটা বোঝা যায়, বহুবার তার দল ভালো অবস্থানে গিয়েও কাজটা শেষ করে আসতে না পারায়। ব্রিসবেনে ৪২৫ রান দেওয়ার পর ইংল্যান্ড অ্যাডিলেডেও একই ভুল করেছে এবং ৪৭৩ রান দিয়েছে। রুটের দক্ষতার অভাব টের পাওয়া গেছে আরেকটি ঘটনায়। যখন কোনো অঞ্চলে ক্যাচের মতো উঠেছে, এরপর রুট সে জায়গায় ফিল্ডার নিয়ে গেছে। রিচি বেনো যেমন বলতেন, একজন ভালো অধিনায়ক সব সময় খেলা থেকে দুই ওভার এগিয়ে থাকে, না হলে সে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে। একজন দায়িত্বশীল অধিনায়কের কাছে একটা লড়াকু দল থাকে, যারা অধিনায়কের জন্য খেলতে চায়।’

রুটকে নিজের অধিনায়কত্ব বাঁচাতে হলেও চিন্তাধারা বদলাতে বলেছেন চ্যাপেল। তাঁর ধারণা, এভাবে চলতে থাকলে ইংলিশ ক্রিকেটে রুট যে ছাপ রেখে যাবেন, সেটা ইতিবাচক কিছু হবে না, ‘সিরিজে ফিরতে হলে রুটকে অ্যাডিলেড টেস্টে কোনো উপায় খুঁজে বের করতেই হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্রশ্নবিদ্ধ বোলিং ও নেতিবাচক কৌশলে আবার সুযোগ হাতছাড়া হতে দিয়েছে তারা। রুট যত দিন দায়িত্বে থাকবে, তত দিন “ওহ, না, আবারও”ই হয়তো নিয়মিত হয়ে উঠবে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন