default-image

কিংবদন্তিরা অমর। মৃত্যুর পরও তাঁদের মনে রাখা হয়। জন্মদিন, মৃত্যুদিন কিংবা জীবনের বিশেষ কোনো লগ্নে স্মরণ করা হয়। ডিয়েগো ম্যারাডোনার ক্ষেত্রেও তেমন ভেবে নেওয়া স্বাভাবিক।

কিন্তু মৃত্যুর পর এ পর্যন্ত তাঁকে যেভাবে স্মরণ করা হচ্ছে, কিংবা যেসব বিষয়ে ম্যারাডোনার প্রসঙ্গ উঠে আসছে, তাতে স্বয়ং কিংবদন্তি নিজেও লজ্জা পেতে পারেন। ’৮৬ বিশ্বকাপের এই কিংবদন্তি কখনো কি ভেবেছিলেন মৃত্যুর পর তাঁর জীবন নিয়ে এমন কাটাছেঁড়া চলবে!

ম্যারাডোনা মারা গেছেন গত নভেম্বরে। কিন্তু এই তিন মাসে তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উঠেছে অবহেলার অভিযোগ। এ নিয়ে তদন্তও চলছে। ময়নাতদন্তই হয়েছে দুবার। বের হয়ে আসছে নিত্যনতুন সব তথ্য, যা চমক জাগাচ্ছে।

বেঁচে থাকতে ম্যারাডোনার বদঅভ্যাসগুলোই মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে কাটাছেঁড়ার অন্যতম কারণ। নেশার সঙ্গে মিতালি গড়ে তোলা ম্যারাডোনাকে নিয়ে এবার নতুন তথ্য দিলেন তাঁর দুই মেয়ে জিয়ান্নিনা ও ইয়ানা।

বিজ্ঞাপন

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস কাল প্রকাশ করেছে তাদের উদ্ধৃতি। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের আগে বুয়েনস এইরেসের বাসায় ছিলেন ম্যারাডোনা।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সেই অস্ত্রোপচারের আগে ম্যারাডোনা নিয়মিত ‘মদ্যপান’ এবং ‘গাঁজা’ সেবন করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর দুই মেয়ে। চিকিৎসকেরা নাকি এ বিষয়ে জানতেন। এদিকে তিগ্রের বিচারিক বিভাগ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল ম্যারাডোনা ‘কোনো রকম নেশাদ্রব্য গ্রহণ করেননি’।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর তাঁর চিকিৎসা নিয়ে অবহেলার অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁর মেয়েরা। এরপর আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির চিকিৎসক লিওপোলদো লুক, একজন মনোবিদ ও দুজন নার্সের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।

default-image

সেই নার্সদেরই একজন দাহিয়ানা মাদ্রিদের আইনজীবী রদোলফো বাকু ম্যারাডোনার দুই মেয়ের দেওয়া এই সাক্ষ্যের বিবরণী পেশ করেছেন। সান ইসিদ্রোতে আইনজীবী দলের সামনে কালকের শুনানিতে এই সাক্ষ্য দিয়েছেন জিয়ান্নিনা ও ইয়ানা।

৩১ বছর বয়সী জিয়ান্নিনা সবার আগে শুনানিতে অংশ নেন। এরপর ইয়ানার শুনানি শেষে দুজনে আদালত চত্বর ছেড়ে চলে যান। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাঁরা কোনো কথা বলেননি।

দাহিয়ানা মাদ্রিদের আইনজীবী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ম্যারাডোনাকে কীভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আইনজীবীদের সামনে কথা বলেছেন জিয়ান্নিনা ও ইয়ানা। এ ছাড়া ব্রান্ডসেন অঞ্চলের বাসায় ম্যারাডোনা কীভাবে ছিলেন, সে সম্পর্কেও কথা বলেছেন তাঁরা।’

শুনানিতে ম্যারাডোনার দুই মেয়েকে বাকু জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাঁদের বাবাকে কখনো নেশাদ্রব্য গ্রহণ করতে দেখেছেন কি না? এর উত্তরে ইয়ানা বলেন, ‘চার্লির (কার্লোস ইবনেজ) সঙ্গে তাঁকে গাঁজা খেতে দেখেছেন। গন্ধের কারণে সেটা গাঁজা বলেই মনে হয়েছে।’ এই কার্লোস ইবানেজই নাকি ম্যারাডোনাকে গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশাদ্রব্য সরবরাহ করতেন।

ম্যারাডোনাকে মদ খেতে দেখেছেন কি না—এ প্রশ্নে দুই মেয়েই ‘হ্যাঁ’সূচক উত্তর দেন এবং দুই চিকিৎসক নিউরোসার্জন লিওপোলদো লুক ও মনোবিদ অগাস্তিনা কোশাচেভও ‘দেখেছেন’ বলে জানান জিয়ান্নিনা ও ইয়ানা। শুনানির শেষে আইনজীবী বাকু বলেন, ‘ব্রান্ডসেনের সবাই জানতেন, ম্যারাডোনা মদ্যপান করতেন ও গাঁজা সেবন করতেন। কিন্তু তিগ্রেতে (যেখানে তিনি মারা গেছেন) তিনি কোনো ধরনের নেশাদ্রব্য গ্রহণ করেননি।’

গত ২৫ নভেম্বর ম্যারাডোনা মারা যাওয়ার তিন দিন পর তাঁর বাবার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছিলেন জিয়ান্নিনা। একই দিন ইয়ানাও লিওপোলদো লুকুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, ‘বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে সবকিছুর দায়িত্ব ছিল লুকের ওপর।’

গত অক্টোবরে বুয়েনস এইরেসের এক হাসপাতালে ম্যারাডোনার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করানো হয়। মস্তিষ্কে জমাট বেঁধে থাকা রক্ত (ক্লট) অপসারণ করা হয়েছিল। এরপর পুনর্বাসনের জন্য তাঁকে নেওয়া হয়েছিল তিগ্রের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন