বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রথমার্ধে ব্রাজিল তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি, তবে ব্রাজিলের যা কিছু ভালো তার সঙ্গেই জড়িয়ে ছিলেন নেইমার। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ছন্দ হারিয়েছেন। ফুটবলের পরিসংখ্যান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অপটা জানাচ্ছে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১৫টি পাস ঠিকমতো দিতে পারেননি নেইমার—বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এত ভুল পাস কখনো দেননি ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা।

শুধু বল হারানোই নয়, ম্যাচে ব্রাজিলের গোল করার দারুণ একটা সুযোগও নষ্ট করেছেন নেইমার। অবশ্য ভুলের অন্যপাশে নেইমারের সৃষ্টিশীলতার উদাহরণও তো আছে। প্রথমার্ধে নেইমারেরই পাসে কলম্বিয়া গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি লুকাস পাকেতা। গোলটা হয়ে গেলে ম্যাচ শেষে নেইমারের নামের পাশে এক গোলে সহায়তা করার রেকর্ডই থাকত!

সে কারণেই কিনা নেইমারের সমালোচনাকে পাত্তা দিতে রাজি নন ব্রাজিল কোচ তিতে। সংবাদ সম্মেলনে নেইমারকে নিয়ে প্রশ্নে তিতের উত্তর, ‘সম্ভবত ওর ব্যাপারে মানুষের প্রত্যাশাই এটা যে, ও সব সময়ই চোখধাঁধানো কিছু করবে, সব সময়ই ব্রাজিলকে ম্যাচ জেতাবে। ও অসাধারণ একজন খেলোয়াড়, কারণ ও ভাবনার বাইরের কিছু করে ফেলতে পারে।’

default-image

সে কারণেই ম্যাচে অন্যদের চেয়ে প্রতিপক্ষের নজরও নেইমারের দিকে যে বেশি থাকে, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিতে, ‘অন্যদের চেয়ে আলাদা একজন খেলোয়াড় ও, এটা তো সবাই জানি। ওকে সব সময় কড়া পাহারায় রাখা হয়। অনেক সময় দুজন মিলে ঘিরে ধরে ওকে।’

কোপা আমেরিকায় এই কলম্বিয়ার বিপক্ষেই জিততে ঘাম ছুটে গিয়েছিল ব্রাজিলের। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সেদিন প্রথমে পিছিয়ে পড়েও ব্রাজিল জিতেছিল শেষ ২৫ মিনিটের দুই গোলে, দ্বিতীয় গোলটি তো এসেছিল নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে!

সেদিন কলম্বিয়া অনেক রক্ষণাত্মক খেলেছিল। কিন্তু আজ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের মাটিতে কলম্বিয়া বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলেছে। সে কারণে গোলশূন্য হলেও ম্যাচটা দেখতে খারাপ লাগেনি অনেকের।

ব্রাজিল কোচ তিতেও বলছেন, ‘আমাদের বলের দখল বেশি ছিল, ওরা সরাসরি আক্রমণে উঠেছে বেশি। আমরা দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি করেছিলাম, যেগুলো অসপিনা (কলম্বিয়ার গোলকিপার) দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছে। ম্যাচটা ভালোই ছিল।’ তাতে ব্রাজিল ভালো খেলেছে বলে তৃপ্তিও ঝরল তিতের কণ্ঠে।

default-image

একই রকম তৃপ্তি ছিল ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ফ্রেদের কণ্ঠেও। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার বললেন, ‘আমরা অনেক ভালো খেলেছি, তবে এখনো অনেক উন্নতির জায়গা আছে। আমাদের এভাবে কাজ করে যেতে হবে, প্রক্রিয়াটা ধরে রাখতে হবে।’

সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপও আছে ফ্রেদের, ‘আমরা ধরেই নিয়েছিলাম ম্যাচটা কঠিন হবে। কোপা আমেরিকায়ও (কলম্বিয়ার বিপক্ষে) ম্যাচটা কঠিন ছিল, একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে জিতেছিলাম। আজ আমরা সুযোগগুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি, বল জালে পাঠানোর কাজটায় ভুল করেছি আমরা। তবে আমরা অনেক ভালো খেলেছি।’

১০ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের বাছাইপর্বের পয়েন্ট তালিকায় এখনো অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে শীর্ষে ব্রাজিল। দুইয়ে থাকা আর্জেন্টিনাও এখনো অপরাজিত, তবে আজ উরুগুয়েকে হারানোর পরও মেসিদের পয়েন্ট ১০ ম্যাচে ২২। ১১ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে ইকুয়েডর। দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চল থেকে প্রথম চার দল সরাসরি যাবে বিশ্বকাপে, পঞ্চম দল খেলবে প্লে-অফে।

বাছাইপর্বে ব্রাজিলের পরের ম্যাচ বাংলাদেশ সময় আগামী শুক্রবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে, নিজেদের মাটিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন