রেফারি ভিক্টর কাসাইয়ের বাঁশির দুই ঘণ্টা আগেই আসলে শুরু হয়ে গিয়েছিল খেলাটা। রাস্তার দুই পাশে লিভারপুল সমর্থকেরা জড়ো হতে শুরু করেছিলেন। দুই দলের বাস স্টেডিয়ামে ঢোকার সময়ও রং, আতশবাজি ও স্লোগানে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, অ্যানফিল্ড এই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।
প্রথম লেগে ১-০ গোলে হারের পর ইয়ুর্গেন ক্লপও এমন কিছুরই প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছিলেন। অ্যানফিল্ড প্রস্তুত ছিল, প্রস্তুত ছিল লিভারপুলও। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ভিয়ারিয়ালকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিল ইংলিশ ক্লাবটি। যেখানে তাদের অপেক্ষায় সর্বশেষ দুবারের চ্যাম্পিয়ন সেভিয়া। প্রথম লেগে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর পরশু ঘরের মাঠে শাখতার দোনেৎস্ককে ৩-১ গোলে হারিয়েছে উনাই এমেরির দল।
সেভিয়ার সঙ্গে ১৮ মের ফাইনালে কী হবে, সেই ভাবনা থাকারই কথা। তবে লিভারপুল এখন মজে আছে ২০০৭ সালের পর প্রথম কোনো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠার আনন্দে। আর মজে আছে ক্লপে। গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর আট মাসের মধ্যেই দুটি প্রতিযোগিতার ফাইনালে দলকে নিয়ে গেলেন জার্মান কোচ। পরশু ক্লপকে এই গৌরব এনে দিল প্রথমার্ধে ভিয়ারিয়ালের আত্মঘাতী এক গোল আর দ্বিতীয়ার্ধে ড্যানিয়েল স্টারিজ ও অ্যাডাম লালানার গোল।
বিটি স্পোর্টসকে ম্যাচ শেষে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লপের কণ্ঠে ঝরল সেই গর্ব, ‘কী অসাধারণ এক রাত! আমার দল খেলেছেও দুর্দান্ত। ফাইনালেও এমন খেলতে হবে। আমাদের সামনে দুর্দান্ত একটা সুযোগ এবং আমরা সেটি দুহাত ভরে নেব।’ ভিয়ারিয়াল কোচ মার্সেলিনোর আক্ষেপ আত্মঘাতী গোলটা নিয়েই, ‘শুরুতেই ওই গোলই সব বদলে দিল। আমরা চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন এমন তীব্রতা নিয়ে খেলে, তখন ব্যাপারটা কঠিনই হয়ে পড়ে।’ এএফপি।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন