আজও কোনো নাটক? অঘটন?

বিজ্ঞাপন
default-image
>

* চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ মুখোমুখি সিটি-টটেনহাম ও লিভারপুল-পোর্তো। প্রথম লেগে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা সিটি আজ ইতিহাদে খেলবে টটেনহামের সঙ্গে। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে পোর্তোয় যাচ্ছে লিভারপুল
* ইউরোপে ইংলিশ দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সবগুলোতেই হেরেছে সিটি, গোল খেয়েছে ৮টি, করেছে মাত্র ১টি
* প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম লেগে হেরেছে—এমন ৭ বারের মধ্যে ২ বার পরের রাউন্ডে গেছে সিটি, হেরেছে সর্বশেষ ৫ বারই
* ঘরের মাঠে প্রথম লেগে জিতেছে—সর্বশেষ এমন ১৯ বারের ১৭ বারই পরের রাউন্ডে গেছে টটেনহাম
* ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে ৩ জয়ের বিপরীতে ৮ হার পোর্তোর। সর্বশেষ জয় ২০০৩-০৪ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পথে শেষ ষোলোয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে
* ইউরোপে সর্বশেষ ১০ ম্যাচের ৫টিই হেরেছে লিভারপুল, এর কোনোটিই নিজের মাঠে নয় (৪টি প্রতিপক্ষের মাঠে, একটি নিরপেক্ষ মাঠে)
* নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে জিতেছে, এমন ৩৬ বারের ৩১ বারই পরের রাউন্ডে গেছে লিভারপুল। জয়টা ২-০ গোলে হয়েছে, এমন ৭ বারের প্রতিবারই গেছে
* দুটি ম্যাচই শুরু রাত ১টায়, সিটি-টটেনহাম দেখাবে সনি টেন ২, লিভারপুল-পোর্তো দেখাবে সনি টেন ১

১১ বছর হলো শীর্ষ পর্যায়ের কোচিংয়ে আছেন, এর মধ্যে ছুটি কাটিয়েছেন এক বছর। সেই হিসাবে ১০ বছরেই পেপ গার্দিওলা জিতে ফেলেছেন ২৫টি শিরোপা। কদিন আগে ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকী সর্বকালের সেরা কোচদের যে তালিকা করেছে, তাতেও পাঁচ নম্বরে ছিলেন স্প্যানিশ কোচ।
পেপ গার্দিওলার মানসম্মান বাঁচিয়ে রাখার প্রশ্ন তাহলে ওঠে কীভাবে? আজ রাতে নিজের মাঠে টটেনহামের বিপক্ষে যখন চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটের দ্বিতীয় লেগে নামবে গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি, তার আগে বারবার যে প্রশ্নটা আসছেই।

আসছে চ্যাম্পিয়নস লিগ বলেই হয়তো। গার্দিওলার দুই শিরোপার চেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে মাত্র তিনজন কোচের আছে সত্যি, কিন্তু শিরোপার পর্দা সরিয়ে চোখ যখন যায় গত আট বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগে গার্দিওলার রেকর্ডে, প্রশ্নচিহ্নটা ঘাড় বাঁকিয়ে দাঁড়ায়। ২০১১ সালে বার্সেলোনাকে নিয়ে তিন বছরের মধ্যে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগটি জিতেছিলেন গার্দিওলা, এরপর শুধুই শূন্যতা।

দল কখনো তাঁর খারাপ ছিল না। বার্সার পর বায়ার্ন মিউনিখ, এরপর কোটি কোটি পাউন্ড খসিয়ে গড়া এই ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু বায়ার্নে তিন মৌসুমেই সেমিফাইনালে বাদ পড়েছেন, সিটিতে আসার পর তো সেমিফাইনালও দূরের বাতিঘর। প্রথম মৌসুমে শেষ ষোলোতে বাদ পড়েছিলেন মোনাকোর কাছে, গত মৌসুমে শেষ আটে স্বপ্ন ভেঙেছে লিভারপুলের হাতে।

গার্দিওলা বারবার ব্যর্থতার পেছনে ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টে সিটির অনভিজ্ঞতাকে তুলে ধরেছেন। শেষ ষোলোতে শালকেকে উড়িয়ে দেওয়ার পর কদিন আগেই তো বলেছিলেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে সিটি এখনো ‘টিনএজার’। কিন্তু আবুধাবির তেলেধন্য সিটি তো গার্দিওলাকে এনেছিলই ইউরোপের কুলীন হওয়ার স্বপ্নে! অথচ এখন পর্যন্ত রেকর্ড বলে, গার্দিওলার আসার আগের মৌসুমেই ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি সিটিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বেশি দূর নিয়ে যাওয়ার স্বাদ দিয়েছিলেন, সিটি খেলেছিল সেমিফাইনালে। আজ রাতে টটেনহামের বিপক্ষে আবার সেই উচ্চতায় যাওয়া হবে সিটির?

গার্দিওলা আত্মবিশ্বাসী। স্কাই স্পোর্টসে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন (আজকের ম্যাচে) কী হবে, তাহলে বলব আমরা সেমিফাইনালে যাব। এই মুহূর্তে সেটিই মনে হচ্ছে আমার। ওই ম্যাচের পর (টটেনহামের মাঠে প্রথম লেগ), ম্যাচটা বিশ্লেষণের পরও একই অনুভূতি হয়েছিল। হয়তো আমার অনুমান ভুল প্রমাণিত হবে, তবে আমার মনে হচ্ছে আমরা সেমিফাইনালে যাব।’

default-image

সিটি কোচের আত্মবিশ্বাসের কারণ হয়তো দুটি। এক, ব্যবধানটা তেমন কিছু নয়, প্রথম লেগে টটেনহামের মাঠে মাত্র ১-০ গোলেই হেরেছে সিটি। দুই, সেই ম্যাচেই অ্যাঙ্কেলের চোটে হ্যারি কেন আর হাতের চোটে ডেলে আলী মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় টটেনহাম আজ কিছুটা নাজুকও। দলের প্রাণভোমরা বলে কেনের অনুপস্থিতিই বেশি আলোচিত। যদিও কেন উঠে যাওয়ার অনেক পরই সেদিন গোলটা করেছিলেন কেনের অনুপস্থিতিতে টটেনহামের সবচেয়ে বড় ভরসা সন হিউং-মিন। কেন ছিলেন না এমন ১০ ম্যাচে ৯ গোল দক্ষিণ কোরিয়ান স্ট্রাইকারের। কেনকে ছাড়া টটেনহামের রেকর্ডও অবশ্য দারুণ, জিতেছে সর্বশেষ ৫ ম্যাচেই।

সেটি ছয়ে ছয় না হোক, ড্র অথবা ১-০ ছাড়া অন্য কোনো এক গোলের ব্যবধানে টটেনহাম হারলেও তো সিটির চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রা এখানেই শেষ। ইউরোপে গার্দিওলার দাপট নিয়ে প্রশ্নচিহ্নটা তাতে আরও বড়ই হবে। স্প্যানিশ কোচ অবশ্য তা নিয়ে ভাবছেন না, ‘আতঙ্কের কারণ তো টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার ভয়ই, না? কিন্তু আমি নিশ্চিত আমরা পরের মৌসুমেও চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলব। (আজ বাদ পড়লে) আমরা এক দিন, দুই দিন হয়তো কষ্ট পাব। এরপর প্রিমিয়ার লিগে খেলব, যেখানে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ আছে আমাদের। এফএ কাপের ফাইনাল আছে। আগামী মৌসুমে আমরা আবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ঝাঁপাব।’

গার্দিওলার পরীক্ষার দিনে কিছুটা নির্ভার হয়েই পোর্তোর মাঠে নামছে গত মৌসুমের রানার্সআপ লিভারপুল। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ২-০ গোলে জিতেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। গত মৌসুমে শেষ ষোলোয় এই পোর্তোর মাঠেই জিতেছে ৫-০ গোলে। অবশ্য এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের মাঠে চার ম্যাচের সবগুলোই জেতা পোর্তো রণহুংকার দিয়ে রাখতে ভুলছে না! আর পর্তুগিজ ক্লাবটিকে অনুপ্রেরণা দিতে পারে কালকের আয়াক্স। হয়তো ডাচ ক্লাবটির মতো অতটা সোনালি অতীত তাদের নেই; তবু পোর্তো তো দুইবারের ইউরোপ সেরার মুকুট পরেছে। সেই অহংয়ে ঠিকমতো ঘা লাগলে, কে জানে, আজকের রাতটা হয়তো রূপকথার আরও একটি রাত।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন