দলের সঙ্গে বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে।
দলের সঙ্গে বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। ছবি: সংগৃহীত

গুঁড়িয়ে দিতে চাই, জয় ছাড়া কিছু ভাবছি না...। আজ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে কাঠমান্ডুতে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এ রকম আরও অনেক কথাই বলতে পারতেন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। যেহেতু এক ম্যাচ হাতে রেখে ফাইনাল নিশ্চিত, তাই আজ হারের ভাবনা মাথায় না রেখে ‘অলআউট ফুটবল’ খেলে ডিফেন্সিভ কোচের তকমাটাও ঝেড়ে ফেলতে পারতেন তিনি।

ফুটবলটা আজ বাংলাদেশ কেমন খেলবে, সেটা তো ম্যাচেই দেখা যাবে। তবে তার আগে কথার তুবড়ি ফোটালেন না জেমি। বরং ঢাকায় বলে আসা ‘আমি খেলোয়াড়দের দেখতে চাই’ প্রত্যয়েই অটুট বাংলাদেশ কোচ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগের ম্যাচে কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ম্যাচের পুরো একাদশকেই বদলে ফেলে আজ নেপালের বিপক্ষে দল সাজাচ্ছেন ইংলিশ কোচ।

একদিকে ভাবলে সেটাই ঠিক। ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার, সব খেলোয়াড়কে দেখে নেওয়ার এই তো সুযোগ। কিন্তু নেপালের বিপক্ষে দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে খারাপ করলে বা হারলে তাঁর মুণ্ডুপাত যে করা হবে, সে নিয়েও কোনো সন্দেহ নেই। তাই আজকের ম্যাচের ট্যাগলাইন দেওয়াই যায়-পরীক্ষা, সাহস ও স্বপ্ন।

বিজ্ঞাপন
default-image

পুরো একাদশ বদলে নেপালের বিপক্ষে খেলে অন্য একাদশের পরীক্ষা নিতে যাচ্ছেন। পরীক্ষার সঙ্গে এখানে ফুটে উঠেছে কোচের সাহসও, যা তিনি করেছেন জুনে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বাকি তিন ম্যাচের জন্য শক্তিশালী দল গঠনের স্বপ্নে।

শিক্ষাসফরের পতাকা উড়িয়ে কাঠমান্ডুতে এসেছেন বাংলাদেশ কোচ। এক ম্যাচ হাতে রেখে ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় সে পতাকা এখন কাঠমান্ডুতে পতপত করে উড়ছে। আজ নেপালের বিপক্ষেও পতাকাটা গর্ব নিয়েই উড়বে? জেমি আশাবাদী।

দলে বদল আনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে বলে আশাটাও জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ, ‘আগের ম্যাচের দল থেকে নেপালের বিপক্ষে অনেক পরিবর্তন আসবে। নেপালে আসার আগেই আমি বলেছিলাম সব খেলোয়াড়কে দেখতে চাই। নতুনদের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। আশা করি, ভালো ফল নিয়েই ফাইনালে নামব।’

সে ‘অনেক’ পরিবর্তনটা বুঝি পুরোপুরি দলের খোলস বদলে ফেলা। কাল কাঠমান্ডুর আর্মি গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন দেখা যেকারওই বুঝে নেওয়ার কথা, পুরোপুরি ভিন্ন একাদশ নিয়ে আজকের ম্যাচের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বাংলাদেশ। সোহেল রানা, সাদ উদ্দিনদের সহকারী কোচ স্টুয়ার্ট ওয়াটকিসের অধীনে অনুশীলন করতে দিয়ে জেমি নিজে ঘষামাজা করলেন আজকের সম্ভাব্য দলটি নিয়ে।

বোঝা গেল জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হতে যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের সেন্টারব্যাক মেহেদী হাসান ও রাইটব্যাক মোহাম্মদ ইমনের। এ ছাড়া ২০১৯ সালের অক্টোবরের পর আজ প্রথমবার গোলপোস্টের নিচে দেখা যেতে পারে শহিদুল আলমকে।

default-image

আগের ম্যাচের মতো ৪-২-৩-১ ফরমেশনে সম্ভাব্য একাদশ হতে পারে। রক্ষণের কেন্দ্রে রিয়াদুল হাসানের সঙ্গে মেহেদী। রাইটব্যাক ইমন ও লেফটব্যাক ইয়াসিন আরাফাত।

মাঝমাঠের দুজন হচ্ছেন দুই হোল্ডিং মিডফিল্ডার-অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও মানিক হোসেন। আক্রমণভাগের বাঁ প্রান্তে রাকিব হোসেন ও ডান প্রান্তে চোট কাটিয়ে ফেরা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। এ দুজনের মাঝে প্লেমেকার হিসেবে সুমন রেজা, তাঁর সামনে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে মাহবুবুর রহমান।

এত অদলবদলে দলের সবার অভিজ্ঞতা বাড়বে, দলের সবাইকে পরখ করে নিতে পারবেন কোচ...এসবই ঠিক আছে। তবে এত বদল নিয়ে নামায় একটা শঙ্কাও আছে। ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় নেপালের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য নিয়ম রক্ষার ঠিকই, তবে এই ম্যাচ ফিফার কাছ থেকে ‘টায়ার ওয়ান’ বা প্রথম স্তরের ম্যাচের স্বীকৃতি পাচ্ছে, ফলে এই ম্যাচে হারজিত প্রভাব ফেলবে র‌্যাঙ্কিংয়ে।

জিততে পারলে র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতিতে সুবিধা তো হবেই, ২০১৩ সালে নেপালের মাটিতে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের হারের বদলাও নেওয়া হবে বাংলাদেশের। এ ছাড়া গত বছর এসএ গেমস ফুটবলে নেপাল অলিম্পিক দলের কাছে হারের কথাও তো ভুলে যাওয়ার কথা নয় জামাল ভূঁইয়াদের। অধিনায়ক জামাল তাই জানিয়ে দিলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা ফাইনালে উঠে গেলেও প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। সবাই ম্যাচটি জিততে চাই।’

বিজ্ঞাপন

কাঠমান্ডুতে অবস্থান করা বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের প্রত্যাশা শুধু জয়ই নয়, এক ধাপ এগিয়ে ২-০ গোলের জয়। কাল অনুশীলনে এসে জামালদের অনুপ্রেরণাও জুগিয়েছেন কিংবদন্তি এই ফুটবলার।

default-image

বাংলাদেশের (১৮৬) চেয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে নেপাল (১৭১) এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক ফর্ম কিছুটা হলেও বাংলাদেশের পক্ষে। এই তো গত নভেম্বরে দুদল ঢাকায় খেলেছিল দুই ম্যাচের মুজিব বর্ষ আন্তর্জাতিক সিরিজ। প্রথম ম্যাচটি বাংলাদেশ ২-০ গোলে জেতার পর দ্বিতীয় ম্যাচটি হয়েছিল গোলশূন্য ড্র।

তবে সেবার করোনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়কে পায়নি নেপাল, কোচ বাল গোপাল মহারজন পাননি ইন্দোনেশিয়ার লিগে খেলতে থাকা সেরা নেপালি মিডফিল্ডার রোহিত চাঁদকেও।

এবার ঘরের মাঠে তাঁর হাতে সম্ভাব্য সেরা দলটাই আছে। আজ ন্যূনতম ড্র করতে পারলে ফাইনাল নিশ্চিত নেপালের, তবে বাল গোপাল মহারজনের জয় চাই, ‘বাংলাদেশকে হারিয়েই আমরা ফাইনাল খেলব। ফাইনাল খেলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।’

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটিতে দশরথের রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে চোখ রাখবে কিরগিজস্তান অলিম্পিক দলও। নেপাল হারলে সমীকরণের প্যাঁচে ফাইনালে খেলার সুযোগ থাকবে তাদেরও। শেষ কবে ফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এভাবে প্রতিপক্ষ দুটি দল বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে ছিল, কষ্ট করেও মনে করা গেল না।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন