default-image

আনচেলত্তি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হওয়ার পর প্রতিপক্ষ কোচদের কাজ একটু সহজ হয়ে গেছে। ম্যাচ শুরু হওয়ার দেড়–দুই ঘণ্টা আগেই একাদশ ঘোষণা করে দেন আনচেলত্তি। চেলসির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের এক লেগে আড়াই ঘণ্টা আগেই একাদশ দিয়ে দিয়েছিলেন রিয়াল কোচ!

আনচেলত্তি অবশ্য যেভাবে একাদশ গড়েন, কত আগে ঘোষণা এল, তাতে কিছু আসে-যায় না। আনচেলত্তির স্কোয়াড যে প্রায় মুখস্থ সবার। যে ক্লাবেই গিয়েছেন, সেখানেই পছন্দের একটি একাদশ বের করে নিয়েছেন। বাধ্য না হলে তাঁদের টানা খেলিয়ে গেছেন। ২০১৪-১৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদে সে কাজটা করতে গিয়ে ক্লান্ত স্কোয়াড তিনটি সম্ভাব্য শিরোপা শেষবেলায় হাতছাড়া করেছে।

এ মৌসুমে চোট, নিষেধাজ্ঞা ও নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ের অভাব আনচেলত্তিকে সেটা পুরোপুরি করতে দেয়নি। তবু তাঁর একাদশে ১০টি নাম প্রায় স্থায়ী হয়ে গিয়েছিল।

default-image

গোলপোস্টে থিবো কোর্তোয়া। রক্ষণে ডান থেকে বাঁয়ে যথাক্রমে দানি কারভাহাল, এদের মিলিতাও, ডেভিড আলাবা ও ফারলাঁ মেন্দি। মাঝমাঠে সেই চিরপরিচিত লুকা মদরিচ, কাসেমিরো, টনি ক্রুস। আক্রমণে বাঁয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, সামনে করিম বেনজেমা। আর ডানে?

এ প্রশ্নের উত্তর পুরো মৌসুমে খুঁজেছেন আনচেলত্তি। এদেন হ্যাজার্ড ও গ্যারেথ বেল তো চোটের সঙ্গে সংসার করেছেন। ডান প্রান্তে তাই ‘জাগল’ করেছেন আনচেলত্তি। শুরুতে মার্কো আসেনসিওকে খেলিয়েছেন। এরপর আবার রদ্রিগোকে খেলিয়েছেন। কিন্তু দুই খেলোয়াড়ই মূল একাদশে খারাপ খেলেন। আবার ঠিকই একে অন্যের বদলি নেমে ভালো খেলেন। আনচেলত্তি তাই সহজ পথে হেঁটেছেন। এক ম্যাচে আসেনসিও নামেন তো অন্য ম্যাচে রদ্রিগো!

আনচেলত্তির এই চেনা ছন্দে বদল আনতে বাধ্য করেছেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। দারুণ পরিশ্রমী এই উরুগুয়ের মিডফিল্ডার মাঝমাঠে যখনই সুযোগ পেয়েছেন ভালো খেলেছেন। এমনকি তাঁকে মাঠে যে অবস্থানেই নামানো হোক, সেখানেই খেলে দেখিয়েছেন। জিনেদিন জিদানের অধীন চ্যাম্পিয়ন লিগে এক ম্যাচে রাইটব্যাক হিসেবেও খেলা এ মিডফিল্ডার আনচেলত্তির অধীন রাইট উইংয়ে খেলছেন ইদানীং।

default-image

চেলসির বিপক্ষে দুই লেগেই তাই আনচেলত্তি একই একাদশ নামিয়েছিলেন—

কোর্তোয়া, কারভাহাল, মিলিতাও, আলাবা, মেন্দি, মদরিচ, কাসেমিরো, ক্রুস, ভিনিসিয়ুস, বেনজেমা, ভালভার্দে।

আরেক ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে এই দল নিয়েই নামার ইচ্ছা ছিল আনচেলত্তির। কিন্তু পরিস্থিতি তাঁকে এটা করতে দিচ্ছে না। চেলসির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁর একাদশ প্রচণ্ড ভুগেছে। চেলসির নিরন্তর প্রেসের সামনে হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিল রিয়াল। ক্রুস ও কাসেমিরোর জায়গায় রদ্রিগো ও এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা নামার পরই ম্যাচে ফেরে রিয়াল। এ দুই তরুণের বাড়তি গতি ও এনার্জি খেলার দিক পরিবর্তন করে দেয়। লিগে সেভিয়া ও ওসাসুনার বিপক্ষেও রদ্রিগো ও কামাভিঙ্গা বেশ ভালো খেলেছেন।

ওদিকে চোটও আনচেলত্তির জন্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। ওসাসুনার বিপক্ষে প্রথমার্ধে চোট পেয়েছেন আলাবা। চোটের কারণে নেই কাসেমিরো। মেন্দিও ছিলেন না গত তিন ম্যাচে। এর মাঝে মেন্দি ফিরে এসেছেন। কিন্তু আলাবা ও কাসেমিরোকে নিয়ে সন্দেহ আছে। সে ক্ষেত্রে আলাবার বিকল্প হিসেবে স্কোয়াডে শুধু নাচো হার্নান্দেজই আছেন।

ওদিকে কাসেমিরোর সবচেয়ে কাছাকাছি বিকল্প কামাভিঙ্গা। কাল অনুশীলনে আলাবা ও কাসেমিরো দুজনই ছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত যে অবস্থা, আজ আলাবাকে নিয়েই মাঠে নামবেন আনচেলত্তি। তবে কাসেমিরো না নামার সম্ভাবনাই বেশি।

default-image

চেলসির বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ গোল করার পর থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন রদ্রিগো। সেভিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া রিয়ালকে উদ্ধার করেছিলেন রদ্রিগো। একটি গোল করেছেন, করিয়েছেন আরেকটি। সর্বশেষ ওসাসুনা ম্যাচে কোনো গোলের পাশে নাম না থাকলেও ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। দুটি পেনাল্টি আদায় করে দিয়েছিলেন। ফলে মাঠের ডান প্রান্তে রদ্রিগো জায়গা দাবি করতেই পারেন।

আনচেলত্তির তবু আজ রদ্রিগোকে না নামানোর সম্ভাবনাই বেশি। কাসেমিরো না থাকায় মাঝমাঠে রক্ষণাত্মক শক্তি বাড়াতে চাইবেন আনচেলত্তি। তাই ক্রসু-মদরিচের সঙ্গে কামাভিঙ্গা-ভালভার্দে জুটিই থাকবেন।

অর্থাৎ, আজ ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে রিয়ালের একাদশ দাঁড়াচ্ছে এমন:

কোর্তোয়া, কারভাহাল, মিলিতাও, আলাবা, মেন্দি, মদরিচ, কামাভিঙ্গা, ভালভার্দে, ক্রুস, ভিনিসিয়ুস, বেনজেমা।
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন