'আত্মহত্যা' করতে চাওয়া জেরার্ড 'পার্টি' শুরু করতে পারেন

বিজ্ঞাপন
default-image

স্টিভেন জেরার্ড আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন।

কারও এমন চাওয়া জানানোর পর বিষ্ময়সূচক চিহ্ন রাখতে হয়। জেরার্ডের ক্ষেত্রে রাখলে তা এক দিক বিচারে লিভারপুলের প্রতি তাঁর ভালোবাসার অবমাননাও হয়!

এক-দুই বছর নয় কিংবা পাঁচ-দশ বছরও নয়। ২৬টি বছর লিভারপুলে কাটিয়ে জেরার্ড ইউরোপসেরা হয়েছেন, কিন্তু কখনো দেশসেরা হতে পারেননি। মানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জেতা হয়নি। কোনোবার কাছে গিয়েছেন, কোনোবার সবচেয়ে কাছে ; ২০১৪ এর মধ্যেও নিকটতম।

সেবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল লিভারপুল-ম্যানচেষ্টার সিটির। লিগ এগোনোর সঙ্গে প্রতিটি ম্যাচ হয়ে উঠছিল আরও গুরুত্বপূর্ণ। সেই মৌসুমের একদম অন্তিম মুহূর্তে চেলসির সঙ্গে ম্যাচে পা পিছলে পড়েছিলেন জেরার্ড। তাঁর সেই ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন চেলসির ডেম্বা বা। ম্যাচটা জিতেওছিল 'ব্লুজ'রাই। আর সেই গোল লিভারপুল সমর্থকদের বুকে শেল হয়ে বিঁধেছিল। ট্রফিটা সিটির হাতে তুলে দেওয়ার জন্য, যার নির্ণায়ক ছিল জেরার্ডের ওই পতন। পরের বছরই লিভারপুল ছেড়ে দেওয়া জেরার্ড আত্মজীবনীতে বলেছেন, ওই ভুলের জন্য আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন।

সেই জেরার্ড কাল ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, 'প্রিমিয়ার লিগ জেতায় লিভারপুলের সবাইকে অভিনন্দন। সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া অসাধারণ এক দলের অবিশ্বাস্য অর্জন। এর নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্বমানের এক কোচ এবং তার দল। এফএসজির (ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ) বিশেষ সমর্থনও ছিল। আর ভক্তরা, গত ৩০ বছর ধরে অপেক্ষায় ছিল তারা। চলুন পার্টি শুরু করি।'

জেরার্ডের এমন শুরুর পেছনে কী অবিশ্বাস্য চিত্রনাট্য! সেই ম্যাচে চেলসি জিতে সিটির হাতে ট্রফি তুলে দিয়েছিল। ছয় বছর পর সেই চেলসিই কাল সিটিকে ২-১ হারিয়ে ট্রফি তুলে দিল লিভারপুলকে।'অলরেড' সমর্থকেরা অবশ্য অনুযোগ করতে পারেন, ওটা তুলে দেওয়া নয় ফিরিয়ে দেওয়া। চেলসিভক্তদের দাবি হতে পারে উল্টো। কিন্তু সব মিলিয়ে প্রকৃতি এক অর্থে জেরার্ডের প্রায়শ্চিত্তটুকু করে দিল। সেই চেলসি, সেই সিটি, এবার সূচির মারপ্যাঁচে চেলসির জয়ের জন্য খেলাটা হয়ে ‍যায় লিভারপুলের জন্য। আরও সিটিও হারল। মজার ব্যাপার, এতেও রয়েছে এক অদ্ভুত ছোট্ট কাকতাল।

default-image

ফারল্যান্ড মেন্দিকে ঘোল খাইয়ে পুলিসিকের করা গোল ওই ছয় বছরকেই মনে করিয়ে দেয়। কীভাবে? সংবাদকর্মী রজার বেনেটের টুইট, 'মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে পুলিসিক ৬ টাচে ৬ সেকেন্ডে গোলটি করেছেন...।' টুইটের শেষ কথাটা ছিল মজার, 'এক তরুণ আমেরিকান খেলোয়াড় আমেরিকানের কেনা ক্লাবকে ট্রফি জেতানোর চেষ্টা করছেন।'

না, লিভারপুলকে কেউ জিতিয়ে দেয়নি, যোগ্যতর দল হিসেবেই তারা চ্যাম্পিয়ন। ৭ ম্যাচ হাতে রেখে পয়েন্ট টেবিলে সিটির সঙ্গে ২৩ পয়েন্ট ব্যবধান তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাল তাই জেরার্ডের সেই পড়ে যাওয়ার ছবি পোষ্ট করে যারা বলছিলেন চেলসি জিতিয়ে দিচ্ছে, অনেকেই সেসব পোষ্টে যুক্তি দেখান। করোনাভাইরাসের বিরতির আগেই লিভারপুলের শিরোপাজয় মোটামুটি নিশ্চিত ছিল।

অর্থাৎ শিরোপার সুবাস আগেই পাচ্ছিলেন জেরার্ড। কাল রাতে তা ঘরবন্দী হওয়ার আগেও জেরার্ড জানতেন, সেই চেলসি, ছয় বছর আগে সেই ভুল, যদি এই ম্যাচেই হয়ে যায়...অন্তত বিধিলিপি তাঁর হয়ে প্রায়শ্চিত্তটুকু করে দেবে।

এমন কিছু হয়ে থাকলে সেই 'লেখক' তাঁর কথা রেখেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন