default-image

ইয়ুর্গেন ক্লপের এখন যেন একাদশে বৃহস্পতি। লিগ জয়ের আনন্দটা একেবারে তাজা। এর মধ্যেই আরেকটা সুখবর পেলেন লিভারপুল কোচ। সুখবরটার অপেক্ষায়ই ছিলেন, সেটি নিশ্চিত হলো আর কী! খবরটা এই, পিছিয়ে গেছে আফ্রিকান নেশনস কাপ। 

আগামী বছরের জানুয়ারিতে হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস এসে সবকিছু যেভাবে উল্টেপাল্টে দিয়েছে, সেটি মাথায় রেখে এক বছর পেছানো হয়েছে আফ্রিকান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বসূচক এই টুর্নামেন্ট। হবে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে। ভেন্যু একই আছে – ক্যামেরুন। তবে ছেলেদের টুর্নামেন্ট তো তবু হচ্ছে, মেয়েদের টুর্নামেন্ট বাতিলই করা হয়েছে।


ক্লপের জন্য সেটি সুখবর এ কারণে যে, আগামী মৌসুমে জানুয়ারিতে একটা লম্বা সময়ের জন্য তাঁর দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ আফ্রিকান খেলোয়াড় – সেনেগালের সাদিও মানে, মিশরের মোহামেদ সালাহ ও গিনির নাবি কেইতাকে হারাতে হতো। সেটি আপাতত হচ্ছে না।


খবরটা একটা আফসোসও কমাবে লিভারপুল সমর্থকদের। টিমো ভের্নারকে না পাওয়ার আফসোস। কদিন আগেই ৪ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে লাইপজিগ থেকে ২৪ বছর বয়সী জার্মান ফরোয়ার্ডকে নিয়ে এসেছে চেলসি। বলতে গেলে লিভারপুলের মুখের গ্রাসই কেড়ে নিয়েছে। অনেকদিন ধরেই ভের্নারকে পেতে লিভারপুলের আগ্রহের কথা শোনা গেছে। ক্লপ নিজেও বেশ আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে ক্লাবের আর্থিক অবস্থা কেমন দাঁড়ায়, সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় এই মুহূর্তে এত খরচ করতে শেষ পর্যন্ত রাজি হয়নি লিভারপুল। অবশ্য সিদ্ধান্তটার পেছনে আফ্রিকান নেশনস কাপ পেছানোরও ভূমিকা আছে। তখনই শোনা যাচ্ছিল, নেশনস কাপ পেছাতে পারে।

লিভারপুল তাই আর এই মৌসুমে সালাহ-মানেদের বিকল্প খুঁজতে অতটা হন্যে হয়নি।


তবে লিভারপুল আগামী মৌসুমের জন্য স্বস্তি পেলেও নেশনস কাপ পেছানোয় ২০২১-২২ মৌসুমে ইউরোপের ক্লাবগুলো ঝামেলায় পড়বে। ২০২২ সালের নভেম্বরে যে কাতার বিশ্বকাপও আছে! এর আগে ২০১০ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপের বছরে নেশনস কাপ হয়েছিল।


নেশনস কাপের সূচি নিয়ে নাটকের সর্বশেষ অধ্যায়ই এটি। বিশ্বকাপ-ইউরোর বছরে আয়োজন না করার জন্য ২০১৩ সালে বিজোড় বছরে নেওয়া হয় নেশনস কাপকে। গত বছর আসে আরেক বদল। সব সময় জানুয়ারিতে হলেও ইউরোপিয়ান লিগগুলোর ঝামেলা মাথায় রেখে ২০১৯ সাল থেকে আফ্রিকান নেশনস কাপ জুনে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের নেশনস কাপ জুনেই হয়েছে। ২০২১ সালে নির্ধারিত নেশনস কাপও – যেটি এখন পিছিয়ে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে গেল – প্রথমে ২০২১ সালের জুনেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নতুন 'ব্রেইনচাইল্ড' - নতুন ঢংয়ের ক্লাব বিশ্বকাপ ২০২১ সালের জুনে শুরু হওয়ার কথা, তাই নেশনস কাপকে আবার ২০২১ সালের জানুয়ারিতে নিয়ে যাওয়া হয়। করোনা এসে এখন সেটিকে এক বছর পিছিয়ে দিল।


'আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সবার স্বাস্থ্যসুরক্ষা। আমাদের অবশ্যই সব সময় এমন বিপদ-আপদের দিকে চোখ রাখতে হবে' – নেশনস কাপ এক বছর পেছানোর ব্যাখ্যায় বলেছেন আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএএফের সভাপতি আহমাদ আহমাদ। সিদ্ধান্তটা নিয়ে খুশি নাইজেরিয়া কোচ গার্নত রোর। বিবিসি স্পোর্ট আফ্রিকাকে বলেছেন, 'আমার কাছে সিদ্ধান্তটাকে ঠিকই মনে হচ্ছে। কারণ (২০২১ সালের জানুয়ারিতে আয়োজনের জন্য) খুব বেশি সময় হাতে নেই, আর এটাকে গ্রীষ্মেও (জুনে) নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।'


তা বটে। তবে ২০২২ সালে আফ্রিকান খেলোয়াড়দের ওপর আর আফ্রিকান খেলোয়াড় থাকা ইউরোপের ক্লাবগুলোর ওপর চাপ বাড়ল আর কী!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন