রহমতগঞ্জের জালে শেখ জামালের একটি আক্রমণ
রহমতগঞ্জের জালে শেখ জামালের একটি আক্রমণছবি: বাফুফে

এবারের প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিতই হচ্ছে চোখজুড়ানো সব গোল। গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আরামবাগের বিপক্ষে কর্নার থেকে দুটি ‌‘অলিম্পিক’ গোল করেন ব্রাদার্সের মিডফিল্ডার ফয়সাল মাহমুদ।

আজও একই মাঠে ঠিক এমনই একটা গোল করেছেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ভালি জনোভ ওতাবেক। কর্নার থেকে নেওয়া তাঁর শটটি সরাসরি ঢুকেছে জালে। যদিও রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ওতাবেকের ওই গোলেও জয় নিয়ে ফিরতে পারেনি শেখ জামাল। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। শেখ জামালের পয়েন্ট কেড়েছেন রহমতগঞ্জের ফরোয়ার্ড ক্রিস্ট রেমি।

পয়েন্ট টেবিলে বসুন্ধরা কিংসের পরই রয়েছে শেখ জামাল। এরই মধ্যে প্রথম লেগ শেষ করেছে বসুন্ধরা কিংস। ১২ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে আছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এক ম্যাচ কম খেলে শেখ জামালের পয়েন্ট ২৩।

স্বাভাবিকভাবেই রহমতগঞ্জকে হারিয়ে ব্যবধান কমাতে চেয়েছিলেন শেখ জামাল ধানমন্ডির কোচ শফিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু রহমতগঞ্জ কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী তাঁকে সেই সুযোগ দিলেন কোথায়? রহমতগঞ্জের লক্ষ্যই ছিল রক্ষণ সামলে আক্রমণে ওঠা।

সেই চেষ্টায় তারা সফলই বলা যায়। গোলাম জিলানী আজ রহমতগঞ্জকে খেলিয়েছেন ৫-৩-২ ছকে। ওমর জোবে, সুলাইমান সিল্লাহ ও সোলেমান কিংয়ের ত্রিমুখী আক্রমণের অস্ত্রদের ভোঁতা করে রেখেছিলেন। রহমতগঞ্জের রক্ষণভাগের অনেকটা নিচে নেমে খেলতে বাধ্য করেছেন তাঁদের।

প্রথমার্ধে বিল্ড আপ ফুটবল খেলে বারবার রহমতগঞ্জের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করেছেন জোবে, কিং, নুরুল আবসাররা। কিন্তু তাঁরা আটকে গেছে অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে। জোবেকে তো পারলে বোতলবন্দী করে রাখেন রহমতগঞ্জের ডিফেন্ডাররা।

default-image

শেখ জামালকে গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচের ৪৯ মিনিট পর্যন্ত। এর আগে লিগে শুধু আরেকটি ম্যাচেই প্রথমার্ধে গোলশূন্য ছিল শেখ জামাল। সাইফ স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গত ২ ফেব্রুয়ারি ০-২ গোলে পিছিয়ে ছিল শেখ জামাল। পরে ওই ম্যাচ অবশ্য জামাল জেতে ৩-২ গোলে।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে জামাল। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে দারুণ সুযোগ নষ্ট হয় জামালের। ফ্রি–কিক থেকে পাওয়া বলটা বক্সে এসে পড়লে জটলায় প্রথম চেষ্টায় ওমর জোবে শট নেন।

কিন্তু সেই শট ঠেকিয়ে দেন রহমতগঞ্জের তাজিক ডিফেন্ডার খুরশিদ বেকনাজারভ। ফিরতি শট নেন নুরুল আবসার। এবার গোললাইন সেভ করেন খলিল ভূঁইয়া।

ম্যাচের ৪৯ মিনিটে সেই অলিম্পিক গোল দেখেছেন দর্শকেরা। কর্নার থেকে ওতাবেকের শট সরাসরি ঢোকে জালে। কিন্তু গোল খেয়েই দুই মিনিট পর সমতায় ফিরেছে রহমতগঞ্জ।

মাঝমাঠ থেকে শাহেদুল আলমের লং বল হেড দিয়ে নামিয়ে আলতো চিপে ক্রিস রেমি করেন ১-১। বদলি হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন শেখ জামালের মিডফিল্ডার জাহিদ হোসেন। নেমেই আক্রমণের ধার বাড়িয়েছেন। ৫৭ মিনিটে জাহিদের দারুণ একটা ক্রসে ওমর জোবে মাথা ছোঁয়াতে পারলেন না।

default-image

ম্যাচের যোগ হওয়া সময়ে অহেতুক ক্রিস্ট রেমিকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেছেন সিল্লাহ। বাকি সময়ে ১০ জনের দলের বিপক্ষেও অবশ্য আর কোনো গোল করতে পারেনি রহমতগঞ্জ।

লিগে এটা শেখ জামালের পঞ্চম ড্র। ১১ ম্যাচে ৬ জয়, ৫ ড্রয়ে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়েই রইল। আর রহমতগঞ্জ ১১ ম্যাচে ২ জয়, ৪ ড্র ও ৫ হারে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ৯–এ উঠল।
ওদিকে কুমিল্লা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মোহামেডান ২-০ গোলে হারিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাকে। ৩৫ মিনিটে মোহামেডানকে এগিয়ে নেন সোলেমান দিয়াবাতে। ৬১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মনজির কলিদিয়াতি।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন