গোলের পর আবাহনীর স্ট্রাইকার কেভিন বেলফোর্ট
গোলের পর আবাহনীর স্ট্রাইকার কেভিন বেলফোর্টছবি: প্রথম আলো

আজ যেন অঘটনের হাত থেকে বাঁচল আবাহনী লিমিটেড! ৮৪ মিনিট পর্যন্ত গোলের দেখা নেই। গোল করার মতো নেই কোনো পরিকল্পিত আক্রমণও।

শঙ্কা জেগেছিল বাংলাদেশ পুলিশ ক্লাবের বিপক্ষে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হবে আবাহনীকে। এমন সময়ে একমাত্র গোলটি করে আবাহনীকে অঘটনের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন হাইতিয়ান স্ট্রাইকার কেভিন বেলফোর্ট।

৮৫ মিনিটে করা বেলফোর্টের কল্যাণে ১–০ গোলের জয়ে প্রিমিয়ার লিগ শুরু করেছে আবাহনী। সর্বশেষ বাতিল হওয়া লিগে এই পুলিশকেই ২–০ গোলে হারিয়ে লিগ শুরু করেছিল আকাশি–নীলরা। এক বছর পর জয়ের ব্যবধান কমেছে, হারিয়েছে আবাহনীর সেই দাপট।

আজ পুরো শক্তির একাদশ মাঠে নামাতে পারেননি আবাহনী কোচ মারিও লেমোস। নিষেধাজ্ঞায় বাইরে থাকতে হয়েছে নিয়মিত একাদশের মিডফিল্ডার সোহেল রানা ও ডিফেন্ডার টুটুল হোসেনকে।

বিজ্ঞাপন

চোটে ছিটকে গিয়েছেন রায়হান হাসান ও জুয়েল রানা। একাদশ সাজাতে তাই লেমেসকে আজ হাত বাড়িয়ে দিতে হয়েছিল রিজার্ভ খেলোয়াড়দের দিকে। সেখানে বয়সের ভার।

রক্ষণভাগের চার খেলোয়াড়ের মধ্যে স্থানীয় নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও ওয়ালি ফয়সালের বয়স যথাক্রমে ৩৫ ও ৩৬। মাঝমাঠে খেলা মামুনুল ইসলামের বয়স ৩২। এমন দল নিয়ে তারুণ্যনির্ভর পুলিশকে হারানোটা কঠিনই। হয়েছেও তাই।

অথচ পাকির আলির পুলিশ দলকে দাঁতে দাঁত চেপে বেশি ডিফেন্ডার খেলিয়ে গোলপোস্ট সামলাতেও হয়নি। ৪–৪–২ ফরমেশনে প্রতি–আক্রমণনির্ভর ফুটবল খেলেছে তারা।

default-image

আবাহনী ভালো ফুটবল খেলতে পারেনি আর পুলিশের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা বলছিল ‘ঠেকিয়ে দিতে পারলেই হলো।’ প্রথমার্ধটা তাই হয়ে থাকল একেবারেই ম্যারম্যারে ম্যাচের বিজ্ঞাপন।

৪১ মিনিটে আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ফ্রান্সিসকো তোরেসের একটি শট ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছুই নেই। কর্নারের বিনিময়ে সেটি রক্ষা করেছেন পুলিশ গোলরক্ষক মোহাম্মদ নেহাল।

দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনী তুলনামূলক ভালো খেলেছে। তবে গোল পাওয়ার মতো যথেষ্ট ছিল না। ৬২ মিনিটে তোরেসের ক্রসে ফ্লাইং হেডের চেষ্টা করেছিলেন নাবিব। কিন্তু বল স্পর্শ করতে পারেননি আবাহনী অধিনায়ক।

মামুনুল ইসলামের স্থলে রুবেল মিয়া মাঠে প্রবেশ করলে আবাহনীর আক্রমণের ধার কিছুটা বাড়ে। ৭৬ মিনিটে রুবেলের শট সাইড পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। এতে হতাশা বাড়তে থাকে আবাহনী সমর্থকদের। ৮০ মিনিটে সেটি বেড়ে যায় আরও। ওয়ালি ফয়সালের কর্নার থেকে মাসি সাইগানির হেড গোলকিপারের গায়ে লেগে সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

এর ৫ মিনিট পর বেলফোর্টের কল্যাণে হতাশা থেকে মুক্তি। ডান প্রান্ত থেকে রুবেলের ক্রসে গোলরক্ষক নেহালের হাত ফসকে বের হয়ে গোলমুখে জটলার মধ্যে পড়ে। টোকা দিয়ে জালে জড়িয়েছেন বেলফোর্ট।

default-image

এই গোলে বড় দায় আছে পুলিশ গোলরক্ষক নেহালের। তবে গোল করার পরের মিনিটেই হাসি বন্ধ হয়ে যেতে পারত আবাহনীর খেলোয়াড়দের। মুরোলিমজন আখমেদভের বাঁ পায়ের জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

এর আগে বসুন্ধরা কিংসের কাছে ৩–১ গোলে হেরে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল আবাহনী। লিগে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা তাদের। কিন্তু নাবিব নেওয়াজ, রাফায়েল আগুস্তোরা আজ ভালো কোনো বার্তা দিতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন