এএফসি কাপে ভারতের ক্লাব বেঙ্গালুরু এফসিকে হারানোর পর আবাহনীর উল্লাস।
এএফসি কাপে ভারতের ক্লাব বেঙ্গালুরু এফসিকে হারানোর পর আবাহনীর উল্লাস। ফাইল ছবি

এমন দুঃসময় আবাহনীর ফুটবল ইতিহাসে কমই এসেছে। মৌসুমের শুরুতেই ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে বিদায়। লিগের প্রথম পর্বে বসুন্ধরা কিংসের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা আরও বড় ধাক্কা। লিগের আশা মোটামুটি শেষ ধরে নিয়ে আবাহনী তাকিয়ে ছিল এএফসি কাপের দিকে। কিন্তু এশিয়ার দ্বিতীয় স্তরের এই ক্লাব টুর্নামেন্টে শেষ পর্যন্ত খেলা হচ্ছে না আকাশি নীলের।

দেশে করোনার কারণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে মালদ্বীপের ইগলসের সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন করতে পারেনি আবাহনী। দেশের বাইরে গিয়েও ম্যাচটা খেলতে না পারার খেসারত হিসেবে আবাহনীকে টুর্নামেন্ট থেকে গত শুক্রবার বাদ দিয়েছে এএফসি। ঠিক সেদিনই লিগে বাংলাদেশ পুলিশ দলের সঙ্গে দুবার এগিয়ে থেকেও ড্র করে বসুন্ধরার চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে মারিও লেমোসের দল৷

এই পরিস্থিতিতে আবাহনী নিজেরা সরাসরি কোনো চিঠি লেখেনি এএফসিকে। তবে শুক্রবার রাতেই এফসির কাছে চিঠি পাঠায় বাফুফে। সেই চিঠিতে আবাহনীকে ৮ মে মালেতে ম্যাচটি খেলার সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে দেশীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন
এএফসি ধরে নিচ্ছে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে আবাহনী। ফলে আবাহনীর প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ ইগলসকে পরবর্তী রাউন্ডে তুলে দেওয়া হয়েছে।

লিগ জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা শেষ আগেই৷ এখন ম্যাচ খেলার আগেই এএফসি কাপ থেকে বাদ পড়ে দলের খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা সবাই হতাশ, বিমর্ষ। মিডফিল্ডার প্রাণোতোষ কুমার দাস বুঝতে পারছেন না কেন এমন হলো, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। দলকে ভালো কিছু উপহার দিতে সবাই প্রস্তুত ছিল। কিন্তু খেলাই হলো না। এটা আমাদের জন্য খুবই হতাশার।’

এভাবে বাদ পড়া আবাহনী ও বাফুফের কূটনৈতিক ব্যর্থতা কি না, ফুটবল মহলে আছে তেমন আলোচনাও। যদিও আবাহনীর দাবি, ম্যাচটি খেলতে সব চেষ্টাই তারা করেছিল। আবাহনীর ডিরেক্টর ইনচার্জ কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা তো নাম প্রত্যাহার করিনি। আমরা অবশ্যই ম্যাচটা খেলতে চেয়েছি মালদ্বীপ গিয়ে। কিন্তু সেই সুযোগ আমরা পাইনি। ঢাকায় এসেও ম্যাচ খেলতে রাজি হয়নি ইগলস। তাই এটা আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে।’

এএফসি অবশ্য সরাসরি বলেনি আবাহনীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এএফসি একটু ভদ্র ভাষায় বলেছে, তারা ধরে নিচ্ছে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে আবাহনী। ফলে আবাহনীর প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ ইগলসকে পরবর্তী রাউন্ডে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটা একধরনের ওয়াকওভার। ইগলস পরবর্তী রাউন্ডে ভারতের বেঙ্গালুরু এফসির সঙ্গে মালেতে ম্যাচ খেলবে ১১ মে।

বাফুফের কম্পিটিশন ম্যানেজার জাবের বিন তাহের আনসারী বলেছেন, বাফুফের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে এএফসির কাছে। এএফসি এখনো চিঠির কোনো জবাব দেয়নি। দেখা যাক তারা কী বলে।

default-image

জানা গেছে, আবাহনীর সঙ্গে কথা বলেই শুক্রবার ওই চিঠি দিয়েছে এএফসি। ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ রুপু আজ বলেছেন, ‘আমরা আসলে ভাবতেই পারেনি এএফসি এমন একটা কাজ করবে। যে কারণে আমরা খুবই বিস্মিত এবং হতাশ হয়েছি। কোনো ইঙ্গিত ছিল না এমন কিছু হতে পারে। এখানে আমাদের কোনো ত্রুটি ছিল না।’

এমন পরিস্থিতি কোচ মারিও লেমোসের জন্য খুবই হতাশার। চেয়েছিলেন এএফসি কাপে ভালো খেলে ঘরোয়া ব্যর্থতা ভুলবেন, ‘এটা আমার জন্য দুঃখজনক। আমি দলটাকে ভালোভাবে তৈরি করেছিলাম। কিন্তু খেলাই হলো না। ব্যাপারটা আমাদের হাতে ছিল না। কী আর করা। আমাদের কাজ এখন সামনে তাকানো।’

কিন্তু সামনে ভালো কিছুর ইঙ্গিত নেই। পরিবর্তিত অবস্থায় আবাহনীর লক্ষ্য কী? মারিও বলেন, ‘এএফসি কাপে সুযোগ পেলে ভালো, না হয় লিগ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হবে। বসুন্ধরা যদি সামনে পয়েন্ট হারায় আর আমরা যদি সব ম্যাচ জিততে পারি, তাহলে কিছুটা ফিরে আসার সুযোগ থাকবে লিগ লড়াইয়ে। আমরা এখন লিগের বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবছি।’

কিন্তু লিগের বাকি ম্যাচগুলোয় রানার্সআপ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এই ব্যর্থতার জন্য মারিও বেশি দায়ী করছেন দলের রক্ষণভাগকে। তবে নিজের কাঁধেও নিলেন দায়, ‘এটা আমারও ব্যর্থতা। আমি হয়তো উজ্জীবিত করতে পারিনি দলটাকে, যা স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই আমার।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন