বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এই হারে রানার্সআপ হওয়ার লড়াইয়ের দৌড়েও পিছিয়ে পড়ল তারা। ১৮ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও তাদের থেকে দুই ম্যাচ কম খেলে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে শেখ জামাল ধানমন্ডি। আজকের জয়ে ১৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নবম স্থানেই থাকল মুক্তিযোদ্ধা।

মূলত আইভরি কোস্টের বাল্লো ফামুসা ও ইব্রাহিম আবু ডিক্কো জুটির কাছেই হেরে গেল আবাহনী। মাত্র দুই ম্যাচ খেলেছে আইভোরি কোস্ট অনূর্ধ্ব–১৭ দলে খেলা ইব্রাহিম। তাঁর দুর্দান্ত গতি ও বলের নিয়ন্ত্রণই বুঝিয়ে দিয়েছে কৈশোরে তাঁর গায়ে জাতীয় যুব দলের জার্সিটা এমনি এমনি উঠে নি। তাঁর গতির কাছে বারবার পরাস্ত হয়েছে আবাহনীর ‘বুড়ো’ রক্ষণভাগ।

১৭ মিনিটে ইব্রাহিমের গোলেই এগিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা। গোলটিতে ফুটে উঠে আইভোরি কোস্ট রসায়ন। মাঝমাঠের ওপর থেকে ইব্রাহিম থ্রু দিলে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন ফামুসা। আবাহনী গোলরক্ষক শহিদুল ঝাঁপিয়ে সেভ করেন। ততক্ষণে মাঝমাঠ থেকে দৌড়িয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছেন ইব্রাহিম। জটলা থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাম পায়ের শটে করেন ১–০।

১৮ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও তাদের থেকে দুই ম্যাচ কম খেলে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে শেখ জামাল ধানমন্ডি।

৪৪ মিনিটে আবারও আইভরি রসায়ন। এবার ফামুসাকে দিয়ে গোল করালেন ইব্রাহিম। ডানপ্রান্ত থেকে তাঁর ক্রসে বক্সের মধ্যে থেকে হেডে গোলটি করেন ফামুসা, ২–০। মাসিহ সাইগানি, রায়হান হাসানরা যেন দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থেকে গোলটি উপভোগ করলেন।

প্রথমার্ধেই মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে ২ গোল হজম করে কোণঠাসা আবাহনী। ম্যাচে ফিরতে যেভাবে খেলার প্রয়োজন সে শক্তি আর তাদের কোথায়? দুই ফুলব্যাকের ভালো ওভারল্যাপিং নেই। মাঝমাঠ থেকে নেই গোল করার মতো কোনো পাস। উল্টো গোল মিসের মহড়া দিয়ে গেলেন সানডে সিজোবা ও কারভেন্স বেলফোর্ট।

পেনাল্টি পাওয়ায় রক্ষা! প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান সানডে। বক্সের মধ্যে রাফায়েল আগুস্তোকে মুক্তিযোদ্ধার সেন্টারব্যাক মেহেদী হাসান ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আবাহনী। পেনাল্টি থেকে করেন সানডে ২–১।

default-image

৬৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় মুক্তিযোদ্ধাও। ইব্রাহিম ঝড়ের গতিতে একক প্রচেষ্টায় বক্সের মধ্যে ঢুকলে তাঁকে থামাতে পেছন থেকে ফাউল করা ছাড়া আন কোনো রাস্তা খুঁজে পেলেন না আবাহনীর তরুণ মিডফিল্ডার মোহাম্মদ হৃদয়। পেনাল্টিটা অবধারিতই ছিল এবং সেখান থেকে গোল করেন ফামুসা, স্কোর ৩–১।

বিদেশির দিনে কম গেলেন না মুক্তিযোদ্ধার স্থানীয় খেলোয়াড় সারোয়ার জামান নিপু। ৭১ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে ৮৪ মিনিটে উপহার দিলেন দুর্দান্ত এক গোল। মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা বল বক্সের মধ্যে দারুণ ভাবে নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর সামনের দুজন খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের শটে গোল, ৪–১।

যোগ করা সময়ে গোল করে আবাহনীর হারের ব্যবধানটা ভদ্রস্থ চেহারায় এনেছেন বদলি ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ।

আজকের হার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে আবাহনীর। শেষ পর্যন্ত রানার্স আপ হতে পারবে কি না, সে প্রশ্নও উঠে গেল।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন