আবাহনী ম্যাচের আগে মোহনবাগানে সমর্থক বিদ্রোহ

মোহনবাগানের নামের আগে ‘এটিকে’ চান না তাদের সমর্থকেরাছবি: টুইটার

কলকাতার যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সমর্থকেরা আওয়াজ তুলবেন, সেই গর্জন বাংলাদেশের ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে মোহনবাগানকে—ব্যাপারটি এমনই হওয়ার কথা। কিন্তু আগামীকাল এএফসি কাপের প্লে–অফের দ্বিতীয় পর্বে দুই বাংলার দুই সেরা ক্লাবের লড়াইয়ে মোহনবাগানকে কিছুটা অস্বস্তিতে রেখেছেন তাদের সমর্থকেরা।

আবাহনী কোচ মারিও লেমোস কলকাতার যুব ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনের গ্যালারি ভর্তিই দেখতে চান
ছবি: প্রথম আলো

মোহনবাগান ক্লাবের নামের আগে ‘এটিকে’ নামটি যুক্ত হওয়া নিয়েই সমর্থকদের যত আপত্তি। এই সংযুক্তি অবশ্য দুই বছর আগেই। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে এটিকের সঙ্গে শতবর্ষের পুরোনো মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব সংযুক্ত হয়। যার ফলে তাদের ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (আইএসএল) খেলার রাস্তা সহজ হয়। কিন্তু এটি নিয়ে ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান ক্লাবের সমর্থকদের বেশ আপত্তি। এই সংযুক্তির ফলে ক্লাবের ৮০ শতাংশ মালিকানা এখন একটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে। মূল মোহনবাগানের হাতে মাত্র ২০ শতাংশ মালিকানা। এএফসি কাপের প্লে–অফের প্রথম পর্বে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টার ক্লাবের বিপক্ষে এই ‘এটিকে’কে সরানোর দাবি নিয়ে কলকাতার যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্যানার–ফেস্টুনও নিয়ে এসেছিলেন সমর্থকেরা। এ জন্য এএফসি মোহনবাগানকে জরিমানাও করেছে। আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচের আগেও মোহনবাগান সমর্থকদের এমন কর্মসূচি আছে। খেলা চলার সময়ও তারা ‘এটিকে-বিরোধী’ অবস্থান নেবেন—এমন খবরই দিয়েছে কলকাতার আজকাল পত্রিকা।

তবে সমর্থকদের কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশি মোহনবাগান অধিনায়ক প্রীতম কোটালের, ‘সমর্থকেরাই আমাদের বাড়তি প্রেরণা। আবাহনীর বিপক্ষে আমরা সেটিই কাজে লাগাতে চাই। আবাহনী শক্তিশালী দল। বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে তাদের খেলা দেখেছি। দলটার মধ্যে জমাট একটা ব্যাপার আছে, গতিও আছে। সেগুলো আটকাতে হবে।’

আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোস চান দর্শকে পরিপূর্ণ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গন। মোহনবাগানের হাজার হাজার সমর্থকের সামনেই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তাঁর, ‘জানি ঘরের মাঠে খেলে বাড়তি সুবিধা পাবে মোহনবাগান। তবে আমরাও চাই স্টেডিয়াম কাল ভরে উঠুক।’