default-image

ইউরোপ যেন সাক্ষাৎ বিভীষিকা! বার্সেলোনার এখন তা-ই মনে হতে পারে। সেই ২০১৫ সালে সর্বশেষবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল, এরপর বছরের পর বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে একরাশ হতাশা নিয়েই ঘরে ফিরছেন মেসি-সুয়ারেজ-পিকেরা। যার নবতম সংস্করণ, লিসবনের স্তাদিও দা লুজে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়া।

এমন বিধ্বস্ত অবস্থায় আর কীই–বা হতে পারে? এদিক-ওদিক দোষারোপ চলছে কোথাও। কেউ কোচের দোষ খুঁজে বের করছেন, কেউবা বোর্ডের, আর কেউ দায় চাপাচ্ছেন খেলোয়াড়দের ঘাড়ে। বার্সার এখন সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ কোথায় দেবে তা-ই যেন বের করা ভার। বার্সার ড্রেসিংরুমে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ যিনি, সেই ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের আত্মবিশ্লেষণ—বার্সেলোনা তলানিতে পৌঁছে গেছে। ক্লাবকে খোলনলচে বদলাতে হবে। তাতে যদি তাঁর সরে যেতে হয়, তাহলে ক্লাব ছেড়ে যেতেও তৈরি পিকে।

বার্সেলোনা যে এখন আর ইউরোপের সেরা দলগুলোর কাতারে নেই—সেটি এই মৌসুমে বেশ কয়েকবারই বোঝা গেছে। কখনো একাই লিওনেল মেসি উদ্ধার করেছেন, তো কখনো ভাগ্য। কিন্তু দল হিসেবে বার্সার শক্তি দিন দিন কমছেই। দলের প্রয়োজন বিবেচনা না করেই একের পর এক তারকা টেনেছে কাতালান ক্লাবটি, খেলার ধরনে এই কয়েক বছর আগেও বিশ্বের তাবৎ ফুটবলপ্রেমীর মন কেড়ে নেওয়া বার্সার ফুটবল ইদানীং চোখের জন্য পীড়াদায়ক। দলের অনেক খেলোয়াড়েরই বয়স ৩০-এর ডানে। বোর্ডের একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত ক্লাবটাকে দিনে দিনে আরও পিছিয়ে দিচ্ছে।

সবকিছুর মিলিত ফল—২০১৪ সালের পর এই প্রথম কোনো মৌসুমে শিরোপাহীন বার্সা। ক্লাবটির পাঁড় সমর্থকদের সমালোচনা, অসন্তোষ অনেকদিন ধরেই ফেসবুক-টুইটারে স্পষ্ট। তাতে বড় ধাক্কা হয়ে এল কাল রাতে বায়ার্ন মিউনিখের গোলের সুনামি। এমন হারের আর কী-ই বা ব্যাখ্যা দিতে পারে বার্সা। নিস্তব্ধ, নির্বাক বার্সা! তাতে পিকের যে ম্যাচ শেষে কিছু বলার মতো মুখ ছিল, এ-ও বোধ হয় কম নয়!

‘জঘন্য একটা ম্যাচ ছিল। বিপর্যয়! একটাই শব্দ বলা যায় এটির জন্য, অপমান!’—ম্যাচের পরের প্রতিক্রিয়ায় পিকের কথা। কিন্তু এমন অপমানের সঙ্গে তো গত পাঁচ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সার নিয়মিতই সাক্ষাত হয়ে আসছে। পিকের কথায়ও সেটির প্রতিফলন, ‘এভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় টিকে থাকা যাবে না। এটা প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার হয়নি আমাদের সঙ্গে। এটা মেনে নেওয়া কঠিন, খুবই কঠিন। আশা করি এই বিপর্যয় থেকে ভালো কিছু বেরিয়ে আসবে।’

বার্সা সভাপতি হোসে মারিয়া বার্তোমেউ ম্যাচের পর বলে দিয়েছেন, ক্লাবের ব্যাপারে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এবং তার কিছু কিছু তিনি এরই মধ্যে নিয়ে ফেলেছেন। যদিও বার্সেলোনার অনেক সমর্থক সভাপতিরই পদত্যাগ চাইছেন সবার আগে। কেউ বলছেন, কোচ কিকে সেতিয়েনের আর একদিনও থাকা উচিত নয় ক্লাবে। পিকে নির্দিষ্ট করে কারও নাম না বললেও তাঁর কথায়ও যেন বোর্ডে বদল চাওয়ার ইঙ্গিত, 'আমাদের সবারই আত্মবিশ্লেষণ করা উচিত। ক্লাবটাতে অনেক বদল দরকার। বদল বলতে আমি শুধু কোচ বা খেলোয়াড় বদলের কথাই বলছি না। আমি নির্দিষ্ট করে কারও কথা বলব না, পুরো ক্লাবেরই বদল দরকার। সব ধরনের বদলই দরকার, কারণ এমন হার আমরা যে এই প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার হেরেছি, তা-ও নয়।'

বদলের প্রসঙ্গেই প্রয়োজনে নিজে সরে যাওয়ার কথাও বললেন বার্সা ডিফেন্ডার, 'একেবারে বাদ দেওয়া যাবে না—এমন কেউই নেই। সবার আগে আমিই এগিয়ে আসব। (আমার জায়গায়) যদি নতুন কারও আসার দরকার হয়, দলের খোলনলচে বদলানোর দরকার হয়, সে ক্ষেত্রে সবার আগে আমিই সরে যাব। কারণ আমার কাছে মনে হচ্ছে আমরা দল হিসেবে তলানিতে পৌঁছে গেছি।'

এতে সম্ভবত বার্সেলোনার কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0