default-image

কিন্তু খেলোয়াড়েরা পণ্য দূতিয়ালির দায়িত্ব পালনের জন্য নিজ নিজ ব্র্যান্ডের প্রতি অনুগত থাকলেও, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও যে অনুগত থাকতে হবে, ব্যাপারটা তো তেমন নয়!

তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, অনেকে ব্যাপারটাকে সেভাবেই দেখেন! খেলার সঙ্গে বিপণনের সম্পর্ক যেভাবে দিন দিন ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর হচ্ছে, তাতে খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যরাও নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের বাইরে অন্য কোনো ব্র্যান্ডের কিছু ব্যবহার করতে পারবেন না, এমনই ধরে নিচ্ছেন। অন্তত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সম্প্রতি যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলে, সে শুনলে অমনটা মনে হতেই পারে।

বেশি কিছু না, রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র দাদি মারিয়া দোলোরেস আভেইরোর সঙ্গে বড় আহ্লাদ করে সেদিন একটা ছবি তুলেছিল। সেখানে দেখা যাচ্ছিল, নাইকির কালো জ্যাকেটের সঙ্গে অ্যাডিডাসের একজোড়া সাদা মোজাও পরেছে সে।
ব্যস, আর যায় কোথায়! শুরু হলো সমালোচনা। রোনালদোর নিজের বাসার মানুষই যেখানে সর্বতোভাবে নাইকির ওপর বিশ্বাস রাখতে পারে না, রোনালদো কীভাবে সেখানে সেই ব্র্যান্ডের দূত হয়ে সবাইকে সেই ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করতে বলেন?

সমালোচনাকারীদের মূল বক্তব্য ছিল এটাই। জবাব দিতে বেশি সময় দেননি রোনালদো। যোগ্য বাবার মতো আগলাতে চলে এসেছেন প্রিয় ছেলেকে। মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, ‘আমার ছেলে যা চায়, তা–ই পরবে। আপনাদের চাওয়া মতো সে কিছু করবে না।’

default-image

২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইনস্টাগ্রামে পণ্যের দূতিয়ালি করার জন্য প্রতি পোস্ট বাবদ ৯ লাখ ৭৫ হাজার ডলার আয় করতে পারেন রোনালদো। এর বিশাল অংশ আসে নাইকি থেকেই। সেই ২০০৩ সালে নাইকির সঙ্গে রোনালদোর জুটি। সর্বশেষ যে চুক্তি ২০১৬ সালে নবায়ন করা হয়। মনে করা হয়, নাইকির সঙ্গে আজীবনের চুক্তি করেছেন রোনালদো, যার অর্থমূল্য এক বিলিয়ন ডলার। স্বাভাবিকভাবেই, নাইকি ছাড়া অন্য কোনো ব্র্যান্ডের পণ্য পরতে দেখা যায় না রোনালদোকে।

ক্রীড়াজগতে এ দূতিয়ালির ব্যাপারটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা বোঝা গিয়েছিল রোনালদোর আরেক ঘটনাতেই। গত ইউরোতে সংবাদ সম্মেলনে এসেই সামনে রাখা দুটি কোকাকোলার বোতল সরিয়ে পানির বোতল টেনে নিয়ে বলেছিলেন, ‘পানি খান। কোকাকোলা... (না)।’ তখন অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, কোকাকোলার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী পেপসির দূতিয়ালি করতেই বুঝি এমন করেছেন রোনালদো! সে কারণেই হয়তো এভাবে কোকাকোলার নেতিবাচক বিপণন করছেন।

default-image

কোকাকোলা ইউরোর অফিশিয়াল স্পনসর ছিল। স্বাভাবিকভাবেই সংবাদ সম্মেলন টেবিলে নিজেদের কোমল পানীয়র বোতল রেখেছিল তারা। রোনালদোর এই কাণ্ডে বেশ ভালোই ক্ষতি হয়েছিল কোকাকোলার। সে ঘটনার দিন ইউরোপের শেয়ার মার্কেট খোলার সময় কোকাকোলার শেয়ারের দর ছিল ৫৬.১০ ডলার। আধা ঘণ্টা পর পর্তুগালের ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। আর বুদাপেস্টে পুসকাস স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনকক্ষের ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে শেয়ারে দর ৫৫.২২ ডলারে নেমে আসে।

এখন রোনালদোর ছেলের কারণে নাইকির এমন কোনো ক্ষতি হয় কি না, দেখা যাক!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন