কোমানের চাকরি এরই মধ্যে পড়ে গেছে শঙ্কায়।
কোমানের চাকরি এরই মধ্যে পড়ে গেছে শঙ্কায়।ছবি: রয়টার্স

রোনাল্ড কোমানের এখন কি কিছুটা আফসোস হচ্ছে?

নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের দায়িত্বে বেশ ভালো সময় কাটছিল তাঁর। অন্তত ২০২০ ইউরো (করোনার কারণে যেটি পিছিয়ে এ বছর আয়োজনের পরিকল্পনা ইউরোপের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার) পর্যন্ত সেখানে তাঁর চুক্তি ছিল। ভার্জিল ফন ডাইক, জর্জিনিও ভাইনালডাম, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, ম্যাটাইস ডি লিখট, মেম্ফিস ডিপাই, স্টিভেন বের্গভেইনদের মতো দারুণ প্রতিভাবান তরুণ আর অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিশেলে গড়া নেদারল্যান্ডস দল তাঁর অধীনে ইউরোতে দারুণ কিছু করার স্বপ্নও দেখছিল।

সেই স্বপ্ন ছেড়ে কোমান হঠাৎ চলে এলেন বার্সেলোনায়। কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর প্রাণের সম্পর্ক। ভালভার্দে-সেতিয়েনদের অধীনে ক্রমে পিছিয়ে পড়া বার্সা যখন শক্ত হাতের খোঁজে, বার্সার সে সময়ের সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর ডাকে সাড়া দিয়ে কোমান চলে এলেন। কিন্তু এসে লাভ হলো কী? এক মৌসুমও যায়নি, তাঁর চাকরি এরই মধ্যে পড়ে গেছে শঙ্কায়। তবে চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কোমান যেন উল্টো এখন বার্সাকেই হুঁশিয়ার করে দিলেন। বলে দিলেন, ক্লাবে তাঁর ভবিষ্যৎ না থাকলে বার্সেলোনাই বিপদে পড়বে।

default-image
বিজ্ঞাপন

কোমানের অধীনে এই মৌসুমে বার্সেলোনা প্রথমে ধুঁকলেও জানুয়ারির পর থেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছে। মৌসুমটাতে বার্সা পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আনসু ফাতি-পেদ্রি-আরাউহো-মিঙ্গেসাদের মতো তরুণদের দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই এই মৌসুম পার হয়ে যাবে—এমনটা মৌসুমের শুরুতেই ধরে নিয়েছিলেন অনেকে। মৌসুমে তাই বার্সার শিরোপার স্বপ্ন থাকলেও সম্ভাবনার নিক্তিতে বার্সা শুরু থেকেই অনেক পিছিয়ে ছিল। মৌসুমের মাঝপথে এসে দেখা যাচ্ছে, বার্সার মৌসুমটা শিরোপাশূন্য থাকারই সম্ভাবনা।

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে বার্সার মাঠে এসে কিলিয়ান এমবাপ্পের চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিকে বার্সাকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গেছে পিএসজি। চ্যাম্পিয়নস লিগে তাই বার্সার এই মৌসুমের অভিযান শেষ ষোলোতেই থেমে যাচ্ছে ধরে নেওয়া যায়। বাকি রইল ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো। তার মধ্যে স্প্যানিশ সুপারকোপাতে ফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কাছে হেরেছে বার্সা। লিগে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে থাকা বার্সার (২৫ ম্যাচে ৫৩ পয়েন্ট) চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেই ৫ পয়েন্ট এগিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ। আর স্প্যানিশ কাপ বা কোপা দেল রেতে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে সেভিয়ার মাঠে ২-০ গোলে হেরেছে বার্সা। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় ক্যাম্প ন্যুতে দ্বিতীয় লেগে দারুণ কোনো প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে না পারলে এই টুর্নামেন্টেও বার্সার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে।

শিরোপাশূন্য থাকার ব্যাপারটা তো আছেই, বার্সায় কোমানের ভবিষ্যৎ শঙ্কার মুখে পড়েছে বার্সেলোনার সভাপতি নির্বাচনের কারণে। আগামী ৭ মার্চ নির্বাচনে তিন প্রার্থী হোয়ান লাপোর্তা, ভিক্তর ফন্ত ও টনি ফ্রেইসার মধ্যে যিনিই জিতুন, কোমানকে তাঁরা কোচ হিসেবে রাখতে চান না—এমনই গুঞ্জন স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে। ফন্ত তো তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার বড় ভিত্তিই বানিয়েছেন ক্লাবের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ও বর্তমানে কাতারের ক্লাব আল-সাদের কোচ জাভি হার্নান্দেজকে বার্সার কোচ করে আনার ঘোষণা দিয়ে।

default-image

কিন্তু এই মৌসুমের শুরুতে বার্সার ডাগআউটে আসা কোমানের সঙ্গে বার্সার চুক্তি তো আছে দুই বছরের। সে ক্ষেত্রে কোমানকে ছাঁটাই করতে গেলে কোনো ক্ষতি কি হবে বার্সার? ডাচ্‌ কোচের শুরু করা ‘প্রক্রিয়া’ হয়তো পূর্ণতা পাবে না। কিন্তু সে ঝামেলা তো যেকোনো কোচকে ছাঁটাই করার ক্ষেত্রেই আছে। বার্সার আরেকটা ঝামেলা হতে পারে। কোমানের চুক্তি বাকি থাকা অবস্থায় তাঁকে ছাঁটাইয়ের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যে অঙ্কটা কয়েক মিলিয়ন ইউরো হতে পারে। আর্থিকভাবে বেশ নাজুক অবস্থায় থাকা বার্সা সে ধাক্কা নিতে পারবে?

কোমান অবশ্য কোন দিকে ইঙ্গিত করেছেন কে জানে। সে ব্যাখ্যা দেননি বার্সা কোচ, গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার প্রশ্নে শুধু বলেছেন, ‘(বার্সার সভাপতি পদে তিন প্রার্থীর) কারও সঙ্গে আমি কথা বলিনি। কে সভাপতি হন, তাঁর পরিকল্পনা কী, সেসব দেখা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’ এরপরই তাঁর মুখে হুঁশিয়ারির মতো শোনা গেল, ‘আমি যদি এখানে ভবিষ্যতে আমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না দেখি, সে ক্ষেত্রে বার্সার বিপদে পড়বে। কারণ, আমার চুক্তিতে এখনো এক বছর বাকি আছে।’

দেখা যাক, ক্লাবকে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো কিংবদন্তির সঙ্গে বার্সার সম্পর্কটা কোন দিকে মোড় নেয়‍!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন