বিজ্ঞাপন

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ফাইনালে যেদিন স্পেন ২-১ গোলে রাশিয়াকে (তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়ন) হারায়, মাঠে প্রায় ৮০ হাজার দর্শক গলা ফাটিয়েছেন স্পেনের হয়ে। এমন একটা জয়ের কথা, এমন গৌরবের গল্প স্পেন কেন জানি খুব একটা মনে রাখেনি। খুব একটা চর্চা হয়নি সেটা নিয়ে।

কেন? সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কাস্ত্রো বলেছেন, দলে তখন খুব বড় তারকা ছিলেন না। একমাত্র লুইস সুয়ারেজ ছাড়া আর ওই দলে আসলে স্প্যানিশ ফুটবলে মনে রাখার মতো কেউ ছিলেন না।

default-image

সুয়ারেজ বললে এখনকার ফুটবলপ্রেমীদের চোখের সামনে এক উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারের ছবিই ভেসে ওঠে। বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব ফুটবলের সব ট্রফি জিতে যিনি সম্প্রতি আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়েও জিতেছেন লা লিগা। তবে সেই সুয়ারেজ উরুগুইয়ান নন, স্প্যানিশ। মিলটা হচ্ছে, তিনিও বার্সেলোনায় খেলতেন। ইন্টার মিলানের হয়ে জিতেছেন ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে পরপর দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ।

স্পেনের সেই ইউরো জয়টা খুব একটা চর্চিত না হওয়ার আরেকটা কারণ কাস্ত্রোর মতে, তখনো স্প্যানিশরা এই জয়ের মাহাত্ম্য বুঝতে পারেনি। বুঝতে পেরেছে আরও একটা আন্তর্জাতিক ট্রফি জিততে স্পেনকে ৪৪ বছর অপেক্ষা করতে দেখার পর।

এক নজরে ইউরো ১৯৬৪

স্বাগতিক: স্পেন

ফাইনালের ভেন্যু: সান্তিয়াগো বার্নাব্যু, মাদ্রিদ

চ্যাম্পিয়ন: স্পেন

রানার্সআপ: রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)

তৃতীয়: হাঙ্গেরি

চতুর্থ: ডেনমার্ক

১৯৬০ সালে ইউরোর প্রথম আসরে স্পেন বাছাইপর্বে রাশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা ওয়াকওভার দিয়েছিল। যে ওয়াকওভার পেয়েই আসলে রাশিয়া উঠে গিয়েছিল মূল পর্বে। স্পেনের তখনকার সামরিক শাসক জেনারেল ফ্রাঙ্কো কমিউনিস্ট রাশিয়ার সঙ্গে খেলতে দিতে চাননি তাঁর দেশকে। তবে চার বছর পর তাঁর নিজের দেশই যখন স্বাগতিক এবং রাশিয়া আরও একবার ফাইনালে উঠে গেল, তখন আর আপত্তি করেননি।

প্রথম আসরের বাছাইপর্বে ১৭টি দল অংশ নিলেও ১৯৬৪ সালে দ্বিতীয় আসরে অংশ নিয়েছিল ২৯টি দল। গ্রিস নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল তাদের আলবেনিয়ার সঙ্গে খেলতে হবে বলে।

বাছাইপর্বের পরাশক্তি নেদারল্যান্ডসকে দুই লেগ মিলিয়ে হারিয়ে চমক দেখায় লুক্সেমবার্গ। ডেনমার্কের সঙ্গেও দুই লেগ মিলিয়ে ড্র করে। পরে অবশ্য ফল নির্ধারণী ম্যাচে ডেনমার্ক ঠিকই লুক্সেমবার্গকে হারিয়ে উঠে যায় চূড়ান্ত পর্বে।

default-image

ফাইনালে ১০ মিনিটের মধ্যেই একটা করে গোল করে স্পেন ও রাশিয়া। তারপর আর গোল নেই। মনে হচ্ছিল আরও একবার ইউরোর ফাইনাল গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু ম্যাচের ৬ মিনিট বাকি থাকতে রাশিয়ার কিংবদন্তি গোলরক্ষক লেভ ইয়াসিনকে ফাঁকি দিয়ে গোল করে বসেন স্পেনের মার্সেলিনো।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গর্জনে তখন কান পাতা দায়!

আরও যত গল্প

default-image

সর্বকনিষ্ঠ কোচ

স্পেনকে ১৯৬৪ ইউরো জেতানো কোচ হোসে ভিয়ালোঙ্গা ইয়োরেন্তে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ১৯৬২ সালে। এর আগে রিয়ালের হয়ে ১৯৫৬ সালে জিতেছেন প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ (তখনকার ইউরোপিয়ান কাপ), ছিলেন আতলেতিকো মাদ্রিদেরও কোচ। হোসে ভিয়ালোঙ্গা ইয়োরেন্তে ইউরো জিতেছিলেন মাত্র ৩৬ বছর ১৮৪ দিন বয়সে। এখনো সেটা কোচ হিসেবে সবচেয়ে কম বয়সে ইউরো জেতার রেকর্ড।

সুয়ারেজের ডাবল

ওই বছরই ইন্টার মিলানের হয়ে ইউরোপিয়ান কাপ জিতে ইউরোতে গিয়েছিলেন স্প্যানিশ উইঙ্গার লুইস সুয়ারেজ। ইউরো জেতার পর তিনি হয়ে যান একই বছর ইউরোপিয়ান কাপ ও ইউরোর ডাবল জেতা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড়। সুয়ারেজের বয়স তখন ২৯। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে কোচিংও করিয়েছেন সুয়ারেজ। ইন্টার মিলান, কালিয়ারির কোচ ছিলেন, তাঁর অধীনেই ১৯৯০ বিশ্বকাপে খেলেছে স্পেন।

বার্সেলোনার প্রস্তাব

বাছাইপর্ব ও মূল পর্ব মিলিয়ে ১৯৬৪ ইউরোর সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ডেনমার্কের ওলে মেডসেন। ইউরোর পরেই বার্সেলোনা তাঁর সঙ্গে চুক্তি করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মেডসেন সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন দেশের হয়ে খেলবেন বলে। ওই সময় শুধু অ্যামেচার ফুটবলাররাই খেলতে পারতেন ডেনমার্কের জাতীয় দলে, পেশাদারদের নেওয়া হতো না!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন