default-image
>

গত দুই মৌসম ধরে ভবিষ্যতের কথাই বেশি ভাবছে রিয়াল মাদ্রিদ। একে একে বেশ কয়েকজন ভবিষ্যতের তারকাকে দলে ভিড়িয়েছে তাঁরা। সে লক্ষ্যে আগামী দলবদলে দলের পুরোনো যোদ্ধা কাসেমিরোর সঙ্গে অদল-বদল করে খেলানোর জন্য একজন তরুণ রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার আনতে চাইছে তাঁরা।

রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করতে চাইছেন জিদান। পোড় খাওয়া এই কোচ বেশ ভালোই বুঝে গেছেন, রামোস-বেনজেমাদের দিন আস্তে আস্তে ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই আগামী পাঁচ-সাত বছরে যাতে খেলোয়াড় নিয়ে সমস্যায় না পড়তে হয়, এ জন্য আগেভাগেই দল ভরছেন তরুণ সব তারকা দিয়ে।

আক্রমণভাগে রোনালদো-বেল-বেলজেমা কিংবা ভাসকেজদের জায়গায় যেমন আনা হয়েছে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো গোয়েজ, রদ্রিগো আন্তোনিও, স্পেনের ব্রাহিম দিয়াজ, সার্বিয়ার লুকা ইয়োভিচদের। মিডফিল্ডের আক্রমণাত্মক জায়গাগুলোতে খেলানোর জন্য কিছুদিন পর থেকেই ইস্কো, হামেস রদ্রিগেজ, লুকা মদরিচ, টনি ক্রুসদের জায়গায় দেখা যাবে নরওয়ের মার্টিন ওডেগার্ড, জাপানের তাকেফুসা কুবো, ব্রাজিলের রেইনিয়ার জেসুসকে। মিডফিল্ডার হিসেবে দলে আরও আছেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। রক্ষণভাগেও সার্জিও রামোসের জায়গায় এসে গেছেন ব্রাজিলের এডার মিলিতাও, পরবর্তী মার্সেলো-কারভাহাল হওয়ার স্বপ্নে দিন গুনছেন আশরাফ হাকিমি, সার্জিও রেগুলিন, আলভারো ওদ্রিওসোলা কিংবা ফারলান্ড মেন্ডিকে। গোলরক্ষকের জায়গায় দেখা যেতে পারে আন্দ্রিই লুনিনকে।

মাঠের সব পজিশনে মোটামুটি নতুন দিনের তারকা আনতে পারলেও একজনের বিকল্প এখনো খুঁজে খুঁজে মরছেন জিদান। তিনি আর কেউ নন, ব্রাজিলের রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার কাসেমিরো। অনেকের মতে, ফুটবল মাঠের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় খেলেন কাসেমিরোরা। কাসেমিরোরা নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারলেই আলো ছড়াতে পারেন বেনজেমা, বেলরা। অথচ সে জায়গাতেই খেলানোর মতো কাসেমিরোর আদর্শ বিকল্প নেই জিদানের হাতে। এখনো মূল একাদশ থেকে কাসেমিরোকে যেকোনো ম্যাচে বাদ দেওয়ার আগে দশবার ভাবতে হয় জিদানকে। কারণ ওই একটাই। অন্য সব জায়গায় খেলানোর জন্য বেঞ্চে আদর্শ বিকল্প থাকলেও, এই এক জায়গাতে এসেই জিদান হয়ে যান নিরুত্তর। যে একজন ছিলেন, সে মার্কোস ইয়োরেন্তেকে এই মৌসুমেই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে। ফলে চোট বা অন্য কোনো কারণে কাসেমিরো খেলতে না পারলে, ভবিষ্যতে মাদ্রিদের কী হবে, কেউ জানে না।

এ কারণেই আগামী মৌসুমে আরেকজন ‘কাসেমিরো’ আনার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জিনেদিন জিদান। এ লক্ষ্যে তাঁর পছন্দের তালিকায় আছেন তিন ফরাসি—রেনেঁর এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, লিলের বুবাকারি সুমারে ও চেলসির এনগোলো কান্তে। জাতিগত কারণ কিংবা যে কারণেই হোক না কেন, এমনিতে ফরাসি ফুটবলারদের প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি কোচ জিনেদিন জিদানের আলাদা দরদ কাজ করে।

জিদানের অধীনেই রাফায়েল ভারান বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারে পরিণত হয়েছেন। করিম বেনজেমা নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন। দলে এসেছেন ফারলান্ড মেন্ডির মতো প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেফটব্যাক। গোলরক্ষক হিসেবে পিএসজি থেকে যোগ দিয়েছেন আরিওলা। লুকা জিদানও রিয়াল মাদ্রিদের তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে ছিলেন এক মৌসুমের মতো। এক মৌসুম রিয়ালে খেলে গিয়েছেন ফরাসি লেফটব্যাক থিও হার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবাকে দলে আনার জন্য দুই বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, লাভ হয়নি যদিও। এবার কাসেমিরোর বিকল্প হিসেবেও তিন ফরাসির যেকোনো একজনকেই দলে চাইছেন জিদান।

এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা খেলেন ফরাসি ক্লাব রেনেঁর হয়ে। বয়স মাত্র ১৭ বছর। কিন্তু বয়স দেখে ভুল বুঝবেন না। এর মধ্যে ফরাসি লিগে সে যেভাবে খেলছে, তাতেই চোখ কপালে উঠে গেছে অনেকের। এর মধ্যেই অনেকে ‘নতুন পগবা’ নাম দিয়ে দিয়েছেন এই তরুণের। শুধু রিয়াল মাদ্রিদই নয়, ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-২১ দলের এই মিডফিল্ডারের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে পিএসজি, বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মতো ক্লাবগুলোও। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলার পাশাপাশি এনগোলো কান্তে বা কাসেমিরোর মতো রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলতে পারে সে। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারের মতো শুধু ট্যাকল বা প্রতিপক্ষের পা থেকে মাঝমাঠে বল কেড়ে নেওয়াই নয়, ড্রিবল করে সামনে এগিয়ে যাওয়া বা ছোট পাসে আক্রমণে ভূমিকা রাখার কৌশলটাও বেশ ভালো জানা আছে তার। এর মধ্যে মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচ খেলে ফেলেছে কামাভিঙ্গা, এক গোল করার পাশাপাশি সহায়তা করেছে আরও দুটি গোলে।

জানা গেছে গত জানুয়ারিতে কামাভিঙ্গাকে পেতে ৫০ মিলিয়ন ইউরোর একটা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ডর্টমুন্ড, লাভ হয়নি। রেনেঁ তার জন্য ১০০ মিলিয়ন ইউরো দাবি করেছে। রেনেঁর সঙ্গে ২০২২ সাল পর্যন্ত চুক্তি আছে কামাভিঙ্গার, ফলে আপাতত আকাশছোঁয়া দাম হাঁকানোর ওই সুবিধাটা পাচ্ছেন রেনেঁর কর্তাব্যক্তিরা। তবে খেলার সঙ্গে পল পগবার মিল থাকলেও, রিয়াল মাদ্রিদের কর্তারা কামাভিঙ্গাকে দেখছেন কাসেমিরোর বিকল্প রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে। এমনিতেই রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলে কাসেমিরোর বিকল্প কোনো রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার নেই। আর সে সমস্যায় যাতে না পড়তে হয়, এ জন্যই কামাভিঙ্গার দিকে নজর দিয়েছেন জিদান।

ফরাসি লিগের আরেক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারের দিকেও ঝুঁকেছেন জিদান। তাঁর নাম বুবাকারি সুমারে। লিলের এই মিডফিল্ডারকে পাওয়ার জন্য গত মৌসুমে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড চেষ্টা করলেও তাড়াতাড়ি বড় ক্লাবে না গিয়ে লিলে থেকে নিজেকে অভিজ্ঞ করার দিকেই নজর দিয়েছিলে সুমারে। তাঁর ফলও পাচ্ছে ফরাসি ক্লাবটা। এই মৌসুমে এর মধ্যে ৩০ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন সুমারে, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্বের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে।

তালিকার তৃতীয় নামটা অপেক্ষাকৃত বেশি পরিচিত সবার কাছে। এনগোলো কান্তে কে কে না চেনেন? গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের সেরা রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারের খেতাব পাওয়ার জন্য কাসেমিরোর সঙ্গে লড়াই হচ্ছে তাঁর। প্রথমে লেস্টার সিটি ও পরে চেলসির হয়ে তাক লাগানো এই তারকা জিতেছেন বিশ্বকাপও। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, কাসেমিরোর সঙ্গে বিশ্বসেরা হওয়ার লড়াইয়ে থাকা এই তারকা কী রিয়ালে এসে কাসেমিরোর ‘ব্যাকআপ’ হতে রাজি হবেন?

যদি না হন, সে ক্ষেত্রে কপাল খুলে যেতে পারে কামাভিঙ্গা বা সুমারের।

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক মাস!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0