পালমেইরাসের দানিলোর সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে রিভারের এনজো পেরেজ।
পালমেইরাসের দানিলোর সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে রিভারের এনজো পেরেজ। ছবি: রয়টার্স

পালমেইরাস-সমর্থকেরা নিশ্চিত ম্যাচ শেষে বুকে হাত দিয়ে দেখেছেন, হার্টবিট ঠিক আছে কি না! যে নাটকীয়তার পর কাল আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটকে হারিয়ে কোপা লিবার্তাদোরেসের ফাইনালে উঠেছে পালমেইরাস, এরপর উদ্‌যাপনের আগে হয়তো নিজেদের হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যই প্রথমে দেখার কথা ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির সমর্থকদের।

রিভার প্লেট আর এক গোল করলেই ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে—এমন সমীকরণের ম্যাচে ৯০ মিনিটের পর যোগ করা সময়ে খেলা হয়েছে ১৩ মিনিট। একেবারে শেষ মুহূর্তে রিভার প্লেটের একটা পেনাল্টির দাবি নাকচ হয়েছে ভিএআরে। তার আগে পরতে পরতে পাল্টেছে ম্যাচের রং। পালমেইরাস-সমর্থকদের হৃৎপিণ্ডের ওপর দিয়ে তো ঝড়ই গেছে! ভিএআর দুবার পক্ষে না দাঁড়ালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির হয়তো জেতাই হতো না!

ঝড় শেষে অবশ্য আনন্দই মিলেছে। শেষ মিনিট বিশেক ১০ জন নিয়ে খেলা রিভার প্লেটের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে কাল দ্বিতীয় লেগে ২-০ গোলে হেরেও কোপা লিবার্তাদোরেসের ফাইনালে উঠেছে পালমেইরাস। রিভারের মাঠে গত সপ্তাহে প্রথম লেগে পালমেইরাস আর্জেন্টিনা গিয়ে জিতে এসেছিল ৩-০ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে পালমেইরাস জিতল ৩-২ গোলে।

বিজ্ঞাপন

৩০ জানুয়ারি ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে হবে দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বসূচক এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল, যে টুর্নামেন্টকে দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নস লিগও বলা হয়। সেই ফাইনাল ‘অল ব্রাজিলিয়ান’ হবে, নাকি ‘ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা’ হবে, তা জানা যাবে কাল বাংলাদেশ সময় ভোররাত সোয়া চারটায় আরেক সেমিফাইনালে সান্তোস বনাম বোকা জুনিয়র্স ম্যাচের পর। পেলে-নেইমারদের সাবেক ক্লাব সান্তোসের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে গত সপ্তাহে গোলশূন্য ড্র করেছে বোকা।

default-image

সাও পাওলোতে পালমেইরাসের মাঠে কাল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হয়ে খেলেছে রিভার। নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হেরে আসায় এ ছাড়া অবশ্য উপায়ও ছিল না আর্জেন্টাইন ক্লাবটির।

ম্যাচের নয় মিনিটে সুযোগ পেয়েছিল পালমেইরাসই। ব্রাজিল জাতীয় দলে কদিন আগে সুযোগ পাওয়া রাইটব্যাক গাব্রিয়েল মেনিনোর রক্ষণচেরা পাস ধরে এগিয়ে যান পালমেইরাসের রনি, কিন্তু আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে খেলা রিভারের গোলকিপার ফ্রাঙ্কো আরমানি দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে সে যাত্রায় বাঁচিয়ে দেন রিভারকে।

এরপর অবশ্য আরমানির চেয়ে পালমেইরাস গোলকিপার ওয়েভারতনেরই ব্যস্ত সময় কেটেছে। ২৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে রিভারের পাওলো দিয়াজের শট কোনো রকমে আঙুল ছুঁইয়ে পোস্টের বাইরে বের করে দেন ওয়েভারতন। কিন্তু এর ফলে পাওয়া কর্নার থেকেই গোল করে রিভার। উরুগুইয়ান প্লেমেকার নিকোলাস দে লা ক্রুজের ক্রসে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান রিভারের প্যারাগুইয়ান সেন্টারব্যাক রোহাস।

default-image

বিরতির মিনিটখানেক আগে আসে রিভারের দ্বিতীয় গোল। ডান দিক থেকে দে লা ক্রুজের ক্রসে হেড করে এবার গোল কলম্বিয়ান বোরের। দ্বিতীয়ার্ধে দে লা ক্রুজ দুবার গোলের খুব কাছে গিয়েছিলেন। এরপরই মঞ্চে ভিএআরের আগমন। ৫২ মিনিটে রিভারের ফাব্রিসিও আঞ্জিলেরির পাস ধরে বল জালে জড়ান আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে খেলা রিভারের রাইটব্যাক গনসালো মন্তিয়েল। কিন্তু ভিএআরে লম্বা সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত আসে, গোলের পথে আক্রমণের সময় রিভারের বোরে ইঞ্চি ব্যবধানে অফসাইড ছিলেন। সংবাদ সংস্থা এএফপি অবশ্য লিখেছে, সিদ্ধান্তটা ‘বিতর্কিত।’

বিজ্ঞাপন

এরপর পরতে পরতে নাটক। রিভারের মন্তিয়েলের শট পালমেইরাসের লুয়ানের গায়ে লেগে পালমেইরাসেরই জালে ঢোকার মুহূর্তে দারুণভাবে বাঁচিয়ে দেন দলটার গোলকিপার ওয়েভারতন। এরপর ৭৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন রিভারের রোহাস। এএফপির বর্ণনায় লাল কার্ডটি ‘নিষ্ঠুর’ সিদ্ধান্ত ছিল।

তার কিছুক্ষণ পর আবার ভিএআর বাঁচিয়ে দেয় পালমেইরাসকে। ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির আলান এমপেরোউর রিভারের মাতিয়াস সুয়ারেজকে বক্সে ফেলে দেন, মাঠের রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু ভিএআরে আবার সিদ্ধান্ত আসে, পেনাল্টি হয়নি।

এরপর আবার নাটক। কর্নার থেকে রিভারের এনজো পেরেজের হেড ফিরিয়ে দেন ওয়েভারতন, সেখান থেকে বোরের শট লাগে পালমেইরাসের পোস্টে, এরপর বল আবার যায় পেরেজের কাছে। তাঁর শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে পালমেইরাসকে বাঁচিয়ে দেন মাতিয়াস ভিনা। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে নাটকে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় যোগ করা সময় দাঁড়ায় ১৩ মিনিট। তাতে শেষ মুহূর্তে রিভারের একটি পেনাল্টির দাবি ভিএআরে লম্বা সময় ধরে পরীক্ষার পর বাতিল হয়।

এত কিছুর পর শেষ পর্যন্ত যে ফাইনালে উঠেছে, এ-ই তো স্বস্তি পালমেইরাস ও ব্রাজিল ফুটবলের ভক্তদের!

মন্তব্য করুন