গোলের পর উল্লাস নেইমারের।
গোলের পর উল্লাস নেইমারের।ছবি: এএফপি

এই লাইপজিগই ফিরতি লেগে কিছুদিন আগে পিএসজিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বসেছিল। সে ম্যাচে ছিলেন না নেইমার-এমবাপ্পের কেউই। ম্যাচ হারের ফলে গতবারের ফাইনালিস্টরা এবার প্রথম রাউন্ড পেরোতে পারবেন কি না, শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল।

আপাতত নেইমারের ঘাড়ে চড়ে সে শঙ্কা একটু হলেও দূর হয়েছে। নেইমারের গোলে লাইপজিগকে গত রাতে ১-০ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। ফলে, দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার আশাটা এখনো বেঁচে আছে তাদের। হেরে বসলে গত রাতেই চ্যাম্পিয়নস লিগকে বিদায় বলে দিতেন নেইমাররা।

তবে গোলটার জন্য সতীর্থ আর্জেন্টাইন উইঙ্গার আনহেল দি মারিয়াকে একটা ধন্যবাদ দিতেই পারেন নেইমার। দি মারিয়াই যে নেইমারকে পেনাল্টিটা এনে দিয়েছিলেন! ম্যাচের ১১ মিনিটে সে পেনাল্টি থেকেই দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন নেইমার।

বিজ্ঞাপন

চ্যাম্পিয়নস লিগে পাঁচ ম্যাচ পর গোল পেলেন নেইমার। চ্যাম্পিয়নস লিগে ৬৩ ম্যাচ খেলে ৩৬ গোল করা হয়ে গেল নেইমারের। গোলে সহায়তা করেছেন ২৭ বার।

default-image

৩৬ গোলের সর্বশেষটা আপাতত কোচ টমাস টুখেলের চিন্তা কমাল। ম্যাচ হারলে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে পিএসজির বিদায় মোটামুটি নিশ্চিত তো হতোই, উল্টো চাকরি নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যেত দলটার জার্মান কোচ টমাস টুখেলের। সে হিসেবে কোচের চাকরিটাও এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দিয়েছেন এই ব্রাজিল তারকা।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে দক্ষিণ আমেরিকান খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসি ও সের্হিও আগুয়েরোর পেছনেই নেইমার।

পিএসজি জিতলেও তারা যে খুব ভালো খেলেছে, বলা যাবে না। নেইমারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। গোল পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু খেলা দেখে ঠিক নেইমারসুলভ মনে হয়নি।

ম্যাচে নেইমার সফল পাস দিয়েছেন মাত্র ২২ বার, পাসে সফলতার হার মাত্র ৬৬.৭ শতাংশ। ড্রিবল করেছেন সাতবার, গোটা ম্যাচে সুযোগ সৃষ্টি করেছেন তিনটি।

দল হিসেবে পিএসজির পাস সফলতার হার ছিল মাত্র ৭৫ শতাংশ, বল দখলের লড়াইয়েও পিছিয়ে ছিল তারা। ওদিকে লাইপজিগ ৬২ শতাংশ সময় বল পায়ে রেখেও জয় বের করতে পারেনি। আর সেখানেই বাজিমাত করেছেন নেইমার।

default-image

তবে যে পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করেছেন, সেটা নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে। অনেকের মতেই, পেনাল্টি পাওয়ার জন্য দি মারিয়া ডাইভ দিয়েছেন ইচ্ছা করে। আর এই দলে খোদ লাইপজিগের কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্কাই জার্মানিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রীতিমতো ফুঁসছিলেন এই জার্মান কোচ, ‘আমার মনে হয় না পিএসজি জেতার জন্য তেমন কিছু করেছে এই ম্যাচে, আর পেনাল্টিটা রীতিমতো হাস্যকর ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো মঞ্চে এমন বাজে সিদ্ধান্ত, আসলেই মন খারাপ করে দেয়। ওটা রীতিমতো ডাইভ ছিল। ওই খেলোয়াড়ের (দি মারিয়া) গায়ে কেউ স্পর্শ করেনি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি খুব সম্ভবত অন্য ম্যাচ দেখছিলেন, আমাদেরটা না।’

ওদিকে একই গ্রুপের আরেক ম্যাচে ইস্তাম্বুল বাশাকশেহিরকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। জোড়া গোল করেছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বাকি দুই গোল মার্কাস রাশফোর্ড ও ড্যানিয়েল জেমসের।

পিএসজি, লাইপজিগ—দুই দলেরই ৬ পয়েন্ট, তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে পিএসজি।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন