ভাষার প্রতি মানবপ্রেমের সঙ্গে ফুটবলকে মেলানো কঠিন। মায়ের ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করতে পারার ইচ্ছা অবশ্যই ফুটবলসহ যেকোনো কিছুর চেয়ে বড়। তবু দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাঁর প্রতি তোপ দাগাতে আবদুল হাকিম আর নেইমার যেন মিলে গেলেন একই বিন্দুতে!

কীভাবে?

একটু ব্যাখ্যা করা যাক। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্রাজিলিয়ানকে দেখা গেছে, যাঁরা দলগত রেষারেষি আর জাতীয়তাবোধের ঊর্ধ্বে উঠে চাইছেন আর্জেন্টিনার ঝুলিতে যেন শিরোপা শোভা পায়।

গত সপ্তাহেও টিওয়াইসি স্পোর্তসের এক ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক ব্রাজিলিয়ান রাস্তায় নেমেছেন শুধু মেসির প্রতি গলা ফাটাতে, মেসির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন তাঁরা। অনেকের শরীরে শোভা পেয়েছে মেসি ছবি আঁকা ট্যাটু। যেহেতু মেসির ক্যারিয়ারে এই একটাই অপ্রাপ্তি, তাই মেসিভক্ত অনেক ব্রাজিলিয়ানই চাইছেন, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তিনি যেন দেশের হয়ে কিছু একটা জেতেন। তাঁরা মনে করেন, মেসি অন্তত একটি শিরোপা জিতলে তাঁর প্রতি সুবিচার হবে।

তাতে নিজ দেশের এসব সমর্থকদের ওপরেই চটেছেন নেইমার। ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকা বুঝে উঠতে পারছেন না, কীভাবে মানুষ নিজের দেশকে সমর্থন করা বাদ দিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হয়ে গলা ফাটাতে পারে!

পিএসজি ফরোয়ার্ড তাই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সেসব সমর্থকদের প্রতি গালমন্দ করেছেন নেইমার।

ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে নেইমার বলেছেন, ‘আমি একজন গর্বিত ব্রাজিলিয়ান। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি আমার মনে অনেক ভালোবাসা কাজ করে। ব্রাজিলের হয়ে খেলব, ব্রাজিলের সমর্থকেরা আমার নামে গান গাইবেন, সমর্থন জানাবেন—এটা আমার আজীবনের স্বপ্ন। ব্রাজিল যখনই কোনো খেলায় অংশ নেয়, কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, সেটা যেকোনো খেলাই হোক না কেন বা মডেলিং প্রতিযোগিতা বা অস্কারে অংশ নিলেও আমি ব্রাজিলকেই সমর্থন করব। যেকোনো পরিস্থিতিতে।’

এরপরই নেইমারের কণ্ঠে ঝরে পড়েছে ক্ষোভ, ‘কিন্তু যদি কোনো ব্রাজিলীয় থাকে, যারা ব্রাজিল একটা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সত্ত্বেও অন্য কাউকে সমর্থন করে? সম্মানের সঙ্গে বলব, দূরে গিয়ে মরুন।’

ইনস্টাগ্রামে এই ক্ষোভের ছিটেফোটাও যদি মাঠে নেইমারের খেলায় দেখা যায়, আর্জেন্টিনার কপালে দুঃখই আছে!