default-image

লিওনেল মেসি যুগের আগে আর্জেন্টিনায় কোনো প্রতিভাবান ফুটবলারের দেখা পাওয়া গেলেই তাঁর তুলনা করা হতো ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে। এরপর মেসি বিখ্যাত হয়ে উঠলে প্রতিভাবান পাওয়া মানেই তিনি ভবিষ্যৎ মেসি। আর্জেন্টিনায় এবার এমন উদীয়মান এক ফরোয়ার্ড পাওয়া গেছে, যাঁকে তুলনা করা হচ্ছে ব্রাজিলের নেইমারের সঙ্গে। আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া সেই ‘নেইমার’কে পাওয়ার লড়াইয়ে এরই মধ্যে নেমেছে বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা।

১৮ বছর বয়সী সেই ফুটবলারের নাম এজেকিয়েল জেবায়োস। খেলছেন আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ক্লাব বোকা জুনিয়র্সে। তরুণ এই উইঙ্গারের পায়ের জাদুতে মজে গেছেন বোকা সমর্থকেরা। দুর্দান্ত গতির সঙ্গে তাঁর বলের ওপর নিয়ন্ত্রণে মুগ্ধ সবাই, যে ধরনের প্রতিভা সচরাচর দেখা যায় না। অনেকেই তাঁকে তুলনা করতে শুরু করেছেন ব্রাজিলের নেইমারের সঙ্গে। অবশ্য কিশোর বয়সে জেবায়োসকে ইন্টার মিলানে খেলা রদ্রিগো পালাসিওর সঙ্গে তুলনা করে বলা হতো ‘ছোট পালাসিও’।

বিজ্ঞাপন
default-image

আর্জেন্টিনার লা বান্দা শহরের সারমিয়েন্তো স্কুলে পড়াশোনার সময় ফুটবলে হাতেখড়ি জেবায়োসের। লা বান্দায় ফুটবল তুলনামূলক কম জনপ্রিয় হলেও সেখানে বেড়ে উঠেছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত উইঙ্গার রেনে হাউজম্যান। মাত্র ১১ বছর বয়সেই বোকার নজরে এসেছিলেন জেবায়োস। ২০১৩ সালে স্থানীয় একটি টুর্নামেন্টে খেলার সময় জেবায়োসে মুগ্ধ হন বোকা জুনিয়র্সের স্কাউট ডিয়েগো মাজিলির।

স্থায়ীভাবে বোকা জুনিয়র্সের মন জয় করতে জেবায়োস সময় নিয়েছেন মাত্র তিন বছর। ১৪ বছর বয়সে বুয়েনস এইরেসের কাসা আমারিয়া একাডেমিতে যোগ দেন। ক্লাবের হয়ে খেলেছিলেন অক্তাভা দিভিসিওনে (১৫ বছরের কম বয়সীদের লিগ)। সেখানে ১৫ গোল করার সুবাদে ডাক পেয়ে যান আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৫ দলে। দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পথে ৫ গোল করে জেবায়োস হন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও।

হাতের কাছে পেয়ে এমন রত্নকে হারাতে চায়-ইবা কোন ক্লাব! ২০১৮ সালেই মাত্র ১৬ বছর বয়সের জেবায়োসের সঙ্গে পেশাদারি চুক্তিতে আবদ্ধ হয় বোকা। এতে ক্লাবের ইতিহাসে হয়ে যান সবচেয়ে কম বয়সী পেশাদারি চুক্তির খেলোয়াড়।

২০১৯ সালেই মূল সিনিয়র দলের অনুশীলনে ডেকে পাঠানো হয় তাঁকে। ২০২০ সালের নভেম্বরে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে বোকার জার্সিতে স্বপ্নের অভিষেক। ম্যাচটা বিশেষ কিছুই বোকার জন্য। সেটি ছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর বোকার প্রথম ম্যাচ। এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচ খেলে কোনো গোল না করলেও জেবায়োস ছড়াচ্ছেন মুগ্ধতা। কিছুদিন আগেই বোকায় খেলে যাওয়া ইতালির বিশ্বকাপজয়ী তারকা ড্যানিয়েল রসি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, ‘এই বাচ্চা ছেলেটা, জেবায়োস, অন্যদের চেয়ে অনেক উঁচু মানের খেলোয়াড়।’ রসি তাঁকে ‘ছোট বানর’ নামেও ডাকতেন।

স্প্যানিশ দুই জায়ান্ট রিয়াল ও বার্সেলোনার সঙ্গে তাঁকে পেতে আগ্রহ দেখিয়েছে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার সিটিও। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কোনো দলে যেতে পারেন কি না জেবায়োস। তার আগে অবশ্য বোকার হয়ে নিয়মিত মাঠে আলো ছড়াতে হবে।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন