বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিন্তু ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসব খেলোয়াড়কে না পেয়ে জাতীয় দলগুলোও পড়েছিল বিপাকে। সে কারণে তারাও বেশ খেপেছিল ইংলিশ ক্লাবগুলোর ওপর। ফিফার কাছে তারা তাই অনুরোধ করেছিল এই ক্লাবগুলোর ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের পাঁচ দিন যাতে মাঠে নামতে দেওয়া না হয়।

করোনাকালে ফিফাই এই নিয়ম রেখেছে। ফিফার ম্যাচের জন্য ক্লাবগুলো খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য। কিন্তু ক্লাব তা না করলে সে ক্ষেত্রে জাতীয় দলগুলো চাইলে ওই খেলোয়াড়ের ক্লাবের জার্সিতে খেলার ক্ষেত্রে পাঁচ দিনের ‘নিষেধাজ্ঞা’র আবেদন করতে পারে। ব্রাজিল তা-ই করেছিল।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খেলোয়াড়দের মাঠে নামালে পয়েন্ট কাটাসহ আরও অন্য শাস্তিও পেত ক্লাবগুলো। ব্রাজিলের দেখাদেখি পরে চিলি, মেক্সিকো ও প্যারাগুয়েও তাদের খেলোয়াড়দের ক্লাবের জার্সিতে খেলার ওপর একই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আবেদন করে ফিফার কাছে।

কিন্তু রয়টার্স জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফিফা, জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোর বৈঠকের পর খেলোয়াড়দের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

default-image

আগামী অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতির সময়ে আবার যাতে একই ঝামেলায় পড়তে না হয়, সেটা নিয়ে ফিফা, ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ মিলে যুক্তরাজ্যের সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে।

ব্রাজিলের খেলোয়াড়ই বেশি বলে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ব্রাজিলের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়াই বেশি জরুরি ছিল। সেটি পাওয়ায় হাঁপ ছেড়ে বাঁচছেন লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসির মতো ক্লাবের কোচরাও।

নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলে লিভারপুল এই সপ্তাহে ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার আলিসন, মিডফিল্ডার ফাবিনিও ও স্ট্রাইকার রবার্তো ফিরমিনোকে পেত না। ম্যানচেস্টার সিটি পেত না গোলকিপার এদেরসন, স্ট্রাইকার গাব্রিয়েল জেসুসকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাদের মিডফিল্ডার ফ্রেদ আর চেলসি সেন্টারব্যাক থিয়াগো সিলভাকে তো লিগের পর মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচেও পেত না। লিডস ইউনাইটেড পেত না উইঙ্গার রাফিনিয়াকে।

ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের পাবেন কি না, এ নিয়ে গতকাল বিকেল পর্যন্তও এই দলগুলোর কোচরা সংশয়ে ছিলেন। বিরক্তও ছিলেন ক্লাব বনাম জাতীয় দলের এই যুদ্ধ নিয়ে।

লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ কাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত ব্যাপারটা এমন যে অন্য লোকজন কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেটার দিকে আমাদের তাকিয়ে থাকতে হবে। হয়তো সেটা মেনেও নিতে হবে। তারা যা বলবে, তা-ই করতে হবে এবং এত কিছুর মধ্যেই ফুটবল ম্যাচ জেতার চেষ্টা করে যেতে হবে।’

default-image

১০ দিনের কোয়ারেন্টিনের নিয়মের কারণে কেন ক্লাবগুলো ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের ছাড়েনি, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ক্লপ, ‘(জাতীয় দলের হয়ে খেলা শেষে ইংল্যান্ডে) ফিরে আসার পর আমাদের খেলোয়াড়দের ১০ দিন কোনো একটা হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হতো, সম্ভবত বিমানবন্দরের কাছের কোনো হোটেলই হতো সেটা। ওই সব হোটেলে থাকা কারও জন্যই সুখবর নয়, আর একজন পেশাদার ফুটবলারের জন্য ও রকম একটা হোটেলে থাকা, হোটেল থেকে যে খাবার দেবে, সেটিই খাওয়া...সে ক্ষেত্রে (ফিটনেসের) পুরোটুকুই চলে যেত। পেশির জোর কমত, সবকিছুই কমত। এটার মানে দাঁড়াত, ১০ দিন হোটেলে কাটাত খেলোয়াড়েরা, এরপর ক্লাবে ফিরে আসার পর আরও ১০ দিন লাগত ওদের আবার ফিটনেস আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে।’

অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বিরতির ধকল তো আছেই, এরপর ২০-২২ দিনের মতো এই খেলোয়াড়দের পেত না ক্লাবগুলো!

কিন্তু এ নিয়ে জাতীয় দলগুলোর এভাবে ক্লাবের বিরুদ্ধে যাওয়া ম্যান ইউনাইটেড কোচ উলে গুনার সুলশারের চোখে ‘প্রহসন’। আর ম্যান সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা বললেন, ‘এসবের কোনো মানে হয় না।’

বিকেলে কোচদের এভাবে ক্ষোভ জানানোও ফিফার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে কি না, কে জানে!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন