২০১৬ সালে কন্তের অধীনেই ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল ইতালি। এরপর চেলসির দায়িত্ব নেন কন্তে। চেলসিকে জিতিয়েছেন প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপের শিরোপা। ইংল্যান্ডে কোচিং করানোর সুবাদে সেখানকার ফুটবলারদের সম্পর্কে ভালোই জানা আছে কন্তের। তাঁর অধীনে চেলসিতে খেলা অনেকেই খেলছেন বর্তমান ইংল্যান্ড দলে। স্বাভাবিকভাবে তাঁদের শক্তি ও দুর্বলতাগুলো ভালো জানা সাবেক ইন্টার মিলান কোচের। কন্তের হাত ধরেই ১১ বছর পর ইতালিয়ান লিগের শিরোপা জিতেছে ইন্টার।

কন্তে মনে করেন সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে যে পরীক্ষা দিয়ে এসেছে ইতালি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এর চেয়ে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে আজ্জুরিদের। গ্যাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তে লেখা কলামে কন্তে উল্লেখ করেছেন, ‘স্পেনের ভাবনায় থাকে পেছনে পাস দেবে। ইংল্যান্ড সব সময় ওয়ান টু ওয়ান আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করবে। ড্রিবলিং করবে, বল নিয়ে ভেতরে ঢুকবে ও ওভারলেপিংয়ে যাবে। আক্রমণভাগে শুধু (রাহিম) স্টার্লিং নয়, (বুকায়ো) সাকা, (ফিল) ফোডেন, (জাডোন) সাঞ্চো, (জ্যাক) গ্রিলিশও আছে।’

ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের বড় ভরসার নাম দলটির অধিনায়ক হ্যারি কেইন। কন্তে লিখেছেন, ‘কেইনের বল দখলে রাখা ও দলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের যোগ্যতার প্রশংসা অনেকেই করে। ডেনমার্কের বিপক্ষে যেভাবে সমতা ফিরিয়েছে, সেটাতেই তো দেখা গেছে। অবশ্যই সে এটিতে খুব দক্ষ। কিন্তু পেনাল্টি বক্সেই সে সবচেয়ে ভালো, একজন স্নাইপার। একজন কোচ হিসেবে তাঁকে সব সময় রাখব আমি, কারণ সে যেকোনো সময় ধ্বংস ডেকে আনতে পারে।’

ইংল্যান্ডের দুর্বল দিকটাও ভালো জানা কন্তের। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের পায়ে বল থাকা অবস্থায় চাপ দেওয়া হলে তারা ভেঙে পড়ে বলে মনে করেন কন্তে, ‘ইংল্যান্ডের একটি দুর্বল দিক আছে। নিচ থেকে তাদের রক্ষণভাগকে আক্রমণ গড়ার সময় চাপ দেওয়া হলে তারা স্পেনের মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারে না। যদি অতি আক্রমণাত্মক হয়ে চাপ দেওয়া যায়, তারা পিছিয়ে যায়।’

কন্তের চোখে যে বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে, নিশ্চয় তা মানচিনির নোটবুকেও আছে। সেটি না থাকলেও তো ক্ষতি নেই। কন্তের সহায়তা তো চাইলেই নিতে পারেন মানচিনি।