বিজ্ঞাপন

এখনো লিগের পাঁচ নম্বরে আছে ঠিকই লিভারপুল। আজকের জয়ের পর ৩৫ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট হলো তাদের। চারে থাকা চেলসির পয়েন্ট ৩৬ ম্যাচে ৬৪, তিনে থাকা লেস্টার সিটির ৩৬ ম্যাচে ৬৬। অর্থাৎ, ওয়েস্ট ব্রম, বার্নলি ও ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে লিগে নিজেদের বাকি ম্যাচ জিতলে লিভারপুলের পয়েন্ট হবে ৬৯।

লিভারপুলের সুবিধা হলো, লিগে চেলসি এর পরের ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে লেস্টারের। অর্থাৎ, চেলসি কিংবা লেস্টার - অন্তত কোনো একটা দলের লিগের বাকি দুই ম্যাচে জেতা হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে নিজেদের বাকি তিন ম্যাচ জিতলেই চেলসি কিংবা লেস্টারকে হটিয়ে লিগের সেরা চারে উঠে যাবে লিভারপুল, খেলবে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে। ৩৬ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে থাকা ইউনাইটেডের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা নিশ্চিত।

নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে নিয়ে নেওয়ার এই সমীকরণ নিয়ে আজ শুরু থেকেই ইউনাইটেডের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছে লিভারপুল। ওদিকে পাঁচ দিনের মধ্যে তৃতীয় ম্যাচ খেলতে হচ্ছিল ইউনাইটেডকে, রাশফোর্ড-ফার্নান্দেজদের পারফরম্যান্সে সেটির ছাপ কিছুটা হলেও ছিল।

default-image

এমন অবস্থায় অবশ্য ইউনাইটেডকে পড়তে হতো না, যদি ম্যাচটা নির্ধারিত দিনেই হতো। গত ২ মে ম্যাচটা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন ক্লাবের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ইউনাইটেড সমর্থকদের তীব্র প্রতিবাদের জেরে ম্যাচটা হতে পারেনি। পরে ম্যাচটা আজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

কী দারুণ এক ম্যাচই না হয়েছে! ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে লিভারপুলের গোলকিপার আলিসনের ভুলে প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিলেন ইউনাইটেড স্ট্রাইকার এদিনসন কাভানি। ১০ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের গোলে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। যদিও বল জালে যাওয়ার পথে লিভারপুলের ডিফেন্ডার ন্যাট ফিলিপসের পায়ে লেগে গেছে। এরপর লিভারপুল তেড়েফুঁড়ে উঠেছে, আর ন্যাট ফিলিপস যেন প্রথমার্ধজুড়ে ছিলেন ম্যাচের আলোচিত চরিত্র।

default-image

২৮ মিনিটে ইউনাইটেড বক্সের মধ্যে ফিলিপসকে কড়া ট্যাকল করেছেন ইউনাইটেড ডিফেন্ডার এরিক বাইয়ি, এমন ভেবে রেফারি পেনাল্টি দিয়েছিলেন লিভারপুলের পক্ষে। কিন্তু ভিএআর পরে সেটি বাতিল করে দেয়। ৩৪ মিনিটে লিভারপুলের সমতাসূচক গোলটা দিয়োগো জোতার নামে হলেও গোলটাতে ফিলিপসের কৃতিত্ব।

কর্নার থেকে বল ইউনাইটেড বক্সে এসে পড়লে ইউনাইটেডের পল পগবার কাছ থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেন ফিলিপস, এরপর দুই ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে শট নেন। তাঁর শট গোলের দিকে হয়তো যেত না, কিন্তু শটের গতিপথে দাঁড়ানো জোতা দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লিকে বল জালে জড়ান। এর আগ থেকেই ইউনাইটেড বক্সের সামনে দারুণ প্রেসিংয়ে ইউনাইটেডকে চেপে ধরা লিভারপুল এই গোলে যেন প্রাণ ফিরে পেল। ইউনাইটেডও নিচ থেকে খেলা গড়তে যাওয়ার মূল্য দিল।

বিরতির আগে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে রবার্তো ফিরমিনোর প্রথম ও লিভারপুলের দ্বিতীয় গোল। বক্সের ডানদিকে ফ্রি-কিক থেকে লিভারপুল রাইটব্যাক ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আরনল্ডের দারুণ ক্রসে হেড করে গোল ফিরমিনোর।

default-image

বিরতি থেকে ফিরে দ্বিতীয় মিনিটে আবার ফিরমিনোর উদ্‌যাপন। লিভারপুলের দারুণ প্রেসিংয়ের মুখে ইউনাইটেড লেফটব্যাক লুক শ বল হারান মাঝমাঠে, সেখান থেকে ট্রেন্টের শট প্রথমে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ইউনাইটেড গোলকিপার হেন্ডারসন। কিন্তু ফিরতি বল এসে পড়ে ফিরমিনোর পায়ে। গোল করতে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের কষ্ট খুব একটা হলো না।

৫৯ মিনিটে জোতার শট ইউনাইটেডের বার কাঁপিয়ে যায়। তার ৩ মিনিট পর ট্রেন্টের শট ফিরিয়ে দেন ইউনাইটেড গোলকিপার। তখন মনে হচ্ছিল, ম্যাচে বুঝি লিভারপুল হেসেখেলেই জিতে যাচ্ছে। কিন্তু ৬৩ মিনিটে মিডফিল্ডার ফ্রেডের বদলে ফরোয়ার্ড ম্যাসন গ্রিনউডকে নামিয়ে ম্যাচ বদলে দেন ইউনাইটেড কোচ উলে গুনার সুলশার। ৪-২-৩-১ ছক থেকে ইউনাইটেড হয়ে যায় ৪-৩-৩। মাঝমাঠে তখন পগবা-ফার্নান্দেজ, আক্রমণে রাশফোর্ড-কাভানির পাশে গ্রিনউড।

৬৮ মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেয় ইউনাইটেড। কাভানির দারুণ পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল মার্কাস রাশফোর্ডের। তিন মিনিট পর গ্রিনউডের পরপর দুটি শট ঠেকায় লিভারপুলের রক্ষণ, এর একটি গোললাইন থেকে।

default-image

দল ধুঁকছে দেখে ৭৪ মিনিটে লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও দেন পাশার দান। জোড়া বদলি করেছেন, যদিও সেটা মূলত ছক একই রেখে খেলোয়াড়ের বদল। মাঝমাঠে ভাইনালডামের বদলে কার্টিস জোনস, আর আক্রমণে জোতার বদলে সাদিও মানে। এক মিনিট পরই গোলের দারুণ সুযোগ পান মানে, কিন্তু ইউনাইটেড গোলকিপার হেন্ডারসনকে কাটাতে পারেননি বলে গোল হয়নি।

ইউনাইটেড তখনো ম্যাচে, দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে উঠেছে ম্যাচ। কিন্তু ইউনাইটেড আক্রমণে উঠতে গিয়ে রক্ষণ খালি রাখার মূল্য দিয়েছে ৯০ মিনিটে। পাল্টা আক্রমণে উঠে মোহামেদ সালাহর দারুণ গোলে জয় নিয়ে সব সংশয় মুছে দেয় লিভারপুল। আজকের ম্যাচটা আবার ছিল লিভারপুলের জার্সিতে সালাহর ২০০তম!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন