বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ফিলিওর কাছে বড় আবেগের নাম রোনালদো ও ম্যানচেস্টার। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের সহকারী ছিলেন। মূলত খেলোয়াড় তৈরির দায়িত্ব ছিল ফিলিওর কাঁধে। রোনালদোকে তৈরি করেননি, কিন্তু রোনালদোর ম্যানচেস্টার মিশন শুরু হয়েছে ফিলিওর হাত দিয়ে। যে সাতজনের আলোচনার টেবিলে চূড়ান্ত হয়েছিল রোনালদো-ইউনাইটেড চুক্তি, সেখানে অনুবাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন ফিলিও। বাকি ছয়জন রোনালদোর মা, বোন নাজা, এজেন্ট জর্জ মেন্দেস ও তাঁর এক সহকারী, কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন এবং ক্লাবের পরিচালক পিটার কেনিওন।

২০০৯ সালে রোনালদো ও ম্যানচেস্টারের পথ আলাদা হয়ে যায়। তত দিনে ম্যানচেস্টার ছেড়েছেন ফিলিও। তবে কাল যখন রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে ফিরছিলেন, তার আগে স্মৃতির সাগরে ডুব দিলেন ফিলিও। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন, ‘রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরে আসার পর ক্লাবের অনেকেই আমাকে বলেছে, এটা আমাদের জন্য খুব ভালো হলো। সে ফিরে এসে নতুন গল্প লিখতে যাচ্ছে। আমি বলব, এখনো ২৬ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের মতো সে। ক্লাবে সুলশারকে পাবে। রোনালদোকে খুব ভালোভাবে চেনে বলে খুব ভালো ব্যবহার করতে পারবে।’

default-image

ফিলিওর কথা সত্য হতে সময় লাগল মাত্র ঘণ্টাখানেক। ১২ বছর পর ম্যানচেস্টারে দ্বিতীয় অভিষেকে রোনালদো গোল করেছেন, দুই গোলে দলকে ৪-১ ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছেন। সর্বোপরি তাঁর দ্বিতীয় অভিষেকটা হলো রাজকীয়। ম্যাচ শেষে রোনালদোর ব্যক্তিগত ঝলক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুরুতে ‘গুড’ শব্দটা ব্যবহার করলেন তিনবার। এর বলে গেলেন, ‘রোনালদো বুঝিয়ে দিল ইউনাইটেডের জার্সিতে তার গল্প এখনো শেষ হয়নি। এখনো অনেক গল্প লেখা বাকি আছে। আজ যা করেছে, এটা তা প্রমাণের জন্যই যথেষ্ট।’

ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের একাডেমিতে থিয়েরি অরি, এরিক কান্টোনা, জঁ-পিয়ের পাপাঁর মতো খেলোয়াড়দের উত্থানে ভূমিকা রেখেছেন এই ব্রাজিলিয়ান। পরে ২০০২ সালের আগস্ট থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ম্যানচেস্টারের বিভিন্ন পর্যায়ে কোচ হিসেবে কাজ করেছেন ফিলিও। যুব দলের কোচ হিসেবে শুরু। তিন মাসের মধ্যেই বনে যান ফার্গুসনের সহকারী। যদিও সেটি বেশি দিনের জন্য নয়। তবে পরবর্তী সময়ে পর্তুগিজ ভাষা জানার সুবিধার্থে রোনালদোর আগমনে আবার মূল দলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল ফিলিওকে। সকালের অনুশীলনে ফার্গুসনের সহকারী আর বিকেলে যুব দল সামলানোর দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। ফার্গুসনের ইংরেজি কথাগুলো রোনালদোর কানে পর্তুগিজ ভাষা হয়ে পৌঁছাত ফিলিওর সুবাদে।

default-image

ম্যানচেস্টারের জার্সিতে বোল্টনের বিপক্ষে রোনালদোর অভিষেকটা এখনো মনে গেঁথে আছে ফিলিওর। অনেক বছর আগে ফিরে গিয়ে বলছিলেন, ‘স্যার অ্যালেক্স আমাকে বললেন রোনালদোকে তৈরি করে দিতে। মাঠে নেমে ওর ভূমিকা কী হবে, সেটি আমাকে বুঝিয়ে দিলেন। আমি সেভাবেই তাঁকে বুঝিয়ে দিলাম। প্রথম ম্যাচেই সে বুঝিয়ে দিয়েছিল সে অন্য কিছুর।’

ইউনাইটেডে রোনালদোদের সঙ্গে সময়টা ভালোই যাচ্ছিল ফিলিওর। বাদ সাধল ছোট মেয়ের প্রতি ভালোবাসার টান। মায়ের সঙ্গে দুই বছরের মেয়ে থাকত ফ্রান্সে। মেয়ের দাবি, বাবাকে তার সঙ্গেই থাকতে হবে। অগত্যা ইংল্যান্ডের চাকরি ছেড়ে চলে যেতে হলো প্যারিসে পরিবারের কাছে। সেই প্যারিসে বসেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে রোনালদোকে ফেরার মুহূর্তটা উপভোগ করেছেন ফিলিও।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন