default-image

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

অনেক আশা নিয়ে রোনালদোকে ফিরিয়েছে ইউনাইটেড। অনেক আশা নিয়ে ফিরেছেন রোনালদো নিজেও। কিন্তু প্রত্যাবর্তনটা ঠিক পছন্দের চিত্রনাট্য অনুযায়ী এগোচ্ছে না। উলে গুনার সুলশারের অধীনে অধিকাংশ ম্যাচেই অখুশি ঠেকেছে রোনালদোকে। এদিকে সপ্তাহের শুরুতেই চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন ভারপ্রাপ্ত কোচ মাইকেল ক্যারিক। সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল তো বলেই ফেলেছেন, আসলে সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন রাংনিক নিজেই। রাংনিকের দলে সবাইকে রক্ষণে সাহায্য করতে হয়। ক্যারিয়ারের মধ্যগগণেই কাজটা করতেন না রোনালদো। আর এখন তো ৩৬ পেরিয়ে গেছেন। রক্ষণে সাহায্য করে আক্রমণে ওঠা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। প্রিমিয়ার লিগে প্রেসিংয়ে (প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা) সবার শেষে আছেন রোনালদো।

ক্যারিক যদিও দাবি করেছেন, রোনালদো রক্ষণে সাহায্য করেন না—এটা মিথ্যাচার। আর গোল করে রোনালদো যে দলকে নিয়মিত সাহায্য করছেন, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন ক্যারিক। ইউনাইটেডের জার্সিতে এ মৌসুমে ১৫ ম্যাচে ১০ গোল করেছেন রোনালদো। তাই তাঁকে শুধু রক্ষণে সাহায্য না করার যুক্তিতে বাদ দেওয়াটা কঠিন হবে রাংনিকের জন্য। কিন্তু জার্মান কোচের নীতি মেনে রক্ষণে সাহায্য করার সত্যিকারের চেষ্টা দেখাতে না পারলে তাঁকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার আগে দুবার ভাববেন না রাংনিক। ভুলে গেলে চলবে না, ৬ বছর আগেই রোনালদোকে ‘বুড়ো’ বলেছিলেন রাংনিক!

অর্থাৎ রাংনিক যোগ দেওয়ায় ক্ষতি রোনালদোর।

default-image

জ্যাডন সাঞ্চো

দুই বছরের চেষ্টায় সাঞ্চোোকে পেয়েছে ইউনাইটেড। কিন্তু এত অর্থ খরচ করে নেওয়া তারকা দলে কোনো অবদানই রাখতে পারছিলেন না। সুলশার বিদায় নিতেই দুই ম্যাচে দুই গোল করেছেন সাঞ্চো! রাংনিক দলের দায়িত্ব পাবেন, এ গুঞ্জন শুনেই হয়তো চনমনে হয়ে উঠেছেন এই উইঙ্গার। ধারণা করা হয়, সুলশারের দল নিয়ে বা প্রতিপক্ষ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ধারণা থাকত না। সব সময় কৌশলের দিক থেকে নিখুঁত—এমন কোচের অধীনে খেলা সাঞ্চো তাই ইউনাইটেডে এসে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। কিন্তু রাংনিকের অন্তত সে সমস্যা নেই। বুন্দেসলিগায় সাঞ্চোর দুর্দান্ত পায়ের কাজ স্বচক্ষে দেখে আসা রাংনিকও জানেন কীভাবে ইংলিশ উইঙ্গারের সেরাটা বের করে আনা যায়। সাঞ্চো দ্রুতগতির, পায়ের কাজ জানেন, তরুণ এবং প্রতিপক্ষকে প্রেস করতেও আগ্রহী। ফলে রাংনিকের সবগুলো মানদণ্ডেই টিক চিহ্ন পাচ্ছেন সাঞ্চোো। রাংনিকের অধীনে সাঞ্চোই হতে পারেন ইউনাইটেডে মূল তারকা।

অর্থাৎ রাংনিক যোগ দেওয়ায় লাভ সাঞ্চোর।

default-image

ডনি ফন ডি বিক

রিয়াল মাদ্রিদে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু করোনায় বিপর্যস্ত মাদ্রিদের পক্ষে তাঁকে কেনা সম্ভব হয়নি। আয়াক্স ছেড়ে তাই ইউনাইটেডে গেছেন ডি বিক। গত দেড় বছরে এই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য ভয়ংকর এক ভুল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের ইউরো দলে ডাক পাননি। এই মৌসুমেও তাঁর ভাগ্য ফেরেনি। ৪-২-৩-১ ফরমেশনে সুযোগই পাচ্ছিলেন না ডি বিক। ‘ফলস নাইন’ হিসেবে খেলতে স্বচ্ছন্দ এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার রাংনিকের পছন্দের ৪-৪-২ বা ৪-২-২-২ এর সঙ্গে ভালোই মানিয়ে নিতে পারবেন। টেন হাগের অধীনে প্রেস করতেও যে স্বচ্ছন্দ ছিলেন ডি বিক।

অর্থাৎ রাংনিক যোগ দেওয়ায় লাভ ডি বিকের।

default-image

অ্যারন ওয়ান-বিসাকা

রাংনিক দায়িত্ব পাওয়ায় মূল সমস্যা হওয়ার কথা ছিল লুক শর। গত বছরই ইউনাইটেডের কী দরকার এ ব্যাপারে রাংনিক বলেছিলেন, ‘ওদের আরেকটা লেফটব্যাক দরকার। আমি জানি ওদের লুক শ আছে কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যে মানের খেলোয়াড় দরকার, সে সেই মানের কি না আমি নিশ্চিত না।’ ২০২০–২১ মৌসুমে রাংনিককে ভুল প্রমাণ করে দারুণ খেলেছেন লুক শ। কিন্তু ইউরোর পরই আবার ফর্মে পতন হয়েছে তাঁর। কিন্তু রাংনিক আক্রমণাত্মক ফুলব্যাক পছন্দ করেন, আর এ গুণটা অন্তত কিছুদিন তাঁকে সময় দেবে।

যে সময়টা না–ও পেতে পারেন ওয়ান-বিসাকা। রক্ষণের দিক থেকে বেশ ভালো এই ফুলব্যাক। ওয়ান-টু-ওয়ানে অন্যতম সেরা। কিন্তু আক্রমণে আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে যান না ইংলিশ ডিফেন্ডার। সে তুলনায় দলে থাকা অন্য রাইটব্যাক দিয়োগো দালোতের আক্রমণের ক্ষমতা বেশি।

অর্থাৎ রাংনিক যোগ দেওয়ায় ক্ষতি ওয়ান-বিসাকার।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন